বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে মেলবোর্নে বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস ২০১৮ উদযাপন

বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে মেলবোর্নে বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস ২০১৮ উদযাপন

 

গত শনিবার (১৭ই মার্চ, ২০১৮) অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মেলবোর্ন, ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ৯৮ তম জন্মবার্ষিকী ও ‘জাতীয় শিশু দিবস ২০১৮’ উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মেলবোর্ন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি, অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ও প্রধান অতিথি শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন ২০-২৫ জন শিশু অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনা সহ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে।

অতঃপর মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করে মেলবোর্ন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারন সম্পাদক জনাব মোল্লা মোঃ রাশিদুল হক। এরপর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালে শহীদ হওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার সহ বংলাদেশে জন্যে জীবন দেয়া সকল শহীদসহ, সম্প্রতি নিহত হওয়া বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী ও নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া সকল বাংলাদেশীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন ও তাদের মাগফিরাতের জন্যে দোয়া করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জনাব মোল্লা মোঃ রাশিদুল হক বঙ্গবন্ধুর সংক্ষিপ্ত জীবনী সবার সামনে তুলে ধরে বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি চেতনার নাম, একটি বিশ্বাসের নাম। সাহস, ভালবাসা আর শ্রদ্ধার মিশ্রণে তৈরি এক আত্মবিশ্বাসের নাম। সমস্ত ষড়যন্ত্র ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠা এক কণ্ঠস্বরের নাম। বাংলাদেশ আর বঙ্গবন্ধু যেন সমার্থক। এ জাতি কখনও উনার ঋণ শোধ করতে পারবে না। তাই উনার ৯৮ তম জন্মবার্ষিকীতে আমরা আশা করবো আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে পারে, তাকে বুকে লালন করে ও তাঁর আদর্শে দেশ কে এগিয়ে নিয়ে যায় । আল্লাহ উনাকে এবং উনার পরিবারের সকল শহীদদের জান্নাত নসীব করুন  এরপর বক্তব্য রাখেন মেলবোর্ন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি ড. সানিয়াত ইসলাম। তিনি ১৯৭১ সালের ১৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের ঘটনা তুলে ধরে বলেন – পিতা যখন গণতান্ত্রিকভাবে সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজছেন, সেই সময় বিদেশী সাংবাদিকরা তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালে তিনি বলেন – “আমি জীবনে কখনও আমার জন্মদিন পালন করিনি। আপনারা আমার দেশের মানুষের অবস্থা জানেন, তাদের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। যখন কেউ ভাবতেও পারে না মরার কথা তখনও তারা মরে। যখন কেউ ইচ্ছে করে তখনও তাদের মরতে হয়।”। গভীর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শেখ মুজিব আরও বলেন, “আমার জনগণই আমার জীবন।”। যুগ্ম সম্পাদক জনাব গোলাম রহমান চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে জাতীয় শিশু দিবস পালনের ইতিকথা সবার সামনে তুলে ধরেন।  অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মেলবোর্ন বঙ্গবন্ধু পরিষদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা জনাব লুতফুল কবির, সহ-সভাপতি ফেরদৌস মোল্লা, প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি, মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. মাহবুব আলম বলেন, আমরা যদি প্রবাসে আমাদের শিশুদেরকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস শিখাতে পারি, তবেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমাদের সন্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, মেলবোর্ন বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেস্টা জনাব খন্দকার সুফি সালেক বলেন যেই বঙ্গবন্ধু আমাদের বাংলাদেশ এনে দিলেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহার করার সুযোগ করে দিয়েছেন, তাকে স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় খুন হতে হয়। তবু তাঁর আদর্শ থেমে থাকেনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে পরিচালিত করছেন, দেশের নানাবিধ উন্নয়ন করছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফিরাত ও জননেত্রী শেখ হাসিনার জীবনের নিরাপত্তার জন্যে সবাইকে দোয়া করার আহবান জানান।

মেলবোর্ন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি জনাব মফিযুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা জননেত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন যুগান্তকারী উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার মধ্যে সমুদ্র সীমানা বিজয়, পদ্মা সেতু সহ বিভিন্ন রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যাবস্থা উন্নয়ন সহ বাংলাদেশের মানুষের গনতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়ে বাংলার মানুষের ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেছেন। এছাড়া ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার পথে এগিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতি জননেত্রী শেখ হাসিনার অর্জনগুলোর মধ্যে অন্যতম।

বড়দের পাশাপাশি ছোট ছোট শিশুরাও অত্যন্ত আগ্রহের সাথে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিভিন্ন বক্তাদের বক্তব্য স্রবণ করে।  বক্তাদের বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে দেখানো হয় বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিভিন্ন ভিডিও ক্লীপ।

চা বিরতির পর এডওয়ার্ড পীনু সিনহা ও শুভ্রা দাসের পরিচালনায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এখানে বিভিন্ন ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি করে শোনায় সুমাইয়া হক, মানহা মাহবুব, খাদিজা ইসলাম, মোল্লা মোঃ রাশিদুল হক ও আব্দুল কুদ্দুস সহ অন্যান্যরা। এরপর বঙ্গবন্ধুর জীবনের উপর ক্ষুদ্র প্রবন্ধ পাঠ করে মুমতাহীনা ইসলাম। এরপর অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শোনান এডওয়ার্ড পীনু সিনহা, স্নেহা রায়, রুদ্রাণী সরকার, প্রজাপতি রায় ও শুভ্রা দাস অনুষ্ঠানে দেশের গানের সাথে নেচে দেখায় ছোট শিল্পী অরুন্ধতী ঘোষ ও তনুশ্রী সাহা।  শিশু কিশোর-কিশোরীদের গান ছড়া কবিতা ও তালে তালে নাচ সবাইকে মুগ্ধ করে।

এরপর শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতায় যৌথভাবে তৃতীয় হয় তনুশ্রী সাহা, রুদ্রাণী সরকার এবং তৌহিদ মোল্লা, যৌথভাবে দ্বিতীয় হয় ফৌজিয়া মোল্লা ও সুমাইয়া হক  এবং প্রথম হয় স্নেহা রায়। এছাড়াও অংশগ্রহনকারী সকলকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এছাড়াও কবিতা আবৃত্তির জন্যে পুরস্কার দেয়া হয় খাদিজা ইসলাম, মানহা মাহবুব ও সুমাইয়া হক কে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও কেন্দ্রীয় অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ নেতা এস এ রহমান অরুপ, নিজাম মিয়াজী, শামিমা রেখা, নিলুফার ফেরদৌসি, মাহবুবুর রহমান, নাহিদ, শারমিন, ফারাহ সারওয়ারদি লিন্ডা, ড. মোসাম্মাত ফাইজুন নাহার, ফখরুল আলম রনিন, নাযিবা প্রমা, রঞ্জিত সরকার, অভিজিত ঘোষ, সান্তনু সরকার, কমল ও আরও অনেকে।  

এরপর অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে রাতের খাবার পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে সবাইকে অনুষ্ঠানে আসার জন্যে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন মেলবোর্ন বঙ্গবন্ধু পরিষদের  সভাপতি জনাব মফিযুল ইসলাম। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন মেলবোর্ন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারন সম্পাদক জনাব মোল্লা মোঃ রাশিদুল হক ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মোল্লা মোঃ রাশিদুল হক, ড. সানিয়াত ইসলাম, গোলাম রহমান চৌধুরী, ও এডওয়ার্ড পীনু সিনহা ।

     

   

 

 


Place your ads here!

Related Articles

Introduce Bangla at HSC in NSW

Bangla Proshar Committee is currently running a signature campaign for introduction of Bangla as an ATAR subject at HSC level

জাতীয় শোক দিবস ২০০৮ পালন

গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় শোক দিবস ২০০৮ উপলক্ষে শোক সভার আয়োজন করে জাতীয় শোক দিবস পালন কমিটি এবং শেখ হাসিনা

Ouderland Memorial Committee Press Release on Film Festival Closing Ceremony

Ouderland Memorial Committee organized the concluding ceremony of a month-long film festival on Liberation War titled "Itihash Kotha Koi" on

No comments

Write a comment
No Comments Yet! You can be first to comment this post!

Write a Comment