বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো

বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো

আমাদের দাদুর বাড়িতে একটা ঢেঁকিঘর ছিল ।সেই ঢেঁকিঘরে প্রায় ঘরের সমান লম্বা একটা ঢেঁকি ছিল।সেই ঢেঁকিতে ধান কুটা ছাড়াও আর অনেক কিছু কুটা হতো।যেমন চিড়া কুটা, হলুদ কুটা,চাল গুড়া করা,কাসুন্দি বানানো।এমন কি বরই ভরতা বেশি করে বানালে ঢেঁকি দিয়ে ই করা হতো।।সেই ঢেঁকির পাশে আরেকটি ছোট সাইজের ঢেঁকি ছিল।খেলনা ঢেঁকি।ওইটা বানানো হয়েছিল আমার দিদির জন্য।দিদি ছোট মানুষ বড় ঢেঁকিতে উঠে দাড়ালেও তা নড়ে না।তাই তার বায়না মিটাতে ওইটা বানানো।তবে খেলনা ঢেঁকি হলেও সে খুব ছোট ছিল না।দিদির পরে আমি অধিকার পাই ওই ঢেঁকি দিয়ে খেলবার।পরে একসময় আমি বাড়ি থেকে ওইটা ময়মনসিংহেও নিয়ে এসেছিলাম।নেকত ভাই (লিয়াকত) ঘাড়ে করে ট্রেনে চড়ে সেই ঢেঁকি ময়মনসিংহে নিয়ে এসেছিল। কালের ঘূর্নিতে আজ তা কোথায় তলিয়ে গেছে কে জানে!
নেকত ভাইয়ের কথা আরেক দিন লিখবো।
তো সেই ঢেঁকির কথা আজ কেন মনে হলো ।
ঢেঁকি নিয়ে দিদিমার একটি কথা ছিল ,যা প্রায়ই বলতেন,

“আসল ঘরে ফসল নাই,
ঢেঁকিঘরে ধুপধাপ”

আজকাল ফেইসবুকে মানুষজনের নানা রঙের
কর্মকান্ড,উৎসব অনুষ্ঠান দেখে খালি দিদিমার ঢেঁকির কথা মনে হয়।

প্রতীকী ছবি

পূরবী পারমিতা বোস

পূরবী পারমিতা বোস


Place your ads here!

Related Articles

সামারে একদিন: পর্ব -১ ওয়াসিম খান পলাশ প্যারিস থেকে

এখানে প্রায় সবাই সামারকে উপভোগ করার আপ্রান চেষ্টা করে । সামার আসে খুব অল্প সময়ের জন্য। দেখতে দেখতে দিন, সপ্তাহ

সুখি বাংলাদেশের গল্প

আমাদের আমলে চতুর্থ অথবা পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্য বইয়ে একটা গল্প ছিলঃ “সুখি মানুষ”। তার সারমর্মটা এইরকম ছিল, এক রাজার

ক্রিকেট জাতি অস্ট্রেলিয়া বিব্রত, ক্ষুব্ধ এবং লজ্জিত

মনটা খুব খারাপ,  বিক্ষিপ্ত। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বল ট্যাম্পারিং’এর যে কেলেংকারিতে জড়িয়েছে, তা শোনার-জানার পর কি মন ভালো থাকার কোন সুযোগ আছে?

No comments

Write a comment
No Comments Yet! You can be first to comment this post!

Write a Comment