হাসান আজিজুল হকের সাক্ষাৎকার ও সাহিত্য, সিনেমা নিয়ে কিছু কথা
সাক্ষাৎকার দীর্ঘ তবে শিরোনাম অবান্তর এবং উদ্দেশ্যমূলক।
সাহিত্যের অতলস্পর্শী অনুভূতি সিনেমাতে ধারন বোধহয় বা প্রায় অসম্ভব। তাই গ্যাবো(গ্যাব্রিয়েল মার্কেজ) তার ‘শতবর্ষের নির্জনতা’ উপন্যাসের সিনেমা বানানোতে নারাজ ছিলেন। এই উপন্যাস প্রাণ ঢেলে উপভোগ করা ও আত্মস্থ করার জন্য নৈঃশব্দ দরকার।
অপ্রাসঙ্গিক হবে না বলা যে বিভূতি ভি.র ‘পথের পাঁচালীর’ সবটুকু সত্যজিৎ র.য়ের ‘পথের পাঁচালী’তে পাওয়া সম্ভব নয়। একটি দৃশ্যে দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত সর্বজয়া গোগ্রাসে সামান্য ভাত মুখে দিচ্ছে। সেই মূহূর্তে সেখানে উপস্থিত ঠাইহীন তারচেয়ে ক্ষুধার্ত, ছিন্নবসনা অস্থিচর্মসার ননাশ ঠাকুরণ ইন্দিরা। ইন্দিরার চোখে খাদ্যের আকুতি দেখতেও অসহনীয়! আর ক্ষুধার্ত সর্বজয়া বিকারহীন। খাবার গিলতেই সে ব্যস্ত। সর্বজয়ার কি একবারও ইন্দির ঠাকরুনের জন্য মমতা জাগলোনা?
জেগেছে অবশ্যই। তবে সেই অনুভব সিনেমাতে উপস্থাপন প্রায় অসম্ভব। উপন্যাসে বিভূতি দেখান সর্বজয়া যখন এক ধনীগৃহে কাজ করছে তখন সেই পরিবারে এক বৃদ্ধা বিত্তশালিনী আত্মীয়ার আগমনে কি বিরাট হৈহুল্লোড়। সে বিত্তশালিনীর তুলনাহীন সমাদর দেখে সর্বজয়ার অনাদৃত, অবহেলিত বিত্তহীন ইন্দির ঠাকুরণের কথা গভীরভাবে মনে পড়লো। কি অনায্যতা, কি নিষ্ঠুরতা!
সর্বজয়া কিন্তু ওই বৃদ্ধার সমাদর দেখে নিজের তুচ্ছ গৃহকর্মীর জীবনের জন্য আক্ষেপ করার কথা, কিন্তু তা দেখাননি সাহিত্যিক। মানুষের মাঝে বিরাজমান বিত্তের ফাড়াকে একজন আয়েসে, আদরে প্লাবিত আর অন্যজন দরিদ্র, ক্ষুধার্তের জোটে, অবহেলা, অপমান।
দিলরুবা শাহানা
Related Articles
G-20 Economic Summit in London Bangladesh
The G-20 leaders met in London on April 2nd to discuss plans to tackle the current global economic crisis. The
বইপড়া ও আমার প্রান্তিক জীবন
শিকড় মানেই তো এক প্রান্ত। তবু এই প্রান্তিক শিকড়ই জীবনকে খোরাক জোগায় ও সমৃদ্ধ করে। ১৯৭৯ সালের শরৎকাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের


