বাঙালির ইতিহাস প্রেম আর ক্রিকেট
বাঙালি ইতিহাস প্রিয়- যদি ইতিহাসের সেই ঘটনা প্রবাহ হয় নিজ অনুকূলিয়। ঘটনা হতে পারে জাতীয় থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত এমনকি অধুনা খেলাধুলায়ও। বছর চারেক আগে ক্রিকেটে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে সবগুলো ODI তে হারিয়েছিল। সেই তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে তুলতে গেলো ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বাংলাদেশ গিয়েছিলো নিউজিল্যান্ড। সেখানে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ডিক্লেয়ার করে প্রথম টেস্ট হারে, যা টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় ঘটনা। দ্বিতীয় টেস্টার কথা থাক; রিদয়ের বেদনা নিয়ে আর খুড়াখুড়ি করার দরকার নেই। তারপর ODI গুলো তো ইতিহাস, তবে সেইসব কথা আমরা মনে করতে চাই না। কারণ ঘটনা আমাদের অনুকূলে ছিল না। তিন সপ্তাহ আগেও নিউজিল্যান্ডের সাথে কি বাংলাদেশ খুব ভালো মানের ক্রিকেট খেলেছে?
প্রথম আলো তার উৎপোলিও ভাষায় কার্ডিফকে ভাসিয়ে দিচ্ছে। বারো বছর আগে একবার ঝড়ে বক মরছিল, সেই সুখের ইতিহাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভাসিয়ে দিচ্ছে। ‘চোরা ধার্মিক’ আশরাফুলের এক সেঞ্চুরি আর পাগলা আলতাফের এক ছক্কা রিকি পন্টিংয়ের দলকে হারিয়েছিল, উৎপোলিও ভাষায় বাঙালি আবারো পাঠ করলো, সুখের তটিনীতে বয়ে চললো। উৎপোলিও ভাষায় আমরা আরো জানলাম মাশরাফি ‘ইচ্ছে’ করে ২০ ওভার বোলিং করতে সময় নিচ্ছিলো যাতে আম্পায়াররা ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়ম প্রয়োগ না করতে পারে। খেলা শেষ হলোনা তাই বৃষ্টির কল্যানে বাংলাদেশ এক পয়েন্ট পেলো। কথার ছলে যদি এইসব বলা হয়েও থাকে, এইগুলো কি মিডিয়াতে আসা উচিত? রিপোর্টিংয়ের নিয়ম নীতি কি বলে? ক্রিকেটারদের বৌ বাচ্চা কোন হোটেলে থাকলো, কার বাচ্চা বেশি চঞ্চল এইসব আমাদের শুনিয়ে লাভ কি? বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কি কোনো আইন নাই যে রিপোর্টারদের সাথে কোনো কথা বলা যাবে না। অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ড দলের কয়টা প্লেয়ার মিডিয়ার সাথে কথা বলে?
আজকের খেলা কেমন হবে?
বৃষ্টি হবে না তো?
ইমরুল কি আজকেও খেলবে?
নাসির বা তাসকিন?
আজকে কি কেকা আপার নুডুলস শো আছে?
থাকলে তামিমের খবর আছে।
গত কিছু খেলার ধারাবাহিকতা দেখে বুঝতেই পারছেন যে সাড়ে তিনশো রান করেও আপনি স্বস্তিতে থাকতে পারবেন না। তাই সেঞ্চুরি করেই কেউ যেন মনে না করে যে আমার দায়িত্ব শেষ, পরের ম্যাচ খেলা কনফার্ম।
ফ্রাইডে নাইটে খেলা। ইফতারি আর কুইক তারাবি শেষে অস্ট্রেলিয়াবাসী বাঙালি লেফটওভার চানামুড়ী আর কফি নিয়ে খেলা দেখতে বসে কেকা অপার কুইক নুডুলস খেতে চাইবে না। আমরা চাই ফুল ডিনার কোর্স; ডেসার্ট শেষে আবারো কফি। কাল শনিবার, সকালে উঠার কোনো তাড়া নেই।
সবাই জেতার আশা করেন ভালো কথা, কিন্তু বেশি আশা করবেন না, তাহলে কষ্ট বেশি পাবেন। তারপরেও বলি:
Go Bangladesh Go !!!!!
Related Articles
শুভদিনের পদধ্বনি – ডা. নুজহাত চৌধুরী
আজন্ম শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আমাদের কাছে এসেছে শোক, অভিমান, ক্রোধ, হতাশা ও দীর্ঘ বঞ্চনার প্রতিভূ হিসেবে। স্বজন হারানোর বেদনা ছাপিয়ে
“Saree diplomacy” between Bangladesh and India
On 25th June, India’s Minister for External Affairs Ms. Sushma Swaraj visited Dhaka for 38 hours. Ms. Swaraj stated that
The Moon that Divides – an individual’s observation
It has become a common place to find the debates raging amongst Islamic leaders in deciding the beginning and end


