মোসলেহ উদ্দিন নামের কোন লোক ধরা পড়েনি ভারতে
ফজলুল বারী: নিজের বিরুদ্ধে আজ রিপোর্ট লিখছি। নিজের বিরুদ্ধে কী রিপোর্ট লেখা যায়? রিপোর্ট যদি সত্য হয় তাহলে লিখা যাবেনা কেনো? মিথ্যা আঁকড়ে থাকায় কোন গৌরব নেই। সত্যের ফলোআপ থাকে। মিথ্যার কোন ফলোআপ থাকেনা। ভারতে বঙ্গবন্ধুর খুনি মোসলেহ উদ্দিন ধরা পড়ার একটি রিপোর্ট সোমবারের বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় ছিল। এসব রিপোর্টের সোর্স ছিল মূলত কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা। ভারতীয় পত্রিকা দ্য হিন্দুও মঙ্গলবার রিপোর্টটি করেছে। কিন্তু হিন্দুর রিপোর্টটি পড়লেই বোঝা যাবে তা আনন্দবাজারের রিপোর্টেরই হুবহু ইংরেজি অনুবাদ! নতুন কোন তথ্য নেই।
মাজেদের পর বঙ্গবন্ধুর আরেক পলাতক খুনি মোসলেহ উদ্দিনের ভারতে ধরা পড়া নিশ্চয় বাংলাদেশের জন্যে এটি বড় একটি খবর। সে জন্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিও বলেছেন তারা ভারতের কাছ থেকে আসল তথ্য জানার চেষ্টা করছেন।
খুশি খুশি নতুন আইজি এও বলেছিলেন, এখনও হাতে পাইনি। আশা করি পাবো। কিন্তু মঙ্গলবার তিনি বলেছেন খবর সত্য নয়।
ধন্দ বাড়ে তখন! যখন দেখি এত বড় খবরের কোন ফলোআপ মঙ্গলবারের বাংলাদেশের কোন পত্রিকায় নেই। এর কারনও বুঝি বাংলাদেশ পক্ষ মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছে মোসলেহ উদ্দিন নামের কেউ ধরা পড়েনি। এখন শুধু ইন্টারপোলের অফিসিয়েল রিপোর্টের অপেক্ষা।
মোসলেহ উদ্দিন নামের কোন ব্যক্তি ধরা পড়েছে কিনা এ নিয়ে জানতে ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা ভারতকে চিঠি লিখেছে।ধারনা করা হচ্ছে, বুধবারের মধ্যে এর উত্তর বাংলাদেশ পেয়ে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের ওয়াকিফহাল পদস্থ নানা পক্ষ নানামুখী জিজ্ঞাসার জবাবে মঙ্গলবার বলার চেষ্টা করেছে খবরটির কোন ভিত্তি তাদের কাছে নেই। সে কারনে রিপোর্টটির সূত্রপাত কিভাবে সেটিও মঙ্গলবার সারাদিন খুঁজেছি।
তবে সবপক্ষ এক জায়গায় একমত একটি কথা বলেছে। তাহলো, মোসলেহ উদ্দিন খবরের সূ্ত্রও ছিল মাজেদ। কলকাতা থেকে মাজেদ ধরা পড়ার পর পুলিশকে মোসলেহ উদ্দিনের কথা বলেছে।
মাজেদকে কলকাতায় সর্বশেষ দেখা গেছে ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখে। বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তাকে পাবার পর ৭ এপ্রিল পুলিশের হাতে দেবার আগ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার কাছ থেকে নানা তথ্য নিয়েছে। বলা হয় মাজেদ তখনই মোসলেহ উদ্দিনের কথা বলেছে।
আবার আনন্দবাজারকে যারা তথ্য দিয়েছে তারা জানে মাজেদ মোসলেহ উদ্দিনের তথ্য দিয়েছে ফাঁসির আগের রাতে। এরপর বাংলাদেশ ভারতকে অনুরোধ করলে তারা উত্তর চব্বিশ পরগনার সেই ছোট শহর ঠাকুরনগর থেকে মোসলেহ উদ্দিন ওরফে ডাঃ সমীর দত্তকে ধরে আনে।
এই পক্ষের তথ্য এই মাজেদ আর মোসলেহ উদ্দিনই ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত সবচেয়ে নিম্নস্তরের কর্মকর্তা। একজন ক্যাপ্টেন আরেকজন রিসালদার। এরজন্যে অন্য সিনিয়র অফিসাররা তাদেরকে আমলপাত্তা দিতো কম। এরজন্য সিনিয়র অফিসারদের বিরুদ্ধে মাজেদ-মোসলেহ উদ্দিনের ক্ষোভ ছিল।
মাজেদ উর্দু জানতো বলে কলকাতার উর্দুভাষী অঞ্চলে মুসলিম ডেরা গাড়ে। মোসলেহ উদ্দিন উর্দু জানতোনা। তাই সে থিতু হয় উত্তর চব্বিশ পরগনার সেই বাঙালি এলাকায়।
আনন্দবাজারকে যারা তথ্য দিয়েছে তারা বলেছে মোসলেহ উদ্দিন ওরফে ডাঃ সমীর দত্ত প্রায় এলাকা ছেড়ে অজ্ঞাতবাসে চলে যেত। প্রতিবার গল্প ছড়াতো মৃত্যুর। ফিরে এসে এলাকায় পয়সাও ছড়াতো বিস্তর। পাড়ার ক্লাবকে নিয়মিত টাকা পয়সা দিত। এলাকার কোন লোকের সঙ্গে কোন দিন কোন কটু কথা বলেছে তা কেউ শোনেনি।
মাজেদ ধরা পড়ার পরও মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে মোসলেহ উদ্দিন আত্মগোপন করে। কিন্তু ভারতীয় গোয়েন্দারা তাকে ধরে ফেলে। তাকে তারা বাংলাদেশের কাছে তুলে দিতে বনগাঁ এলাকায় নিয়ে গেছে অথবা দিয়ে ফেলেছে এটা জানে আনন্দবাজারের তথ্যদাতা।
কিন্তু এই নিউজ যে বাংলাদেশের লুকোবার নয়, বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত আরেকটা খুনি, আরেকটা পলাতক আসামী পাওয়া গেলে বাংলাদেশ কি রকম খুশিতে গদগদ করতে থাকতো তাতো বাংলাদেশের নাগরিক-সাংবাদিক হিসাবে আমরাই জানি।
অথচ দেখেন গত চব্বিশ ঘন্টায় এ নিয়ে বাংলাদেশের কোন মিডিয়ায় কোন ফলোআপ নেই। যেখানে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত দৈনিকগুলোর অনলাইন নিউজপোর্টালগুলোও চব্বিশ ঘন্টায় মুহুর্তে মুহুর্তে আপডেট করে। প্রতিযোগিতায় কেউই পিছিয়ে থাকতে চায় না।
অস্ট্রেলিয়ায় থাকলেও আমি সারাক্ষন বাংলাদেশের নিউজের সঙ্গে থাকি। গত চব্বিশ ঘন্টা এ নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের ওয়াকিফহাল সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে অনেকের মতো আমিও সোমবার সঠিক তথ্য পাইনি। তাই সঠিক রিপোর্ট লিখিনি। এরজন্য আমি আমার পাঠকদের কাছে দূঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।
মরার আগে মাজেদ বলেছে বা ভারতীয় মিডিয়ায় যে লোকটিকে মোসলেহ উদ্দিন বলা হচ্ছে তাকে উত্তর চব্বিশ পরগনার ঠাকুরনগর এলাকার লোকজন ইউনানি চিকিৎসক ডাঃ সমীর দত্ত, অথবা দিলীপ চক্রবর্তী নামে অনেকে চিনতেন জানতেন।
মাজেদের কাছে তথ্য পেয়ে বাংলাদেশের অনুরোধে ভারতীয় গোয়েন্দারা ওই এলাকায় গিয়ে ওই বক্তিকে খুঁজে পাননি। তারা যেটি জেনেছেন তাহলো গত জানুয়ারির ১০ তারিখে হিন্দু নামের ওই মানুষটির সেখানে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এরপর হিন্দু রীতি অনুসারেই সেখানকার শ্মশানে তার মৃতদেহ দাহ করা হয়।
এই লোকটির সঙ্গে মাজেদের যোগাযোগ থেকে থাকলে মাজেদের তথ্য মতে এই লোকটিই মোসলেহ উদ্দিন হয়ে থাকলেও তার মৃত্যু সংবাদ হয়তো মাজেদের কাছে ছিলোনা।
মিডিয়ায় উত্তর চব্বিশ পরগনার ঠাকুরনগর এলাকায় এক বাড়িতে যার যাতায়াত, সে বাড়ির এক মেয়েকে বিয়ে দেবার তথ্য আছে। সেই মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলে সে বলেছে সে অর্থাৎ মিঃ সমীর দত্ত অথবা দিলীপ চক্রবর্তী বড় ভালো ছিল।
কিন্তু সে যে মুসলমান ছিল তা তারা কোনদিন বোঝেননি। সে লোক কখনো আল্লাহ নাম ডাকেনি বা নামাজও পড়েনি। তাকে তারা কখনো গরুর মাংসও খেতে দেখেননি।
একটি হিন্দু পরিবারে সাধারন যা যা রান্না হয় তাই রান্না হতো সে বাড়িতেও। এবং তাই তিনি খেতেন। মৃত্যুর পর তার দেহও হিন্দু রীতিতেই দাহ করা হয়।
মিডিয়ায় আছে ২০১৮ সালে মোসলেহ উদ্দিন একবার গোপনে বাংলাদেশে এসে পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন থেকে গেছেন। সেই মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ২০১৮ সালে কী তিনি কিছুদিনের জন্যে অন্য কোথাও গিয়েছিলেন? সেই মেয়েটি বলেছে, নাতো। তিনি কোথাও যেতেননা। গত দশ বছরও কোথাও যাননি।
এ ব্যাপারে ওই এলাকার একটি সূত্র মঙ্গলবার বলেছে যেহেতু ওই লোকটিকে কবর দেয়া হয়নি সে কারনে তার লাশ উত্তোলন বা ডিএনএ টেস্টের কোন সুযোগ নেই। এখন যেহেতু তাকে নিয়ে বাংলাদেশের এত আগ্রহ তাই তারা তার ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। ডেথ সার্টিফিকেট পাবার পরেই এ নিয়ে রিপোর্ট করা হবে। আর বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে ইন্টারপোলের ভারতীয় অংশের লিখিত জবাবের। বাংলাদেশের গোয়েন্দারা বলছেন মোসলেহ উদ্দিন ধরা পড়ার কোন তথ্য তাদের কাছে নেই।
Related Articles
অসমাপ্ত বঙ্গবন্ধু প্রেম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক চেষ্টায়, তাঁর উদ্যোগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। কুখ্যাত রাজাকারদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। দেশ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। কিন্তু
Finding the Grey in Charlie Hebdo
It’s been quite a turbulent 2014 and it seems that the views of yesteryear are still widely and strongly held
ইউরোপিয়ানদের সামারের প্রস্তুতি – ওয়াসিম খান পলাশ প্যারিস থেকে
এখন মে মাস। এখনো শীত। আবাহওয়া বেশ পাগলামি করছে ইদানিং। আবাহওয়ার এরকম পাগলামি অনেক বছর চোখে পড়েনি। আজ রোদ তো


