অস্ট্রেলিয়ার বুকে এক খন্ড বাংলাদেশ
ককিংটন গ্রিন গার্ডেন্স (www.cockingtongreengardens.com.au) অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। ১৯৭৯ সালে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত বাগানটি এ পর্যন্ত একটি অস্ট্রেলিয়ান ট্যুরিজম অ্যাওয়ার্ড এবং অনেক স্থানীয় পর্যটন শিল্প পুরষ্কার বিজয়ী। প্রতি বছর দেশ বিদেশের প্রায় ৪০,০০০ পর্যটক এই বাগান পরিদর্শন করেন। ডাগ সারাহ এবং ব্রেন্ডা পরিবারের হাত ধরে এর যাত্রা শুরু হয়ে বর্তমানে তাদের সুযোগ্য পুত্র মার্ক এর হাল ধরেছেন। বাগানটির মূল আকর্ষণ – সূক্ষ্মভাবে কারুকৃত ক্ষুদ্র বিল্ডিংগুলির আকর্ষণীয় প্রদর্শন, ক্ষুদ্র বাষ্প ট্রেনের যাত্রা, গোলাপ ঘর ইত্যাদি। বাগানটির একটি অংশে ৩১ টি দেশের গুরুত্বপূর্ন স্থাপনার ক্ষুদ্র সংস্করণ স্থান পেয়েছে যার মধ্যে আছে – Triumphal Arch Palmyra (Tudmur) – Syria, Leander’s Tower (KIZ KULESI) – Turkey, Tenochtitlan Aztec Temple – Mexico, Lahore Gate – The Red Fort – Delhi ইত্যাদি। অস্ট্রেলিয়া তার বহুসংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত এবং ককিংটন গ্রিন এর আন্তর্জাতিক অংশ এই সংস্কৃতিকে সত্যিকার অর্থে পর্যটকদের নিকট তুলে ধরে।
বর্তমানে ক্যানবেরা এবং এর আসে পাশে প্রায় ৪০০০ বাংলাদেশীর বসবাস। অভিবাসন এবং উচ্চতর শিক্ষার কারণে এই সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি এতদিন বাংলাদেশের কোন স্থাপনা ককিংটন গ্রিন এর আন্তর্জাতিক অংশে স্থান পায়নি। এই চিন্তা মাথায় নিয়ে ক্যানবেরার Let’s Work for Bangladesh (www.letsworkforbangladesh.org), শামসুদ্দীন শাফি বিপ্লবের নেতৃত্বে ২০১৭ সালে যোগাযোগ শুরু করেন কিভাবে ককিংটন গ্রিন এর আন্তর্জাতিক অংশে বাংলাদেশের কোন বিখ্যাত স্থাপনা নির্মাণ করা যায়। বিপ্লব প্রথমে আলাপ করেন বাগানের মহাব্যবস্থাপক মার্ক সারাহ’র সঙ্গে। মার্ক বিপ্লবকে জানায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাত্র দুইটি প্লট খালি আছে এবং কিছু করতে হলে শীঘ্রই করতে হবে। বিপ্লব এর পর যোগাযোগ করেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় এর তৎকালীন মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে। তার লিখা ইমেইলে তিনি মন্ত্রীকে ককিংটন গ্রিন গার্ডেন্স এর ইতিহাস এবং পর্যটন খাতে এর অবদান উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন এর আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ৩১ টি দেশের স্থাপনা কিভাবে তাদের দেশ, কৃষ্টি এবং সংস্কৃতিকে তুলে ধরছেন বাগানে আগত পর্যটকদের কাছে। ইমেইল পাঠানোর দুই সপ্তাহের মাথায় মন্ত্রণালয় থেকে কেনবেরাস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনকে এই ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন পাঠাতে বলে। হাই কমিশন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের কোন স্থাপনা ককিংটন গ্রিন গার্ডেন্স এ নির্মাণ করলে তা অবশ্যই দেশের ভাবমূর্তি অস্ট্রেলিয়াতে উজ্জ্বল করতে সহায়ক হবে। যেহেতু এই বাগানটি একটি অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ তাই বাংলাদেশ তার কৃষ্টি এবং সংস্কৃতিকে পর্যটকদের কাছে বেশ ভালোভাবেই তুলে ধরবে। তদুপরি বিপ্লব ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় জনাব আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই বিষয়ে আলাপ করেন। সাক্ষাৎকারের সময়ই সাব্যস্ত হয় সংসদ ভবন নির্মাণের। পরে অস্ট্রেলিয়া ফিরে এসে বিপ্লব ককিংটন গ্রিন গার্ডেন্স এবং বাংলাদেশ হাই কমিশনের সঙ্গে কাজ শুরু করেন এই ভবন নির্মাণের। সংসদ ভবনের নকশা ককিংটন গ্রিন গার্ডেন্সকে দেয়া হলে তারা এর নির্মাণের ব্যায়ের একটি হিসাব দেন যা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেন। ২০১৯ সালের প্রথম দিকে নির্মাণ শুরু হয়ে এটি শেষ হয় এই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। বর্তমানে বাংলাদেশ সংসদ ভবন সগৌরবে স্থান করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ককিংটন গ্রিন গার্ডেন্স এ। গত ৩রা নভেম্বর ককিংটন গ্রিন গার্ডেন্স মহাসমারোহে তাদের ৪০ বর্ষপূর্তি আয়োজন করেন এবং ঐদিন বাগানটি সর্বসাধারণের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখেন। প্রায় ৭০০ পর্যটক ঐদিন বাগানটি এবং আমাদের জাতীয় গৌরব বাংলাদেশ সংসদ ভবন প্রথমবারের মতন দেখেন। নিঃসন্দেহে আমাদের এই স্থাপনা বাংলাদেশকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে। ককিংটন গ্রিন গার্ডেন্স তাদের ওয়েবসাইটে এই নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন –
বিপ্লব এবং Let’s Work for Bangladesh এই প্রকল্পের জন্যে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন –
- জনাব আসাদুজ্জামান নূর, প্রাক্তন মন্ত্রী, সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ
- মান্যবর মোহাম্মদ সুফিউর রহমান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ফিজির বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত
- জনাব একরাম আহমেদ, প্রাক্তন চেয়ারম্যান, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, বাংলাদেশ
- জনাবা সুরাইয়া আখতার জাহান, উপ সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ
- জনাব ফরিদা ইয়াসমিন, প্রথম সেক্রেটারি, বাংলাদেশ হাই কমিশন, অস্ট্রেলিয়া
- জনাব মার্ক সারাহ, মহাব্যবস্থাপক, ককিংটন গ্রিন গার্ডেন্স, ক্যানবেরা, অস্ট্রেলিয়া
বর্তমানে বাংলাদেশ সংসদ ভবন সগৌরবে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ ককিংটন গ্রিন গার্ডেন্স এ দেশি বিদেশী পর্যটকদের বাংলাদেশ এবং তার সংস্কৃতিকে তুলে ধরছেন। এটি নিস্সন্দেহে অস্ট্রেলিয়াতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য অতীব গর্বের। বিপ্লব এবং তার দাতব্য প্রতিষ্ঠান Let’s Work for Bangladesh কে অসংখ ধন্যবাদ অস্ট্রেলিয়ার বুকে বাংলাদেশে তুলে ধরার জন্য।
Related Articles
বঙ্গবন্ধু, বাকশাল ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস
মুহম্মদ জে এ সিদ্দিকী: গত কিছুদিন ধরে একটি বই পড়ছিলাম—‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ নির্মাণ’। বইটির প্রতি দুটি কারণে আকৃষ্ট হয়েছিলাম। প্রথম কারণটি
‘ওয়ার ক্রিমিনাল’ এরিক প্রিব্ক কথন!
খবরটা ছোট্ট। লন্ডন থেকে নিউনিয়র্কের সব নামীদামী সংবাদপত্র, বিবিসি সবাই যত্ন করে প্রকাশ করেছে। খবরটা এক যুদ্ধাপরাধী সম্পর্কে। লোকটি ১০০বছর
Bangabhandu Murder Trial: Dark Chapter Finally Closed
The Appellate Division of the Supreme Court on 19th November upheld a verdict of the High Court Division that handed






Thanks…. & we feel proud for devoted works