হারমোনি ডে
গেল সপ্তাহে আমার পুত্র কন্যার স্কুলে ব্যাপক আগ্রহ আর উদ্দীপনা নিয়ে পালিত হল হারমোনি ডে। এই বিশেষ দিনটিতে বিভিন্ন জাতী গোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা তাদের নিজস্ব পোশাক পরে নেচে গেয়ে স্বীয় সংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি অন্যের ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় বরণ করে নেয়। সবাইকে সংযুক্ত করে নিজ নিজ কৃষ্টি আর ঐতিহ্য সমুন্নত রেখেই বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষঠা করাই এই দিবসের মৃল লক্ষ্যে্। মিশ্র সংস্কৃতির এই দেশে এই ধরনের আয়োজন সম্প্রীতি আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেমের মানসিকতা সৃষ্টি করে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে ভিন্ন মতাবলম্বীদের উপর আক্রমণ আর হামলার যে ঘটনাগুলি ঘটছে তাতে এ জাতীয় ধারনার চর্চা সেখানে বেশি বেশি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে হয়। আমার ছেলেবেলায় আমি জেনে এসেছিলাম লাল পিপড়া হল হিন্দু আর কালো পিপড়া হচ্ছে মুসলমান। লাল পিপড়া কামড়ে দেয় বলেই হিন্দুদের মত তারাও নিশ্চিতভাবেই শত্রুদের কাতারে থাকবে। কি ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনা শিশু কিশোরদের মনোজগতে ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা।

৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্ম ও বর্নের মানুষের সমন্বিত সংগ্রাম আমাদের বিজয় নিশ্চিত করেছিল।কিন্তু পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী সামরিক সরকার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাম্প্রদায়িকতার চর্চা চালাতে থাকে। স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র সাড়ে চার বছরের মাথায় পাকিস্তানী ভাবধারায় বিশ্বাসী প্রশাসন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করে। যার ফলশ্রুতিতে অনেককে প্রিয় মাতৃভূমির মায়া ছেড়ে দেশান্তরী হতে দেখা যায়।মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত একটি দেশে এমন পরিস্থিতিল উদ্ভব প্রত্যাশিত ছিল না।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ইদানীং পরমতসহিষ্ণুতার অভাব ব্যাপক ভাবে লক্ষনীয়।আই এস তাদের ভ্রান্ত মতবাদ বিশ্বব্যাপী প্রচার করতে গিয়ে সমগ্র দুনিয়াকে অশান্ত আর বিপজ্জনক করে তুলছে।সংখ্যাগুরুর প্রতিনিধি হয়ে সংখ্যালঘুর অধিকার আর মতামতকে সমপূর্ণ অবজ্ঞা ও অবহেলা করার প্রচেষ্টা বিদ্যমান। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক সহ বেশ কিছু দেশের নির্বাচনে উগ্র, সাম্প্রদায়িক, বর্নবাদী, আর প্রতিক্রিয়াশীলদের বিজয় বিশ্ব মানবতার অশনি সংকেত বলে মনে হয়।
তবে আশার কথা হচ্ছে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সংগঠিত হয়েছে। জঙ্গিবাদ দমনে জাতীয় ঐক্যমত প্রতিষঠিত হয়েছে এবং তাদের কোনঠাসা করার প্রয়াস চলছে। কানাডা আর জার্মানিতে মানবতাবাদী গনমূখী দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে মুক্তির জয়গান গাইছে।

আমাদের সবার গায়ের রং, ধর্ম, বর্ন এক না হলেও প্রত্যেকের রক্তের রং কিন্তু লাল। এক উৎস থেকে এসে জীবন শেষে আমরা সবাই একই গন্তব্যে ফিরে যাব। প্রখ্যাত বাউল সাধক শাহ আবদুল করিম এক সময় আক্ষেপ করে বলেছিলেন ” আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম”। আমি নিশ্চিত একদিন অবস্থার পরিবর্তন হয়ে আগের সুন্দর সোনালি দিন ফিরে আসবে।

বিশ্বখ্যাত কবি লেখক কাহলিল জিবরান ভাষায় বলতে চাই “It is night now but the day shall dawn” এখন অন্ধকার হতে পারে কিন্তু আলোর দেখা মিলবে শীঘ্রই। সেই আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে আমাদের প্রতিটি দিন হয়ে উঠুক এক একটি হারমোনি ডে।
Kazi Ashfaq Rahman
ছেলেবেলা থেকেই শান্তশিষ্ট ছিলাম বলে আমার মায়ের কাছে শুনেছি। দুষ্টুমি করার জন্য যে বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন তা নিশ্চয়ই আমার ছিল না। আমার এই নিবুর্দ্ধিতা একসময় আমার মাকে ভাবিয়ে তুলেছিল। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন আমার এই ছেলে জীবনে চলবে কি করে। এখন যেভাবে চলছি তাতে কোনও আক্ষেপ নেই। ভালই তো আছি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত শিক্ষা, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যে অনন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারাকে জীবনের বড় অর্জন বলে মনে করি। আমার স্ত্রী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী, আমার শত বোকামী, আলসেমী আর বৈষয়িক না হওয়াকে প্রকারান্তরে প্রশ্রয় দেওয়াতে আমার আর মানুষ হয়ে ওঠা হয়নি। আমার দুই সন্তান, আমি চাই তারা আমার মত বোকাই থেকে যাক কিন্তু আলোকিত মানবিক মানুষ হোক যা আমি হয়তো হতে পারিনি।
Related Articles
বিদেশে জুতো পালিশের চাকরি
ফজলুল বারী: আবু হাসান শাহরিয়ার দেশের একজন স্বনামখ্যাত কবি, লেখক, সাংবাদিক। আশির দশকে বাংলাদেশে যে ক’জন উজ্জ্বল তরুন কবি নিজস্ব
Bangladeshi Scholars Invented Unified Scripts to Write All the Languages of the World
Two Bangladeshi scholars, Prof. Bijon B Sarma and Dr Mira R Sarma-Parai, have jointly invented Sarma’s Unified Script (SUS) –
Natun Aloy Alokito Bangladesh Chai
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী: নতুন আলোয় আলোকিত বাংলাদেশ চাই ৯/১১-র ঘূর্ণিঝড় এবং ১/১১ সুনামি আর ২৯শে ডিসেম্বরের নির্বাচন আমাদেরকে যে নতুন আলো


