প্রবীর শিকদার থেকে নুরুল আজিম রনি – সোশ্যাল মিডিয়ার শক্তিমত্তা
সাংবাদিক প্রবীর শিকদারের পর নুরুল আজিম রনির ক্ষেত্রে আবার সোশ্যাল মিডিয়ার শক্তিমত্তা দেখলো বাংলাদেশ। দুটি ক্ষেত্রেই দেশের মূলধারার মিডিয়ার ভিন্ন ভূমিকা ছিল। মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সন্তান প্রবীর শিকদার সোশ্যাল মিডিয়ায় ফরিদপুরের নানা অনিয়ম জুলুম নিয়ে লিখতেন। তাঁর এসব লেখায় ক্ষুদ্ধ হয়ে অনুগত এক আইনজীবীকে দিয়ে মামলা করিয়ে প্রবীরকে গ্রেফতার করান প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই ও মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী সাংবাদিক প্রবীর শিকদার। এর আগে রাজাকার মুসা বিন শমশেরের বিরুদ্ধে লেখার কারনে প্রবীরকে মেরে ফেলার চেস্টা করা হয়। শারীরিক ভাবে বেঁচে গেলেও একটি পা হারিয়ে সারাজীবনের জন্যে পঙ্গু হয়ে যান প্রবীর। সেই প্রবীরকে হাতকড়া পরিয়ে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া ফরিদপুর। নেপথ্যে যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই জড়িত তাই দেশের মূলধারার মিডিয়া এক রকম নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করে। ওই অবস্থায় আমরা কয়েকজন নেমে গেলাম সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে। জনমতের চাপে রিমান্ড থেকে নিয়ে এসে তাঁকে জামিনে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সরকার।
এবার রনির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় মূলধারার মিডিয়া, এর পিছনে স্থানীয় কিছু সাংবাদিকের চসিক মেয়রকে খুশি করার একটি কারন ছিল। দেশে যেহেতু এখন ছাত্রলীগ নেতাদের ইমেজ ভালো না তাই রনির চড় থাপ্পর মারার পরপর দুটি ভিডিও ফুটেজ গুরুত্ব পায়। এ দুটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজকে কাজে লাগিয়ে ঢাকার অফিসকে ম্যানেজ করা সহজ হয় চট্টগ্রামের সেই সব সাংবাদিকদের। এই রনি, চড় থাপ্পরের বাইরে তার কীর্তি সব চেপে যাওয়া হয়।
এই পরিস্থিতিতে আমরা ক’জন আবার নেমে গেলাম সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেহেতু রনি তরুনদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় এবং অতিরিক্ত ফী আদায় বিরোধী আন্দোলনের কারনে জনপ্রিয় অভিভাবকদের মধ্যেও তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের ক্যাম্পেন আবেদন সৃষ্টিতে সহায়ক হয়। নেপথ্যে ঢাকা চট্টগ্রামের বেশ কিছু সাংবাদিক, প্রধানমন্ত্রীর একজন উপ প্রেস সচিব, হাইকোর্টে রনির আইনজীবী ও বার কাউন্সিলের সদস্য স ম রেজাউল করিমের সহায়ক ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামে রনির সিনিয়র জুনিয়র এমন কিছু শুভাকাংখী ভ্যানগার্ড আছেন, তারাও জামিনের আয়োজন, রনিকে দ্রুত বের করে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার ক্যাম্পেনের সময় টের পাই রনি শুধু চট্টগ্রামে না সারাদেশ এমনকি বিদেশেও প্রবাসীদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয়।
রনির চড় থাপ্পর পর্বকে আমি মোটেই সমর্থন করিনি এবং করবোওনা। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে এটি বাংলাদেশের বাস্তব সত্য। অস্ট্রেলিয়ার কোন বাবা-মা তাদের বাচ্চাদের গায়েও হাত তুলতে পারেননা। এটিকে দেখা হয় এতে শিশুদের মধ্যে মানসিক বৈকল্যের সৃষ্টি করে। এদেশে একটি শিশু নার্সারি ক্লাসে থাকতেই শেখানো হয় বাবা-মা বা কেউ তার গায়ে হাত তুললে কিভাবে ট্রিপল জিরোতে ফোন করে পুলিশ ডাকতে হবে। পুলিশ তখন এই বাবা-মা বাচ্চা লালনপালনের উপযুক্ত নয় বলে বাচ্চাকে নিয়ে যায় সরকারি হেফাজতে।
আর বাংলাদেশের বাবা-মা শুধু নিজেরা মারেননা, বাচ্চাকে শেখান হুজুর যেখানে মারবেন সে জায়গাটা বেহেস্তে যাবে! বাংলাদেশে বিচার সালিশ করে প্রকাশ্যে মানুষ পেটানো হয়! পুলিশ যে পিটায় এটাও যে বেআইনি দেশের সংবিধান পরিপন্থী তাও দেশের সিংহভাগ মানুষ জানেনইনা! বাংলাদেশের রাজনীতিতে চড় থাপ্পর চলে! বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে যে রাতের বেলা বেআইনি বিচার সালিশ বসে সেখানেও চড় থাপ্পর মারা হয়। এগুলোর বেশিরভাগের ভিডিও ফুটেজ থাকেনা। ভিডিও ফুটেজ পেলে তা নিয়ে আমরা হৈচৈ করি। কারো গায়ে হাত তোলার বেআইনি কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
প্রশ্ন আসতে পারে এরপরও কেন রনির পক্ষে দাঁড়ালাম? কারন রনির কীর্তি। এখন বাংলাদেশে কোন ছাত্রলীগ নেতা ছাত্রদের ইস্যু ভিত্তিক আন্দোলন করেনা। এমন আন্দোলনের কারনে ছাত্রদের মধ্যে অভিভাবকদের মধ্যে রনি তুমুল জনপ্রিয়। টাকা পয়সা খরচ করে কেউ এই জনপ্রিয়তা কিনতে পারবেনা। আমার কাছে বহুবছর পরে পাওয়া এক ক্যারিশমেটিক জনপ্রিয় ছাত্র নেতার নাম নুরুল আজিম রনি। আমি কখনো তাকে চোখে দেখিনি। কিন্তু একজন বন্ধু বা বড়ভাইর ভূমিকায় তাকে অনুভব করতে পারি। কেনো সরকারি দলের প্রভাবশালীরা তাঁর পিছু নিয়েছে তা আমি জানি। তাঁর ভুলগুলোকে শুধরানো যাবে। তাকে হারানো যাবেনা। তাকে হারিয়ে ফেললে ক্ষতিগ্রস্ত হবো আমরা সবাই।
আমার বয়সী বড়দের উদ্দেশে কিছু কথা বলি। রনিদের সংগে আমাদের প্রতিযোগিতা বেমানান। তরুনদের পক্ষে থাকুন। তারা অনেক মেধাবী। তুলনামূলক সৎ। তাদের হাত ধরে একটু এগিয়ে দিলে হয়। টাকাপয়সা দিতে হবেনা। তরুনদের বন্ধুত্ব দিয়ে দেখুন। তারা শুধু দাঁড়াবেনা, দেশও দাঁড়াবে। আমাদেরও মর্যাদা দেবে। মর্যাদা নিয়ে মরা ছাড়া আমাদের এখন আর পাবার কী আছে? তরুনদের বন্ধুত্ব দিন। আপনিও তরুন হয়ে থাকবেন। রনির মতো জনপ্রিয় তরুনদের সঙ্গে নিয়ে চললে অনেক ভালো চলতেন চট্টগ্রামের মেয়র। তিনি ভুল করছেন।
Related Articles
Trial of War Criminals:
War crime is a generic term. It includes genocide, crimes against humanity, and grave breaches of the 1949 Geneva Conventions
তোমার জন্য মুগ্ধ!
একটা গানের এলবাম হাতে এসেছে, গত সপ্তাহে। শুনবো শুনবো করে, আজই প্রথম শুনার সময় পেলাম। প্রকৃত পক্ষে গান শোনার জন্যে



