ক্যানবেরায় বাংলাদেশিদের মহান বিজয় দিবস উদযাপন
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার
ক্যানবেরায় স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মহান বিজয় দিবস উদ্্যাপন
করোনা ভাইরাস জনিত মহামারির জন্য যথাযথ স্বাস্থ্য বিধি মেনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আজ ক্যানবেরায় যথাযথ মযার্দা ও আনন্দ—উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদ্্যাপন করা হয়।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সন্ধ্যায় ক্যানবেরা কলেজের পারফর্মিং আর্ট সেন্টারে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠানে শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন।

হাইকমিশনার সুফিউর রহমান তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করা ও নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি বিন¤্র চিত্তে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে যেসকল বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রত্যক্ষ ভূমিকা ও অন্যান্য যারা পরোক্ষ অবদান রেখেছেন তাদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে সকলকে ‘স্বাধীনতার চেতনায়’ ঐক্যবদ্ধ করেছেন তা ধরে রেখে যার যার অবস্থান থেকে অবদান রাখতে পারলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণ সম্ভব হবে বলে হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে অভিমত ব্যক্ত করেন। এক্ষেত্রে তিনি দলমত নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে স্বাধীনতার চেতনায় প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য গড়ার প্রয়োজনীয়তার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণীর ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখা চার জন অষ্ট্রেলিয়ান নাগরিক, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু উইলিয়াম এ এস অডারল্যান্ড, বীর প্রতীক, এন্থোনি লরেন্স ক্লিফটন, ডঃ জিওফ্রেই ডেভিস এবং প্রফেসর হারবার্ট ফেইথ এর অবদান তুলে ধরা হয় এবং তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উপজীব্য করে নাট্যকার জন মার্টিনের নাটিকা “এ বার্ড ইন দ্যা কেজ” মঞ্চস্থ করা হয়। এরপর ক্যানবেরাস্থ সাংস্কৃতিক সংগঠন কাব্যকথন কতৃর্ক কবিতা আবৃত্তি এবং ধ্রুপদ কতৃর্ক স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের উপর রচিত গান পরিবেশন করা হয়।



হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপনের শুরুতে সকাল ৭.০০ টায় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং নিজ নিজ ধর্মমত ও প্রথা মোতাবেক বীর শহীদদের উদ্দেশ্যে মৌন প্রার্থনা করা হয়। এই পর্বে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কতৃর্ক প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। এ সময় আলোচনা পর্বে ক্যানবেরাস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা সহ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি মহান বিজয় দিবসের তাৎপয্যর্ তুলে ধরেন। বীর শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও বাংলাদেশের অব্যাহত প্রগতি সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করে মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সকালের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা রা হয়।
Related Articles
‘লাইব্রেরী এসোছিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে ঢাকা’য় সেমিনার আয়োজন
লাইব্রেরীতে “একুশে কর্নার” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘লাইব্রেরী এসোছিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে সম্মিলিতভাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনিসটিটিউট, ঢাকা’য় সেমিনার আয়োজনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত
বৈশ্বিক অস্থিরতা দূর করতে বঙ্গবন্ধুর দর্শন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে
প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ক্যানবেরা, ১৫ আগস্ট, ২০২২: অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুফিউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর দর্শন ও চিন্তা-চেতনা অস্ট্রেলিয়াসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়ে বৈশ্বিক অস্থিরতা দূর করার পাশাপাশি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সমস্যার সমাধান দূর করা সম্ভব। এ বিষয়ে গবেষণা ও ভূমিকা রাখার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহবান জানান তিনি। হাইকমিশনার বলেন, এধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় আজ স্বাধীনতার মহান স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় মোহাম্মদ সুফিউর রহমান এসব কথা বলেন। হাইকমিশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ হাইকমিশনের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সুফিউর রহমান বঙ্গবন্ধুর মানবতা, রাজনৈতিক দর্শন এবং জাতীয়তাবাদের ধারণার থেকে অনুপ্রাণিত হয় দেশ গঠনে কাজ করতে সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশ ও জাতিয়তাবাদ গঠনে সহস্র বছরে বঙ্গবন্ধু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ত্যাগ, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গী, অভিজাত শ্রেণির উর্ধ্বে উঠে দেশের সকল মানুষকে একত্রিত করে তাদের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষমতা বঙ্গবন্ধুকে অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। বঙ্গবন্ধুর অনন্য অবদানের জন্য বাঙালি জাতি চিরদিন তাঁর কাছে ঋণী থাকবে। বঙ্গবন্ধুর হত্যা বাঙালি জাতির জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, ৪৭ বছর পর এ কলঙ্ক থেকে দায় মুক্তি পেতে হলে বাঙলি জাতিকে চিন্তার অসহিষ্ণুতা, সাম্প্রদায়িতা, ধর্মান্ধতা এবং ব্যক্তিগত লোভ লালসা থেকে মুক্ত হতে হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করতে হবে । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে স্বাধীনতার চেতনা সমৃদ্ধ প্রগতিশীল সমাজ গঠন করতে পারলে একটি সমৃদ্ধ অথনীতিও তৈরি হবে। আলোচকগণ জাতির পিতার কিংবদন্তী নেতৃত্ব ও অবদানের ওপর আলোচনা করেন। বঙ্গবন্ধুর তৈরি পথরেখা অনুসরণ করে একটি আদর্শভিত্তিক ও উন্নতসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান তাঁরা। আলোচকগণ উল্লেখ করেন, জাতির পিতা চেয়েছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। তারা বঙ্গবন্ধুর প্রজ্ঞা এবং আপোষহীন নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, ঘাতক চক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। বক্তারা শোককে শক্তিতে পরিণত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এসময় জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুফিউর রহমান ও তাঁর সহধর্মিনী সামসিয়া রহমানসহ উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি ও হাইকমিশনের সদস্যবৃন্দ । এসময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। সকালে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্যে দিয়ে শোকদিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এছাড়া জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। এদিকে, গত ৫ আগস্ট শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩ তম জন্মবার্ষিকী এবং ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রাঙ্গনে ভিডিওচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় হাইকমিশনার সুফিউর রহমান পুষ্পস্তবক করেন। অনুষ্ঠানে ক্যানবেরাস্থ প্রবাসী বাংলাদেশিগণ এবং হাইকমিশনের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Trials of War Criminals and Crimes against Humanity in Bangladesh
Dear Respected Brothers and Sisters You may be aware of the recent trials of war criminals and crimes against humanity


