দূরে থেকেও কাছে – পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ বর্ষপূর্তি উৎসব: নিরুপমা রহমান
এ বছর টা ভারী অন্যরকম । পৃথিবী অসুখে পড়েছে !! কোথাও কারো মনে নেই আনন্দ, নেই স্বস্তি কিন্তু যারা নান্দনিক সৃষ্টিশীল মানুষ , তাঁরা থেমে থাকেন না, তাঁদের সৃষ্টিশীলতাও থেমে থাকেনা। বরং অস্থির সময়ে এই সকল নান্দনিক সৃষ্টিশীল কাজ সাধারণ মানুষকে আশার আলো দেখায়, মনোবল যোগায় , সুদিনের আশ্বাস জাগায়। এই করোনা কালীন সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাই যখন একমাত্র উপায় ভালো থাকবার , তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের ‘মিলিবে আর মিলাবে’র সুযোগ করে দিচ্ছে, খুলে দিচ্ছে সংযোগের নতুন মাত্রা। আমাদের মনের আগল গলে নান্দনিক সৃষ্টিশীলতার শুদ্ধ চর্চা কে পৌঁছে দিচ্ছে এই বদ্ধ বন্দী জীবনে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নান্দনিক সৃষ্টিশীল শুদ্ধ চর্চার এক দুর্দান্ত প্ল্যাটফর্ম পেন্সিল। ২০১৬ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙ্গালীদের বাংলাভাষা, বাংলা সংস্কৃতি তথা বাঙ্গালীয়ানা চর্চার এক অবিসংবাদিত প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া। এই করোনা কালেও তার ব্যাত্যয় ঘটেনি। সেই পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া আজ সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখ চার বছর পূর্ণ করলো। অতিমারীর এই দুঃসময়ে বরাবরের মত মিলন মেলার আয়োজন হয়তো সম্ভবপর হয়নি, কিন্তু নান্দনিক সৃষ্টিশীল শুদ্ধ চর্চার উদযাপন তো বন্ধ থাকতে পারেনা। পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার সংগঠকেরাও তাই থেমে থাকেন নি। ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুত্রে অস্ট্রেলিয়ার গণ্ডী ছাড়িয়ে সারা বিশ্বের বাংলা সংস্কৃতিপ্রেমীদের ঘরে আজ পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার জন্মদিনের দিনব্যাপী উৎসব আয়োজন পৌঁছে গেছে। সৃজনশীল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে প্রাণবন্ত এই আয়োজনগুলির সার্বিক পরিকল্পনা আর তত্ত্বাবধানে ছিলেন পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার সাকিনা আক্তার ও জয় কবির।

এবারের জন্মদিনের উদযাপন শুরু হয়েছিলো একেবারে অন্যরকম বিশেষ এক আয়োজনের মাধ্যমে। চতুর্থ জন্মদিন কে কেন্দ্র করে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার সমস্ত সদস্যদের কাছে ৪ সংখ্যাটিকে বিষয় করে স্থির চিত্র আহবান করা হয়েছিল। এই আহবানে অভূতপূর্ব সাড়া দিয়ে সেপ্টেম্বরের ১ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত সাতদিনে ২৪২ টি স্থির আলোকচিত্র জমা পড়ে। এই সমস্ত স্থির আলোকচিত্র নিয়ে ১২ তারিখ জন্মদিনের দিন অনলাইন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। নিঃসন্দেহে এ এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

১২ তারিখ সারাদিনব্যাপী প্রানবন্ত জন্মদিনের উদযাপনে ছিল আরও নানান আয়োজন। অর্পিতা সোমের নির্দেশনা আর পরিচালনায় নানান ধরনের মনোমুগ্ধকর নাচের আয়োজনে অংশ নিয়েছেন পারশী, নীড়, সামারা, মেঘা, হেনা, তিশা। নির্দেশনা আর পরিচালনার পাশাপাশি অর্পিতা সোম নিজেও তাঁর নৃত্য পরিবেশনায় মুগ্ধ করেছেন সকল কে। লুতফা খালেদ আর অনামিকা ধর নানান আমেজের গান দিয়ে জয় করেছেন শ্রোতাদের হৃদয় । তবলা সঙ্গতে ছিলেন সুবীর গুহ। নাচগানের পাশাপাশি জমে উঠেছিলো কবিতা পাঠের আসর। আবৃত্তি শিল্পী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তাম্মী পারভেজ, মাসুদ পারভেজ, অনামিকা ধর আর জেরীন আফরিন। এছাড়া শ্রোতা প্রিয় নানান গান দিয়ে একক গানের ডালি সাজিয়ে এসেছিলেন জিয়াউল ইসলাম তমাল।

জন্মদিনের এই আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রথিতযশা শিল্পী সিরাজুস সালেকীনের একক সঙ্গীত সন্ধ্যা। নাফিসা আসিফ স্বাগতার সুদক্ষ সঞ্চালনায় গান আর গানের গল্প নিয়ে গুণী শিল্পীর এই পরিবেশনা শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা গান তথা শুদ্ধ সঙ্গীতের প্রচার আর প্রসারে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার অঙ্গীকার আবারও প্রমাণিত হল।

আজ পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার জন্মদিনের দিনব্যাপী উৎসব আয়োজনের আনন্দময় সব মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করেছেন অক্লান্ত পরিশ্রমে তুমন আহসান, নাঈম আব্দুল্লাহ, বিপুল রায়, সরকার কবিরুদ্দিন।




এই সমস্ত কিছুর পরেও আজকের আয়োজনের সবচেয়ে বড় অংশীদার ছিলেন পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার সদস্যরা। যারা আজ সারাদিন পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার ফেসবুক পেজে তাদের শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়েছেন তাদের সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে। পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার পরিবারের সদস্যদের অফুরান ভালোবাসা আর গভীর সম্পৃক্ততাই গত চারবছরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার আগামীর চলার পথ আরও সৃষ্টিশীল কর্মময়তায় ভরে উঠুক।
Related Articles
Rock up to the Rockdale Bangla Festival
Event Program 12pm DocumentaryMovie on Bangladesh’s history, people, places, culturesOikotan musical groupPerformances (children choirs, local performers) Official Program 3pm WelcomeAustralian
Official acknowledgement of community volunteering
It is with great excitement that I inform you the official acknowledgement by the NSW Government of the community volunteering
বাংলাদেশ খ্রীষ্টান ফেলোশীপ অব অষ্ট্রেলিয়া: আমরা শোকাহত
স্ট্যানলী অসীম কোড়ায়াজন্ম: ২৯শে সেপ্টেম্বার ১৯৬৫ মৃত্যু: ২২শে এপ্রিল ২০১০মৃত্যু কারো কাম্য নয়। তারপরেও অনাকাংখিত এই ভয়াল মৃত্যু মানুষকে গ্রাস


