শুধু একটা জয়!

শুধু একটা জয়!

ফজলুল বারী, মাউন্ট মাঙ্গানুই থেকে

দরকার শুধু একটা জয়। চাই একটা জিয়ন কাঠির ছোঁয়া। তা কি সম্ভব শুক্রবার? কেন নয়? কারন এই একটা জয়ই বদলে দিতে পারে সবকিছু। তাতেই কিন্তু ঘুরে দাঁড়াবে টিম টাইগার্স। আরও অনেক কিছু মিলবে জয়টা পেলে। দলের একের পর এক হারে হতাশ ক্রিকেট পাগল দেশবাসী যে রেগেমেগে আছেন তারা ইনশাল্লাহ-মাশাল্লাহ-শুকরিয়া-লাভ ইউ বাংলাদেশ বলে আবার ফিরে আসবেন টিভি সেটের সামনে। যারা খেলাগুলো বাংলাদেশে দেখাচ্ছেন তাদেরও এক রকম মাথায় হাত! টিআরপি শুধুই নিম্নমূখী! এরপরও সবাই জানেন শুধু একটি জয়ই এসব পরিবেশ-পরিস্থিতি আমূল বদলে দিতে পারে।উল্টো তখন শুরু হয়ে যাবে রনধবনি, উর্ধগগনে বাজেমাদল–!

নিউজিল্যান্ড সফরের টি-টোয়ান্টি সিরিজের সমতায় ফেরা অথবা সিরিজ হারানোর ম্যাচ বাংলাদেশের সামনে। শুক্রবার এই পর্বটি শেষ হবে এখানকার মাউন্ট মাঙ্গানুইর বে ওভাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। কিউই ক্যাপ্টেন কেন উইলিয়ামসনের বাড়ি এখানে। তার বাবা মা এখানকার তারঙ্গাতেই থাকেন। কিউই দলের আরও একাধিক সদস্যের বাড়িও এখানে। এটি তাদের হোম গ্রাউন্ড। অথচ সেই মাউন্ট মাঙ্গানুইর বে ওভাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই তাদের চোখ রাঙ্গাচ্ছে বাংলাদেশ দল। একের পর এক সুযোগ হারিয়ে লেজেগোবরে হয়ে হেরে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বাংলাদেশ দলের। এতে করে নানা কথা-সমালোচনা-দুয়োধবনি শুনতে শুনতে তেতে আছেন খেলোয়াড়রা। তাদের জন্যে ডু অর ডাই ম্যাচটি শুক্রবার। একটি জয় চাই। শুধু একটি জয়। পারবেতো বাংলাদেশ? উল্টো প্রশ্ন আসে পারবেনা কেনো?

এখন দেখা যাক দলের কী অবস্থা তারঙ্গা-মাউন্ট মাঙ্গানুইতে। বৃহস্পতিবার সারাদিন রোদ হেসেছে বে ওভাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। এরমাঝে থেমে থেমে বাতাসও চলেছে। প্রশান্ত মহাসাগরে বাতাস বইলে এর বে শহরটিতে তা আছড়ে পড়বেইনা কেনো। এমন এক  রোদেলা বাতাস দিনের সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাংলাদেশ দল অনুশীলন করেছে বে ওভাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। নেটে প্র্যাকটিসের সময় ব্যাট ভেঙ্গে যায় উইকেট কিপার প্লাস ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহানের। কিন্তু অনুশীলনে মুস্তাফিজ একটা বলও ছোঁড়েননি! নেটের কাছে এলেও প্রায় সারাক্ষন মাঠে শুয়ে বসে কাটিয়েছেন মুস্তাফিজ। ফিজিও’ও তার বেশ পরিচর্যা করেন।

টি-টোয়েন্টি ম্যাচে যাদের ওপর বেশি ভরসা সেই মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, রুবেল হোসেন এরা লম্বা সময় ধরে অনুশীলন করেছে মাঠে-নেটে। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের সিনিয়র ক্রিকেট রিপোর্টার হেরাল্ড এসেছিলেন বাংলাদেশের নেট অনুশীলনের সময়। মুস্তাফিজের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা ছিল তার। মুস্তাফিজ ইংরেজিতে যুতসই না বললে সাকিবের অপেক্ষা করতে থাকেন। বাংলা ট্রিবিউনকে ডেভিড বলেন বে ওভালের মাঠে সাকিব হয়ে উঠতে পারেন বিশেষ একজন। কারন এ মাঠে পেস বোলারদের চাইতে কখনো কখনো স্পিনাররাই হয়ে ওঠেন বিশেষ ভয়ংকর। সাকিব কী জানেন?

বৃহস্পতিবারের অনুশীলনে সাকিবের নেটে মনোযোগ ছিল মূলত ব্যাটিং’এ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিশ্ব তারকা সাকিব নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কের মাঠে সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি। সেই ক্ষেদ কী পোড়াচ্ছে সাকিবকে? তাই যদি সত্যি হয় দলের জন্যে ভালো। একা সাকিব ব্যাট-বলে একটি জয় নির্মানে অনেক কিছু করতে পারেন। তামিম-ইমরুল-সাব্বির কার ব্যাট জ্বলে উঠবে শুক্রবার? এই তিন জনের দু’জনও যদি ঝলসে ওঠেন, বাংলাদেশকে কে আটকায়? টি-টোয়েন্টকে বলা হয় ব্যাটসম্যানদের খেলা। মাউন্ট মাঙ্গানুই’এর পিচটিকে স্লো উইকেট বলা হয়। বাংলাদেশের উইকেটগুলোও অনেকটা ধীরগতির উইকেট হিসাবে পরিচিত।  সেজন্যে এখানে বড় সংগ্রহের জন্যে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের রয়েসয়ে খেলে বড় রানের ভিত্তি গড়া দরকার। তাহলেই জয় সম্ভব বাংলাদেশের। এর সব জানেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়ররাও। জিততে হলে জ্বলে ওঠতে হবে।

তারঙ্গাবাসী প্রবাসী বাংলাদেশিরা খেলা দেখার নানা প্রস্তুতি সাজাচ্ছেন। স্বল্প জনসংখ্যার দেশ নিউজিল্যান্ডের নেলসনে কোন প্রবাসী বাংলাদেশি বাসিন্দা পাওয়া যায়নি। ক্রাইস্টচার্চ-নেপিয়ারেও বাংলাদেশি সংখ্যায় সামান্য। তারঙ্গার প্রবাসী বাংলাদেশীরা সংখ্যায় স্বল্প হলেও দেশের প্রতি ভালোবাসায় নিচ্ছেন নানা প্রস্তুতি। দলকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রবাসীদের অনেকে দল বেঁধে বুধবার টিম হোটেলেও যান। নির্ধারিত সময়ের বেশ পরে এসেছে টিম বাস। এরপরও অপেক্ষমান প্রবাসীরা ফুল হাতে বরন করেন দেশের খেলোয়াড়দের। কিন্তু খেলোয়াড়দের একটি আচরনে তারা অবাক!

তেমন একজন সিনিয়র প্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ আবুল বলেন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির সঙ্গে দেখা হলেও বাংলাদেশি শুনলে আমাদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন, ছবি তোলেন। কিন্তু বাংলাদেশি একজন খেলোয়াড়ও আমাদের সঙ্গে হাই-হ্যালো করলেননা! জিজ্ঞেস করলেননা আপনারা কেমন আছেন। টিম বাংলাদেশের সদস্যদের আচরন-ম্যানার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা এই ভদ্রলোক। খেলোয়াড়রা দীর্ঘ বাস ভ্রমনে পরিশ্রান্ত ছিলেন হয়তো বলে তাকে শান্ত করতে হয়। এই প্রবাসীরাও কিন্তু জাতীয় পতাকা হাতে শুক্রবার খেলার মাঠে যাবেন। তারা চান দলের জয়। জনাব আবুল বললেন দল জিতলে বিদেশে আমাদেরও মুখ বড় হয়।


Place your ads here!

Related Articles

Islamic State in Iraq and Syria grossly misrepresents peaceful Islam

The so-called Islamic State misrepresents grossly the tenets of Islam as revealed in the Holy Qu’ran. Islamic preaches love, peace,

NINFA’s celebration and some thoughts on Bangladesh

2017 International Day of World’s Indigenous Peoples by Nepal in Australia and some thoughts on Bangladesh On 12 August 2017,

World Water Day Bangladesh

March 22 is the World Water Day. In February 1993, the UN General Assembly designated March 22 of each year

No comments

Write a comment
No Comments Yet! You can be first to comment this post!

Write a Comment