ধলেশ্বরী-২
আমাদের ছোট নদী
চলে বাকে বাকে
বৈশাখ মাসে তার
হাটু জল থাকে…………
আমর ছেলেটা যখন এদেশটা আসলো তখন সবে হাটা শিখেছে। ওর মা প্রায়ই বলে ছেলেটা নাকি প্লেনের মঝেই হাটাটা রপ্ত করেছে। দেশ থেকে যখন ওদের প্লেন যাত্রা শুরু করে তখন নাকি ও ধরে ধরে সবে মাত্র চলতে পারে। ৮/১০ ঘন্টা প্লেনের মাঝে এ সিট আর ও সিটের হাতল ধরেই নাকি ওর হাটার সাচ্ছন্দতার শুরু। আগস্ট সেপ্টম্বরের শীতের সকালে ওকে স্টলারের মধ্য বসিয়ে যখন বেবি সিটারের বাসায় যেতাম, রাস্তায় আমরা বাপ ছেলে এই ছড়াটা বলতাম। আমি বলতাম – আমাদের ছোট নদী, ও বলতো – চলে বাকে বাকে , আমি বলতাম- বৈশাখ মাসে তার, ও বলতো – হাটু জল থাকে। এমনি করেই প্রতিদিন সকালে ঐ অল্প পথটুকু আমাদের শেষ হতো। সেই ছেলেটা দেখতে দেখতে যেনো বড় হযে গেলো। ও এখন স্কুলে যায়। এবার year 3 তে উঠলো। মাঝে মধ্য এটা সেটা award ও পায়। কোন কোন বিশেষ দিন ওর ক্লাস এ যেতে হয়। সেদিন ঘুম থেকে উঠেই বলছে – বাবা আজ আমার এসেম্বলি হবে, তুমি স্কুলে এসো। কাজ ছিলোনা, ভাবলাম যাই, দেখি কি হয়। বিশাল হল রুমটাতে স্কুলের সব বাচ্চারা লাইন ধরে এসে সারিবধ্য হয়ে দাড়ালো। Teacher ঘোষনা দিলেন – জাতীয় সংগীত হবে। সবাই দাড়ালো, তাকায় থাকলাম, দেখলাম- আমার ছেলেও দাড়ালো, বুকে হাত রখলো তারপর শুরু করলো………….
Australia all let us rejoice for we are young and free
With golden soil and wealth by toil our home is girt by see………..
আমার মাথা কেন যেন উচু থাকতে চায়না। চোখ চলে যায় মাটির দিকে। ও কি কোন দিন জানবে-
আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি- এই গান ওর বাবার অন্তরে, হৃদয়ে, চেতনায়, রক্তে কি আলোড়ন তুলতো? একেই কি বলে- একটা স্বপ্নের মৃতু্ ? নাকি একটা চেতনার পরিসমাপ্তি?
মাকসুদ আলম
Related Articles
পরবাসে মায়ের ঘ্রাণ
সিডনি সিটির একটা পাঁচতারা হোটেলে চাকরি করি। হোটেলের চারদিকে স্বচ্ছ কাচের জানালা। উত্তর দিকে দেখা যায় পার্ক হায়াত, হারবার ব্রিজ,
Tumake Dilam
তোমাকে দিলাম | হারুন রশীদ আজাদ | স্বাগতম বসন্ত ২০১১ সকাল থেকেই পার্বতি গুন গুনিয়ে গাইতে ছিল “”আজি এবসন্তে কত
প্রবাসে বসন্ত
এখানে বসন্ত শুরু হয় September, October. একটানা কনকনে শীতের হিমেল হাওয়ার পর আকষ্মিক বসন্তের আগমন যেন সবাইকে এক পরম স্বস্তির


