গুলশান হামলা পরিকল্পনায় নিজামীর প্রবাসী ছেলেও জড়িত!
গুলশান হামলা : জামায়াতের শীর্ষ আইনজীবীসহ ‘শনাক্ত’ ৩
কাগজ অনলাইন প্রতিবেদক: গুলশানের আর্টিসান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। পরিকল্পনায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতপন্থী শীর্ষ একজন আইনজীবীসহ তিনজন। এই আইনজীবী জামায়াতের যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সকল মামলার ডিফেন্স টিমের প্রধান ছিলেন।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল পর্যায়ের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। উপযুক্ত সময়ে আরো যাচাই-বাছাই করে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ১ জুলাই গুলশানের আর্টিসান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২২ জন নিহত হয়েছেন। সেদিন সেনাবাহিনীর অভিযানে ৬ হামলাকারী জঙ্গিও নিহত হয়। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটস (আইএস) হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করলেও বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে দাবি করছে সরকার। বাংলাদেশের পুলিশ বলছে, জেএমবি ও সমমনা দেশীয় জঙ্গি দলগুলোই এই হামলা করেছে।
গুলশান হামলার পরিকল্পনাকারীর বিষয়ে গোয়েন্দার দায়িত্বশীল ওই কর্মকর্তা জানান, গুলশান হামলার পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা হিসেবে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাসেম আলীর ছোট ভাই, জামায়াতপন্থী একজন আইনজীবী ও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর এক ছেলের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। হামলার আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রে একটি বৈঠক করেছিলেন।
এমনকি গুলশান হামলার পরেও আমেরিকার ম্যানহাটনের বেঞ্জামিন হোটেলে একটি গোপন বৈঠক করেছিলেন বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে। বৈঠকে এই তিনজন ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের জামায়াতপন্থী একটি সংগঠনের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। গোপন বৈঠকটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, বাংলাদেশের গোয়েন্দা ও গুলশান হামলার তদন্তকারী দলকে নিশ্চিত করেছে।
হামলার কারণ জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মীর কাসেম আলীর রায় কার্যকর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই এই জঙ্গি হামলা চালানো হয়েছে। তারা জঙ্গি হামলার জন্য বাংলাদেশে যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
মীর কাসেম আলী তার ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আগামী ২৪ আগস্ট তার রিভিউ আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
এদিকে গুলশান হামলার ঘটনায় জামায়াতের আইনজীবী ও নেতাদের জড়িত থাকার বিষয়ে সোমবার বিকেলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি।’
তবে রোববার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় দোষীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে সব তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে। ওই ঘটনায় মদদদাতা, পৃষ্ঠপোষক এবং অর্থের যোগানদাতা- সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। তাদের গ্রেফতার সময়ের ব্যাপার মাত্র।’
তদন্তে জামায়াত ছাড়াও জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি), হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি-বি) এবং হিজবুত তাহরীরকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছে তদন্তকারী দল।
এদিকে সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বর্ধিত সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রাজধানীর গুলশানে ইতালিয়ান নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে সর্বশেষ গুলশানের হলি আর্টিসান ও শোলাকিয়া হামলা জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। এ ষড়যন্ত্রকারীদের ‘নীলনকশা’ সরকারের কাছে এসে গেছে।
Details at http://www.bhorerkagoj.net/online/2016/07/27/260040.php
Related Articles
Sedition case against Mujahid, Kader, Hannan hits a snag Police refuse to register FIR; individual cannot file sedition case, says Mainul
The Tejgaon police on Thursday refused to register the first information report of the sedition case against Ali Ahsan Mujahid
Bangladeshi Musa conquers Everest
Anxious wait for official confirmation on first-ever feat of a Bangladeshi Musa Ibrahim has scaled Mount Everest as the first
‘কোকো কাহিনি’র তৃতীয় পাঠ
মিজানুর রহমান খান – ‘কোকো কাহিনি’ নিয়ে এর আগে দুটি লেখা ছাপা হয়েছে। হাসান ফেরদৌসের পরে গতকাল মাহবুব উদ্দীন খোকন


