করোনাকে জয় করে স্কুল খুলেছে অস্ট্রেলিয়ায়
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে আমি থাকি। এখানে গত ২৪ ঘন্টায় ৬ হাজারের বেশি লোককে টেস্ট করেও নতুন কোন করোনা রোগী পাওয়া যায়নি। এটি কিন্তু এই করোনা মৌসুমে এই রাজ্যের প্রথম ঘটনা।
এই জয় কিভাবে এসেছে জানেন? সবাই ঘরে থেকে। অপরিণামদর্শী যারা ঘর থেকে বেরিয়েছে তাদের এই যুদ্ধ জয়ের কোন পথ নেই। বাংলাদেশে যারা এখন ঈদ শপিং বেরিয়েছে তাদেরকে হাতজোড় করে ঘরে ঢোকান। এদের ঘর লকডাউন করুন।
করোনা জয়ে অস্ট্রেলিয়ার আনন্দের কারন আমার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে জনসংখ্যার বেশি। তাই এখানে ভয় ছিল বেশি। করোনা রোগী, মৃত্যুর ঘটনা অন্য রাজ্যের চেয়ে বেশি এ রাজ্যে। সিডনি এই রাজ্যের রাজধানী। অপেরা হাউস এখানেই।
গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় ৬ হাজার ৯২৭ জন করোনা রোগী পাওয়া গিয়েছিল। এরমধ্যে ৬ হাজার ৩৫ জন সুস্থ হয়ে গেছেন। মারা গেছেন ৯৭ জন। আক্রান্তের তুলনায় কম মৃত্যুর ঘটনা বিশ্বকে জানান দিয়েছে এ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা তুলনামূলক সুসংগঠিত।
এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় ৮ লাখ ৫৫ হাজার ১১৯ জনের করোনা টেস্ট করানো হয়েছে। আড়াই কোটি মানুষের দেশের টেস্টের এই হারটা বিশ্বে সর্বোচ্চ। করোনা নিয়ন্ত্রনে আসায় সোমবার থেকে অস্ট্রেলিয়ার নানাকিছু শর্ত সাপেক্ষে খুলে দেয়া হয়েছে।
নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এতদিন অনলাইনে ক্লাস করেছে। এই সপ্তাহ থেকে ছাত্রছাত্রীরা সপ্তাহে একদিন করে স্কুলে যেতে শুরু করেছে। তবে এক ক্লাসের সব ছাত্র একই দিনে স্কুলে যাবেনা।
রোল নাম্বার ধরে বিভিন্ন ছাত্র স্কুলে যাবে সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে। স্কুলে ঢুকতেই সব ছাত্রছাত্রীদের দেয়া হচ্ছে হ্যান্ড সেনিটাইজার। ক্লাসরূম-টয়লেটসব একাধিকবার জীবানুমুক্ত পরিচ্ছন্ন করার জন্যে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
এই সময়ে স্কুলের এসেম্বলি, খেলাধুলার ক্লাস, স্কুলের বাইরের এসকারশন ট্যুর হবেনা। এতে করে ছাত্রছাত্রীদের ক্লোজড কন্টাক্ট থেকে রক্ষার চেষ্টা করা যাবে।
নিউ সাউথ ওয়েলসে সোমবার থেকে রেষ্টুরেন্ট খুলেছে। কিন্তু একটি রেষ্টুরেন্টে একসঙ্গে দশজনের বেশি গ্রাহককে ঢুকতে দেয়া যাবেনা। এমন নানাকিছু খুলেছে শর্তসাপেক্ষে। বার-নাইট ক্লাব-জিম এসব এখনই খুলছেনা।
মসজিদ-গির্জা এসব এখনও তালাবদ্ধ। তাই এই রোজায় মসজিদে নামাজ-তারাবি-জুম্মা এখনও বন্ধ। নতুন রোগী পাওয়া কঠিন হলেও এদেশে শর্ত সাপেক্ষ কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান খোলার কারন এখনও এই মহামারীর কোন ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি।
ভিক্টরোরিয়া রাজ্যে এখনও রোগী পাওয়া যাওয়ায় দোকানপাট এখনও কিছু খোলা হয়নি। তবে স্কুল খুলে দেয়া হয়েছে। কারন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মাধ্যমে রোগটি সংক্রমনের কোন প্রমান এখনও কারো হাতে নেই।
আবার সাউথ অস্ট্রেলিয়া রাজ্যে অনেকদিন ধরে কোন রোগী পাওয়া না যাওয়ায় সে রাজ্যে সামাজিক দূরত্বের কড়াকড়িও তুলে নেয়া হয়েছে। তবে এদেশে এখনও এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে যাওয়া নিষিদ্ধ।
এই করোনায় অবশ্য কখনোই অস্ট্রেলিয়ায় রাজ্যের ভিতরে চলাচলের বাস-ট্রেন কখনোই বন্ধ করা হয়নি। প্রথম থেকে সুপার মার্কেট, সেলুন এসবও খোলা। তবে এসব ব্যবহার নিয়ে এখনও চালু আছে চরম কড়াকড়ি।
সবাই সামাজিক দূরত্ব নিজস্ব নিরাপত্তা মেনে চলে বলে অস্ট্রেলিয়ায় মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়। তবে পথেঘাটে মাস্ক ছাড়া লোকজন খুব কম দেখা যাবে। জনসংখ্যার তুলনায় এখানে বাস-ট্রেনের বিস্তর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আছে।
সিংহভাগ লোকের নিজস্ব গাড়ি থাকায় বাস-ট্রেনের ওপর বরাবর এদেশে চাপ কম। মূলত বয়স্ক লোকজনই লোকাল বাসের যাত্রী। এসব বাস পাড়া ঘুরে ঘুরে তাদের জন্যে অপেক্ষমান এসব বয়স্ক যাত্রী খুঁজে।
করোনা বাড়ার পর থেকে বয়স্ক লোকজনকে বাড়ির বাইরে বেরুনো নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় তারা অনলাইন সার্ভিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় আবার এই মহামারীতে সরকার যখন যে ঘোষনা দিয়েছে সবাই তা মেনে চলেছেন।
অথবা মেনে চলতে বাধ্য হয়েছেন। কারন জরিমানার হার এদেশে ছড়া। সোশ্যাল ডিসটেন্স না মানলে ১৬৫২ ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মানুষ আবার জরিমানাকে খুব ভয় পায়।
কারন ১৬৩২ ডলার আয় করা কত কষ্টের তা এদেশের সব মানুষ। সিংহভাগ মানুষ দুই সপ্তাহ কাজ করে এত টাকা পাননা। এমন একেকটি জরিমানা একেকজনের পারিবারিক বাজেট ওলটপালট করে দেয়।
অস্ট্রেলিয়ায় তাই আমি মজা করে বলি, এখানে রাষ্ট্র সারাদিন আমাদের পিছনে বেত নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এই বেতটির নাম জরিমানা। আইনানুগ একটি দেশে থাকতে থাকতে বাংলাদেশের নানাকিছু দেখেও এখন ভয় করে।
কারন মহামারীর সময়টা এমন এ সময়ে নিজে নিজেকে বাঁচাতে হয়। সরকার বা কেউ কাউকে বাঁচাতে পারেনা। বাংলাদেশের লোভী কিছু মহিলা এই ভয়াল সময়ে ছোট ছোট বাচ্চাদের কোলে নিয়ে যেভাবে ঈদ শপিংএ যাচ্ছেন তা দেখে এদের শুধু অসুস্থ বললে কম বলা হবে।
এরা লোভী, অপরিনামদর্শী। দেখতে মানুষের মতো দেখা গেলেও এরা মানুষরূপী অমানুষ। মানুষ যদি হতো যদি তাদের মধ্যে মানুষের গুনাবলী থাকতো, তাহলে ঈদ শপিং এ না গিয়ে এই টাকা তারা এখন ত্রানের কাজে খরচ করতো।
যাদের মধ্যে মানুষের গুনাবলী আছে তারা কিন্তু এখন ঈদ শপিং এ না গিয়ে সে টাকায় ত্রানের কাজ করছে। এভাবে তারা বিপন্ন করছে নিজেদের ঈদ। তাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যত।
হয়তো ঈদের আগেই এই লোভের জন্যে তারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে। পালিয়ে যাবে তাদের স্বামী-স্বজনরা। আপনার পরিচিত যে যেখানে আছেন, তাদের প্লিজ হাত ধরে বলুন সে যেন এখন এভাবে ঈদ শপিং’এ না যায়।
এবার যাতে কেউ ঈদে বাড়ি না যায়। বেঁচে থাকলে অনেক ঈদে শপিং করতে পারবে। অনেক ঈদে বাড়ি যেতে পারবে। কেউ যাতে মনে না করে এটিই তাদের জীবনের শেষ ঈদ।
জীবিকার জন্যে বাধ্য হয়ে যারা ঘর থেকে বেরুচ্ছেন তাদের ঝুঁকি এক রকম। আর যারা ঈদ শপিং এ যাচ্ছেন তারা সবার জন্যে ঝুঁকিপূর্ন লোভী। আপনি যাতে এমন কোন লোভীর স্বজন না হন।
অনেকে এখন মানুষ পাঠাওতে চড়ে অনিরাপদ অবস্থায় এখন ঢাকা চলে আসছেন! এমন মোটরবাইকে চড়ে এরা সংক্রমনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে! এতে করে এসব পাঠাও চালক-যাত্রী কেউ কিন্তু বাঁচবেননা। প্লিজ।
রাস্তায় বসে যে মহিলা ডিম বিক্রি করে তারও এর চাইতে নিরাপদ পেশা আছে। এই মহামারীর সময়ে এমন যারা মরার শপথ নিয়েছে তাদের কেউ বাঁচাতে রক্ষা করতে পারবেনা।
Related Articles
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি কি সুদ মুক্ত সমাজ চান?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি আপনি সংসদে দাঁড়িয়ে বেশ কিছু গুরুতপূর্ণ কথা বলেছেন। দৈনিক আমাদের সময় বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ড. মোহাম্মদ
আমাদের দেশটা
যদিও জানি আমাদের দেশটাতে হাজারও রকম অসুবিধা আছে কিন্তু যেমনই হোক না কেন তবুও তার সৌন্দর্য্য অপরিসীম! হোক না সমস্যায়
Some Challenges to Future Bangladesh: Economic and Political Perspectives
INTRODUCTION Bangladesh has a population density of about 949 people per square kilometer whereas in Australia, the population density is


