যে রাধেঁ সে চূলও বাধেঃ একজন অদম্য এলিজাবেথ
Australia জাতীয় বহুসাংকৃতিক মেলাতে একজন নবীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাথে কথা হল। ওনি এলিজাবেথ কিকেরত। ACT প্রদেশীয় সংসদের নবীন সংসদ সদস্য ও Multicultural Affairs, Families, Youth and Community Services Shadow Minister. আমাদের এশিয়ার দেশ গুলোতে একজন মন্ত্রী বা সাংসদ হলে দেহরক্ষীসহ কমপক্ষে পাঁচ ছয়জন মানুষ সাথে থাকত। এলিজাবেথ একা একা কয়েক টা বাজারের ব্যাগ নিয়ে হাঁটছিলেন। Rajeshwareর Traditional dress পরা দেখে ওনিই আমাদের থামিয়ে কথা বলা শুরু করলেন । এক পর্যায়ে পরিচয় দিলেন “আমি ACT সংসদের Multicultural ছায়া মন্ত্রী “। পরে ওনার সাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরষ্পরের শিকড় সম্পর্কে কিছু তথ্য শেয়ার করলাম ।
আমার শৈশব কেটেছে পাহাড়ে পাহাড়ে, ওনার দ্বীপে দ্বীপে। আমি দশ বছর বয়স পর্যন্ত ছয় মাইল পাহাড়ি রাস্তা ও কয়েকটি ছড়া ডিঙিয়ে ইস্কুলে পড়েছি, এলিজাবেথ নৌকোয়। ইংরেজি তো দূরের কথা, আমি আমাদের জাতীয় ভাষা বাংলা প্রথম বুঝেছি নয় বছর বয়সে; আর এলিজাবেথ যখন প্রথম এ দেশে আসেন তখন YES NO ছাড়া আর কোন ইংরেজি শব্দ জানতেন না। আট বছর বয়সে বাবা মার হাত ধরে Australia তে এসেছিলেন নতুন জীবনের সন্ধানে। মাত্র এক লক্ষের জনসংখ্যার ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র Tongaতে সাধারণ পরিবারে জন্ম নেয়া এলিজাবেথ জীবনের লক্ষ্য অর্জনের পথে অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কখনও থেমে থাকেনি । এক লক্ষ জনগোষ্ঠীর রাষ্ট্রে জন্ম নিয়ে বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম উন্নত রাষ্ট্রের একজন সংসদ সদস্য ও ছায়া মন্ত্রী ।
আমার ১৪ বছর বয়সে বাবা না ফেরার দেশে চলে যান আমাদের পাচঁ ভাই বোন কে রেখে আর ঠিক এরকম ছোটবেলাতেয় ওনারও বাবা মার দুঃখজনক বিবাহ বিচ্ছেদ ও বাবা জন্মভূমিতে ফিরে চলে যান তাদের পাচঁ ভাই বোন কে মার সাথে Australia রেখে । ওনার মা প্রবীণ নিবাসে রাত বারোটা থেকে সকাল আটটা কাজ করে সন্তানদের বড় করার দায়িত্ব নেন । অনেক কষ্ট থাকলেও তা তাকে দমাতে পারেনি মানুষের জন্য কাছ করার লক্ষ্য থেকে । মার মতো এলিজাবেথেরও পাচঁ সন্তান, বয়স ১৬, ১৫, ১৪, ১২, ১০ ও ৮। মাত্র 36 বছর বয়সে পাচঁ সন্তানের মা হয়েও একজন ছায়া মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন নিঃসন্দেহে বিরাট ব্যাপার । আমরা যারা সংসারের কাজে ও সন্তান পালনের জন্য আর কিছু করার কথা ভাবতে পারি না তাদের জন্য ওনার জীবন এক বড় inspiration.
এলিজাবেথের সাথে আমার জীবনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় হবার কথা কয়েক মিনিটের মধ্যে শেয়ার করি, ওনি বললেন আমাদের অতীত জীবন সংগ্রাম, values ও principles অনেক মিল। আমরা দুজনেই Australia কে সত্যিকারের বহুসংস্কৃতির দেশ ও সবার জন্য সমান সুযোগের দেশ হিসেবে দেখতে চাই ।
Related Articles
Bangladesh and Millennium Development Goals
On 20 September, 140 world leaders started a summit in New York, on the sidelines of the 65th session of
কেনবেরায় রবীন্দ্রনাথের আবক্ষ মূর্তি: সহনসীলতা, ঐক্য ও শান্তির প্রতীক
অষ্ট্রেলিয়ার রাজধানী কেনবেরায় গত শনিবার, ৭ই মে ২০১৬ বিকেল ৫টায় এসিটি চিফ মিনিষ্টারের পক্ষে এসিটি মাল্টিকালচারাল এফেয়ার্স মিনিষ্টার ইভেট বেরী
হাউস ওয়াইফ হতে চাই না
ভুল করে কোনদিন লিখিনি আমার জীবনের লক্ষ্য হাঊজ ওয়াইফ হওয়া। গালভরা শব্দ। মনে হয় খুব সন্মানের । আমার কাছে খুব


