সংবাদ সম্মেলনে টেস্ট ক্যাপ্টেন মুশফিকুর রহিম
ফজলুল বারী, ওয়েলিংটন থেকে
অনেকদিন পর সংবাদ সম্মেলনে এলেন বাংলাদেশের টেস্ট ক্যাপ্টেন মুশফিকুর রহিম। কারন বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে, ট-টোয়িন্টি দলের মিডিয়া ব্রিফিং মাশরাফি বিন মুর্তজাই সামলান। দলের টেস্ট খেলা কম হয় বলে মুশফিকেরও মিডিয়া ব্রিফিং’এ আসা কম হয়। নিউজিল্যান্ডে সফরে ক্রাইস্টচার্চের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে চোটে আক্রান্ত হয়ে দল থেকে ছিটকে পড়েন মুশফিক। তাকে ছাড়াই নেলসনের দুটি ওয়ানডে, নেপিয়ার-মাউন্ট মাঙ্গানুইর তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ফিরে যায় পুরনোকালের হারের বৃত্তে। পরপর ছ’টি ম্যাচে হেরে ধবল ধোলাইর শিকার বিধবস্ত টিম টাইগার্সদের দেখে সবাই অনুভব করেছেন মুশফিকের অভাব। সেই মুশফিক ফিরে এসেছেন মাঠে এবং মিডিয়ার সামনে।
মঙ্গলবার ওয়েলিংটনের মিডিয়া ব্রিফিং রূমে পৌঁছে সবাইকে সালাম দিয়ে ডায়াসে বসতে বসতে খুশি খুশি মুশি বললেন, আল্লাহর রহমতে আমি এখন শারীরিকভাবে ভালো আছি। রিকভারী খুব ভালো হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে একশভাগ রিকভারীর কথা বলা কঠিন। কারন এমন পরিস্থিতিতে কারেন্ট ইনজুরি আসারও সুযোগ থাকে। তবে আমি এখন অনেক ভালো অনুভব করছি। সেভাবেই দলের জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছি।
মুশফিককে প্রশ্ন করা হয়, দেশে ইংল্যান্ড দলের বিরুদ্ধে যে সাফল্য পেয়েছেন, এই বিদেশ সফরে তার স্মৃতি কী কোন প্রভাব ফেলবে? মুশফিক বলেন ইংল্যান্ডের মতো দলকে টেস্টে হারানো অবশ্যই যে কোন দলের জন্যে একটি বড় অনুপ্রেরনা। কারন কোন একটি দল যখন ২০ উইকেট নিতে পারে, তখন তার মধ্যে বিশেষ সন্তুষ্টি আত্মবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়। তবে নিউজিল্যান্ডে আমাদের সফরটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারন আমরা অনেক দিন পর বিদেশে খেলতে এসেছি। এখানকার কন্ডিশন, উইকেট দুটোই আমাদের জন্যে ভিন্ন। এখানে এরা সিম বোলিং বান্ধব উইকেট বানায়। যেমন আমাদের দেশে আমরা বানাই স্পিনিং বান্ধব উইকেট। আমাদের ঙ্কোয়াডে যে চারজন পেস বোলার আছেন, সৌম্যকে নিয়ে পাঁচজন, তাদেরকে অবশ্যই এখানে আক্রমনাত্বক খেলতে হবে। আমার বিশ্বাস আমাদের স্কোয়াডে যে সিম বোলাররা আছেন তাদের ২০ উইকেট নেবার ভালো ক্ষমতা আছে। তা শুধু নিউজিল্যান্ড না বিশ্বমানের যে কোন ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে। তারা যদি তাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারেন তাহলে আমাদেরও এখানে অনেক সুযোগ আছে।
বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক কিছু পারফরমেন্সে দেখা গেছে অভিষিক্ত খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে অনেক কিছু হয়ে যায়, অনেক সাফল্য চলে আসে। এবার তেমন কোন ঘটনা ঘটবে কিনা জানতে চাইলে মুশফিক বলেন, এমন কারো কারো ক্ষেত্রে হয়। মিরাজ যেমন করেছে। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে এমন নাও হতে পারে। আবার অনেকের সাধারন কাজকর্মই অনেক ক্ষেত্রে অসাধারন হয়ে দাঁড়ায়। পেস বোলারদের ক্ষেত্রে আমাদের ম্যাসেজ একটাই, তাহলো অনেকে মনে করে এটি বাউন্সি উইকেট। আবার এই কন্ডিশনেও পেস বোলারদের ক্ষেত্রে এসব উইকেটে অনেকগুলো অপশন থাকে। এক্ষেত্রে আমাদের করনীয় হবে সব সময় লাইন ল্যান্থ বুঝে ভালো জায়গায় বল করতে হবে।
মুশফিক বললেন দলের পেস বোলারদের বার্তা দেয়া হয়েছে তারা যদি সব সময় লাইন-ল্যান্থ বজায় রেখে একটা জায়গায় বল করতে থাকে তাহলে তা যে কোন বিশ্বখ্যাত ব্যাটসম্যানদের জন্যেও সে সব বল খেলা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আর যে কোন ব্যাটসম্যানে আউটকে আউট করতে একটা বলই যথেষ্ট। বোলারদেরও এক্ষেত্রে কঠিন কাজগুলো করতে হবে। আবার বল করলেই উইকেট পড়ে যাবে এমন ভাবলে হবেনা। কারন এই পরিবেশে তাদের সুবিধাটাই বেশি। আমাদের এখানে অনেক কঠিন কাজ করতে হবে। এখানে আমাদের জন্য অনেক কঠিন কাজ অপেক্ষা করছে। এটিই টেস্ট ক্রিকেটের মজা। আমরা পাঁচদিন ধরে অনেক কষ্ট করে বোলিং করবো ব্যাটিং করবো। এভাবে একটি ফলাফল নিজের জন্যে নিয়ে আসবো। ইনশাল্লাহ।
Related Articles
রোহিঙ্গা সমাচার
৪৭ এর শেষ বিভাগ এক কারন। যতটুকু জানি ৪৭ এ রহিংগাদের ব্যপক একটা অংশ তদানিন্তন পাকিস্তানের পক্ষে ছিলো, বেশ কিছু
China eyes huge investment in Bangladesh
Many nations define themselves in terms of territory or people; China defines itself in terms of history. It looks to
Bikrampur International Airport
প্রসঙ্গ পদ্মাসেতুঃ জাতিয় উন্নায়নের বাধার রাজনীতি কখনো কল্লান কর নয় । বিক্রমপুরের বুঁক চিরে দক্ষিন পষিচমাঞ্চলের উন্নায়নের দ্বার খুলে দেবে


