১৫ই আগস্ট ২০১৭: বাংলাদেশ হাইকমিশন ক্যানবেরা

১৫ই আগস্ট ২০১৭: বাংলাদেশ হাইকমিশন ক্যানবেরা

এই পৃথিবীতে- সে ধর্মীয় হোক আর সাম্রাজ্য বিস্তার- রাজনীতি ছাড়া কোনো যুদ্ধ হয় নাই। অর্থাৎ যুদ্ধের পেছনে রাজনীতি থাকে, রাজনীতির পেছনে একটা রাজনৈতিক দল থাকে, সেই দলের একজন নেতা থাকে। ঠিক তেমনি ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধের পেছনে রাজনীতি ছিল, সেই রাজনীতির পেছনে প্রধান দল ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সেই দলের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ ও বিদেশে বসবাসরত অনেক ইতর পাকি-মাইন্ডেড এই সহজ সরল সত্যকে অস্বীকার করে। এরা বাংলায় কথা বলে, কিন্তু মাথায় পাকি সফটওয়্যার।

অনেকেই বলে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুকে দলীয় করে ফেলেছে। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ এর এতো বড় ধাক্কা সামলে বঙ্গবন্ধুকে আবার সামনে কে নিয়ে আসলো? আওয়ামী লীগ এবং তার অনুসারীরা- এতে কোনো সন্দেহ নাই। সুতরাং আওয়ামী লীগ যদি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটু বাড়াবাড়ি করেই থাকে তাতে দোষ কি? অনেকেই বঙ্গবন্ধু বলতে চান না, জাতির পিতা বলতে চান না, স্বাধীনতার ঘোষক বলতে চান না, ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু কেন স্বাধীনতা ঘোষণা দেন নাই, আরও কত কি? এতো রিজার্ভেশন নিয়ে থাকলে আওয়ামী লীগের স্টেনসের দোষ দেখি না। যদি মনে প্রাণে প্রথমে বাঙালি আর পরে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা যে কোনো ধর্মাবলম্বি হয়ে থাকেন, তবে আপনাকে বুকে হাত রেখে বলতে হবে:

জয় বঙ্গবন্ধু
জয় বাংলা।

অনেকের এই সাহস বা প্রতিজ্ঞা নেই বলেই বাংলাদেশ হাইকমিশন ক্যানবেরা আয়োজিত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবসে ছোট্ট হলরুমের অনেক চেয়ার খালি থাকে। অথচ গত সপ্তাহেই দীপুমনির সাথে আগত কিছু সাংসদের সাথে সাক্ষাৎ করতে কত ভক্তের ভীড়, ছবি তুলার প্রতিযোগিতা। একেকজন নিজের পরিচয় দেবার জন্য কত কোশেশ করলেন ! অথচ যে মানুষটা আমার দেশ আর আমার মানুষ করতে করতে জীবন দিয়ে গেলেন, যার জন্য দেশ বিদেশে আজকে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি, তার মৃত্যু দিনে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করার জন্য সময় হয় না। আমরা জাতির পিতাকে সম্মান করতে শিখি নাই, তাই নিজেরা সম্মানিত হবার যোগ্য না।

হাই কমিশনের প্রধান ফরিদা ইয়াসমিনের সুন্দর সঞ্চালনায় যথাযোগ্য পরিবেশে সন্ধ্যার সূচনা হয়। হাইকমিশনের কর্মকর্তা মামুন ভাই বরাবরের মতো খুব প্রাকটিক্যাল অর্থাৎ আমরা যেন আমাদের কাজকর্ম দ্বারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত করি, সেই প্রার্থনা করলেন। আমাদের হাইকমিশনার কাজী ইমতিয়াজ হোসেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্প অর্পণ করেন, সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে হাইকমিশনার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তিনি খুব সুন্দর করে বললেন যে আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে বুকে ধারণ করে দেশের জন্য কাজ করি তাহলেই বঙ্গবন্ধুর আত্মদান সার্থক হবে। হাইকমিশনের ফরিদা ইয়াসমিন, প্রথম সচিব নাজমা বেগম ও নাহিদা আখতার প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রীদ্বয়ের বাণী পাঠ করেন। উপস্থিত বাঙালিদের থেকে অধ্যাপক আলী কাজী, অধ্যাপক তাহের মল্লিক, ড. এজাজ মামুন, ড. আব্দুস সাদেক, জনাব নজরুল ইসলাম এবং স্বপ্না শাহনাজ ব্যক্তিগত এবং সামাজিক জীবনে বঙ্গবন্ধুর প্রভাব তুলে ধরেন। অধিকাংশ বক্তার মধ্যে একটা আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে: সরকারের ভিতর এবং বাহিরের ‘মুস্তাক’ মনা লোকদের আবির্ভাব এবং ষড়যন্ত্র। দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এবং নতুন কাশিমপুর কুঠি ইন লন্ডন সবাইকে প্রভাবিত করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাঙালি এবং হাইকমিশনের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।

জয় বঙ্গবন্ধু
জয় বাংলা।


Place your ads here!

Related Articles

National Multicultural Festival in Canberra – eat as much as you can and dance as long as you can

The National Multicultural Festival in Canberra is a signature annual event organised by the ACT Government in partnership with the

Issues concerning Bangali Migrant Youth

২০২০’র Gaan Baksho ALIVE 90.5FM’র প্রথম episode এ আপনাদের সবাইকে  স্বাগতম। It is important to identify that these issues are

Dr Yunus, Gramin Bank other issues

নোবেল লরিয়েট অধ্যাপক ইউনুস, গ্রামীন ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য প্রসঙ্গ ভূমিকাঃ নোবেল লরিয়েট অধ্যাপক ইউনুসকে নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই । যে

No comments

Write a comment
No Comments Yet! You can be first to comment this post!

Write a Comment