নারীর ক্ষমতায়ন এবং একজন নিরুপমার কথা
গত কয়েকদিন থেকে নীরুপমার জন্য মনটা বিষন্ন হয়ে আছে। আমার শুধু নীরুপমার মা এর কান্নাভেজা ভিডিও চ্যাটের ছবিটি চোখে ভাসছে। সন্তান হারানোর কস্ট সেটা শুধু মা ই জানে। দুই সন্তানের মা হয়ে বুঝতে পারি মা হওয়ার কস্ট কতটা!
এবার আসি মেয়েদের জীবন নিয়ে। মেয়েদের কে এমন ভাবে বড় করা হয় কিংবা মানসিকতা এমনভাবে গড়ে তোলা হয় ওদের জীবন টাতে আর নিজস্ব বলে কিছু থাকে না বা নিজের বলে কিছু ভাবতে শিখে না। মা-বাবা মেয়েদের এমন ভাবে গড়ে তোলেন খুব ভাল বউ হওয়ার মত করেই। এমন কি পড়াশোনায় ভাল করার কথা বলা হয় ভাল পাত্র পাওয়ার আশায়, ভাল ঘরে বিয়ে হওয়ার জন্য। আমি বলছিনা সব বাবা-মা এক রকম। তবে আমাদের সমাজের অধিকাংশ বাবা-মাই সেরকম। মেয়েদের এমন শেখানো হয় শশুর বাড়ি নিজের বাড়ি, একবার বিয়ে হলে শশুর বাড়ি থেকে লাশ হয়ে আসবে তার আগে নয়। রাস্তা ঘাটে কখনও চোখ তুলে তাকাবা না বখাটে ছেলেদের দেখলে মাথা নিচু করে চলে আসবে। এভাবে যদি মেয়েদের বড় করা হয় তাহলে সে মেয়ে কিভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শিখবে? আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজ তাই শিখাচ্ছে। আবার ধর্মের অজুহাত তো আছেই মেয়েদেরকে অন্তপূরে রাখার।

নিরুপমা
অস্ট্রেলিয়ার মত জায়গায় দুই দুইটা বাংলাদেশি বংশোদ্ভত মেয়ে খুন হয়ে গেল! এখানে মেয়েদের এতবেশি সুযোগ-সুবিধা দেয়ার পরও আমরা নিতে জানিনা। আমাদের ছোটবেলা থেকেই একটা বাউন্ডারি তৈরি করে দেয়া হয়েছে। আমরা এখনও মানুষ হয়ে বাঁচতে শিখিনি। মেয়েমানুষই রয়ে গিয়েছি!
গত কয়েক দিন আগে একজনের সাথে কথা হচ্ছিলো উনি পাত্রী দেখছেন, নরম স্বভাবের মেয়ে দেখছেন। নরম স্বভাব শব্দটা আমাকে ভাবাচ্ছে সেদিন থেকে।
যাই হোক, যা বলছিলাম মেয়েদের নিজের মত করে বাঁচতে জানাটা অনেক দরকার। আমি অস্ট্রেলিয়ায় যেইসব মেয়ে আছেন তাদের কে ফোকাস করে বলছি আর কেউ যাতে নিরুপমা না হয়। আপনি যদি নিজেকে নিজে না সাহায্য করেন কেউ আসবে না। প্রথমে আপনার নিজেকেই নিজের সাহায্য করতে হবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে?
আমি এডাল্ট মাইগ্রেন্টদের ইংলিশ শেখাতাম। সেই সুবাদে আমার কিছু ট্রেইনিং নিতে হয়েছে সেখানে বলেছিল প্রত্যেক অভিবাসীর হানিমুন পিরিয়ড থাকে। ঐ হানিমুন পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর সব কিছু মোটামুটি এক্সপ্লোর হওয়ার পর হতাশা, বিষন্নতা, হোম সিকনেস শুরু হয়। এগুলো থেকে সবাই বের হতে জানে না কিংবা পারে না। যারা জানে না বা পারে না বিপত্তিগুলো তাদেরই হয়।
আপনি এখানে এসে হোমসিকনেসে পরবেন, মন খারাপ লাগবে কিন্তু এখান থেকে আপনার নিজেকে নিজের বের করে নিয়ে আসতে হবে। আপনার উপায় খোঁজে বের করতে হবে।
অজানা অচেনা জায়গা কিছুই চিনিনা এই ফিলিংসটা আপনাকে কস্ট দেবে। সুতরাং যতটা পারেন রাস্তাঘাট শিখে রাখুন উপকার হবে।
আরেক টা জিনিস সবার আগে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে রাখবেন।ড্রাইভিং হচ্ছে আপনার চালিকা শক্তি। এটা যত তাড়াতাড়ি পারেন শিখে নিবেন।
আত্মবিশ্বাস অনেক বড় বিষয় মেয়েদের জন্য এটা কোনভাবেই হারাবেন না। এমন সঙ্গীদের সাথে মিশবেন যারা এগোতে সাহায্য করবে পেছন থেকে টেনে ধরবে না।
আপনি যদি মানসিক চাপে থাকেন কারো সাথে শেয়ার করুন। যদি কাউকে বিশ্শস্ত না পান জিপির কাছে যান কথা বলুন। এরকম খুনাখুনির অবস্থায় আপনার দাম্পত্য জীবন টা নিয়ে যাবেন না।অত্যাচার সহ্য করে সংসার জীবন বয়ে বেরানোটা কোন জীবন না। কি দরকার এই খুনোখুনির পর্যায়ে যাওয়া? তারচেয়ে আলাদা হয়ে যে যার মত করে বেঁচে থাকাটাই তো জরুরি।
সুতরাং মেয়েরা আগে নিজের মত করে বাঁচতে শেখ। পৃথিবী তোমার কাছে ধরনা দেবে। তুমি নারী, তুমি মা তোমাকে দিয়ে সব হবে, তুমিই পারবে তুলোর মত নরম হতে কোমল হতে প্রয়োজনে তুমিই পারবে লোহার চেয়ে শক্ত হতে।
দীক্ষা নাও আর কোন নীরুমপা হতে দেব না নিজেকে।
Related Articles
কেনবেরার ২০১৯ সালের প্রভাতফেরি পৃথিবীর সকল বাংলাদেশ দুতাবাসের জন্য অনুকরনীয় হতে পারে
কেনবেরায় এবারই প্রথমবারের মত বিভিন্ন ভাষাভাষির মানুষ একত্রিত হয়ে ২১ ফেব্রূয়ারি ২০১৯-এর সকালে প্রভাতফেরি’র হাটায় অংশ নিয়েছিল । বাঙ্গালী অবাঙ্গালী
Bipod Aashche Bipod!
বিপদ আসছে বিপদ! -ড.ফরিদ আহমেদ বাংলাদেশ যা ছিল এক সময়ে স্বপ্নের দেশ সেটি এখন চরম সামাজিক নিরাপত্তার হুমকিতে। ১৯৪৭ সালে
Probashe Oboshar
প্রবাসে অবসর…… আমার অনেক প্রিয় ব্রিজবেন বীচ, পানির মাঝে মনে হয় হীরার টুকরো ছড়ানো……… সময় যেন কাটেনা, বড় একা একা


