Hortal in Bangladesh

Hortal in Bangladesh

চোখের জলে অর্জন; হরতালে বিসর্জন
ইত্তেফাক,ভোরের কাগজে সংবাদ শিরোনাম ঢিলেঢালা হরতাল,
ধরেনিলাম হরতাল সফল হয়েছে ,খালেদাজিয়া ও জামাত বিএনপি লাভবান হয়েছে,- ক্ষতি হয়েছে কার?

হরতাল ধর্মঘট গণতান্ত্রিক অধিকার এ বিষয়ে সরকার এবং বিরোধীদল একমত পোষণ করেন ।আমরা সাধারন মানুষ এবিষয়ে একমত নই ।হরতাল ,ধর্মঘট, বা আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের রীতিনীতির ও একটি ধারা থাকে এবং আছে । তাই বলেকি জনগণের ক্ষতিসাধন করে ? জাতিয় সম্পদ ধংসকরে ? হরতালের আগে গাড়ী জ্বালিয়ে , বোমা ফাটিয়ে ? ৭ই ফেব্রুয়ারি জাতীয়তাবাদী দলের খন্দকার দেলোয়ার হোসেন সরকারকে হুশিয়ারি দিলেন শান্তিপূর্ণ হরতালে বাধা দিলে লাগাতর কর্মসূচী !-লাগাতর কর্মসূচী দিয়ে বাংলাদেশে বাস করা সম্ভব হবে কিনা, বিষয়টা না ভেবেই হয়তো বা বুড়ু বলে ফেলেছেন । পাশাপাশি সংবাদ হরতালের সমর্থনে ৭টি বাস ও ২টি ব্যক্তিগত গাড়ী আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ।
ঢাকা বিঃ বিদ্যালয়ের টি এসসি চত্বরে হরতালের পক্ষে একাধিক বোমা বিসেফারন ও দুইজন আহত হওয়ার খবর পড়েছি ।তার আগের দিন রাজধানীতে একটি বাস পুড়িয়ে দেওয়া হল ,এসব কর্মকি জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির আলামত ? -বিরোধীদলকে হরতাল ঢাকার আগে বুঝতে হবে তাদের দাবি গুলি জনস্বার্থ মূলক কি না ! কারণ খালেদা একটি জাতিয় স্বার্থের বিরুদ্ধে আরিয়ল বিলের ,উন্মাদ, বর্বর, অবৈধ ভূমি দখলকারী ,ভুয়া মালিক , ও দখলকারীদের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে স্থানীয় একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বাধা দিয়েছেন ।সেই সূত্রে সেখানে একজন পুলিশ অফিসার নিহত হয়েছেন বেশ কিছু পুলিশ আহত হয়ে হাসপাতালে গিয়েছেন এবং একটি পুলিশ ফাঁড়ি ও জ্বালিয়েছেন ভাড়াকরা সন্ত্রাসীরা। চারটি অগ্নেয়াস্ত্র লুট করেছে ভাড়াটিয়া বাহিনীর সন্ত্রাসীরা । তাছাড়া কথিত জনতার হাতে ছিল ভয়ংকর সব দেশীয় মরণাস্ত্র ।যা যেকোনো সাধারণ লোকের জন্য হুমকি স্বরূপ ।ঐ সব কারণে এক অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল সেদিন।তাই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেশের একজন নাগরিক নিজের অনুভূতিতে মামলা করেন । আর সেই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাষ্ট্রও জনগণের বিরুদ্ধে ডাকাহলো হরতাল ।দোষ চাপানো হল সরকারের উপর ,হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হল রাষ্ট্রের সামাজিক , অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হল জনগণের ।জামাত-বিএনপি জোটের দুটি হরতাল হল শুধু খালেদাজিয়ার স্বার্থ রক্ষার জন্য ।অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ,খালেদাজিয়া সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সব পথেই হাঁটছেন । আসলে কি তিনি পারবেন সরকারের পতন ঘটিয়ে দুর্নীতির বরপুত্রদের বিনা বিচারে ঘরে ফিরিয়ে আনতে ? পারবেন কি ২১শে আগস্টের মামলা , ১০ট্রাক অবৈধ অস্ত্র মামলা থেকে আপনার দলীয় নেতাদের বিনাবিচারে বের করতে !যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়টি তো আপনার সংজ্ঞা বহির্ভূত বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার পতন ঘটলে আপনার স্বামীর মত আপনিও৭১জ্ঞর যুদ্ধাপরাধীদের জেল মুক্তি দিবেন তা১০০% ভাগ সত্য। দুর্নীতির মামলা গুলি তখন এক ঘোষণায় রাজনৈতিক হয়রানির মামলা হয়ে যাবে ।এদিকে দেশ যখন বিশ্বকাপের আয়োজনে ব্যস্ত,বিদেশিরা যখন আমাদের অতিথি হয়ে আসছে ,তখন ক্ষমতাচ্যুতি আর ক্ষমতা দখলের খেলা খেলে, কি অর্জন করছেন তা ও দেশবাসী বুঝতে পারছেন কি না জানিনা । বিদেশী অতিথি ও সংবাদ মাধ্যমকে সর্তক করার জন্য এই হরতাল হয়ে গেল এমন কথা মানুষের মুখে মুখে ।

হরতাল অবরোধ ও আন্দোলনের নামে জোট বেধে মরণাস্ত্র হাতে জনপথ অবরোধ করে সম্পদ নষ্ট কারিরা কি সাধারণের আওতায় পরে ? কখনো তা পড়েনা, পরতে পারেনা !কারণ সাধারণ জনগণ কখনো অসাধারণ উন্মাদনায় মানুষ নামে অমানুষ হতে পারেনা ।ইতিহাস খ্যাত বিক্রমপুরের নারীরা এভাবে মরণান্ত্র হাতে মহা সড়কে দাড়িয়ে ভয়ংকর রুপী রাক্ষসী হবে , এমনটা কোন সাধারণ বিক্রমপুর বাসি বলতে পারবেনা । ভাড়াকরা ভাসমান চরাঞ্চলের নারী পুরুষরা ঐ ভয়ংকর রূপে রাজনৈতিক কাজটি করেছেন ।ভূমি প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান ও এ জন্য অনেকটা দায়ী ।পদ্ধতিগত ক্রটির কারণে সরকার বিরোধীরা সুযোগটি পেয়েছেন ।আমি বলব প্রধানমন্ত্রীর তত্বাবধানে একটি কমিটি করে দেখা হউক সম্পত্তির প্রকৃত মালিক সংখ্যাকত , আর অন্যরা কারা !সারা বিশ্বের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা স্থায়ী ও অস্থায়ীপ্রবাসিরা একটি আধুনিক বিমান বন্দর দেখতে চায় ।

খালেদাজিয়ারা আইনের অধীনে থেকে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৩৫টি বছর রাষ্ট্রের সম্পত্তি দখল করে বসেছিলেন। আদালতে তিনি না গিয়ে ঘুপটি মেরে বসে থাকলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার তাকে ঐ বাড়ী থেকে বের করতে পারতেন না কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টা নিশ্চয়ই জানেন যে ,জনগণ বিষয়টিকে ভুল অর্থে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসাবে বিবেচনা করতেন ।তবে প্রধানমন্ত্রী যেহেতু জানতেন আইনের দৃষ্টিতে খালেদা জিয়া অবৈধ দখলদার তাই সরকার তার সম্পত্তি ফিরে পেতে নোটিশ করেছেন । সেই নোটিশের বিরুদ্ধে খালেদাজিয়া দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আইনের আশ্রয় চেয়েছেন । আর আদালত সরকারি সম্পত্তিটি সরকারের মালিকানা স্বত্বের বলে ঘোষণা দিয়ে ৩০দিনের মধ্যে সম্পত্তিটি বুঝিয়ে দিয়ে আদেশ করেছেন । সেই সুবাদে সরকার আদালতের নির্দেশ পালন করে আইন ভঙ্গের হাত থেকে বেঁচেছেন ।

এখনো সাধারণ মানুষের ধারনা শেখ হাসিনা ও তার দল উদ্দেশ্য মূলক ভাবে তাকে উচ্ছেদ করেছেন । তারা আইনের অঞ্চতার কারণে এধরণের কথা ভাবেন ।অনেকেই আমার কাছে অভিযোগ করে বলেছেন যে , ঈদের আগে তাকে ঐ বাড়ী থেকে বেড় না করলেও পারতেন ।উত্তরে আমি বলেছি এধরণের সুবিধা দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের নেই !যথা সময়ে আদালতের আদেশ পালনে সরকার ব্যর্থ হলে সরকার নিজেই আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হতেন ।তবে খালেদা সময় চাইলে হয়তো পেতে পারতেন ।আদালত অবমাননা করার ক্ষমতা রাষ্ট্রের সংবিধান কাউকে দেয়নি ।আদালতের নির্দেশ অবঞ্চা কারি অবঞ্চাকারি যেই হোক তাকে শাস্তি পেতেই হবে ।তবে খালেদা জিয়া বাড়ী থেকে বেড় হওয়ার সময় যেভাবে কেঁদেছিলেন তাতে একটি বিরাট জনতার অংশের সহানুভূতি অর্জন করেছিলেন ,আর সেই অর্জনকে তিনি হরতাল ডেকে বিসর্জন দিয়েছেন ।
হরতালের দিন পুরানো ঢাকায় একটি যাত্রী বাসে হরতাল সমর্থন কারিরা আগুনে পুড়িয়ে জনমনে আতংক
ছড়িয়েছে ।এধরনের ভয়ভীতি ওশক্তি প্রয়োগে জনমত যাচাই হয়না ।আগামীর জন্য জনস্বার্থে সরকারের
প্রতি আমার নিজের কিছু মতামত ও যুক্তি নিচে তুলে ধরছি ।

ক.জন স্বার্থে হরতাল বা কোন ধরণের রাজনৈতিক কর্মসুচীতেএমন কিছুই বহন করা যাবেনা যেমন লোহা বা কাঠ জাতিয় অথবাসাধারন মানুষ আতংকিত হয় বা ভয় পায় ।
খ.জনগণের স্বাধীন চলাচল ব্যবস্থায় কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবেনা ।
গ.আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনুমতি ছাড়া মটর বা সড়ক পথে কোন জনসমাবেশ বা মিছিল করা যাবেনা ।
ঘ.আইন প্রয়োগকারীর কাছে রাজনৈতিক দলের কর্মীকে জনসাধারণের সাথে মিলানো যাবেনা ,
ঙ.হরতালের নামে মিছিল করে সম্পত্তি নষ্ট ,অগ্নি সংযোগ, অথবা তাতে সহযোগিতা করা অপরাধের শাস্তি হতে হবে ।
চ. হরতাল বা মিছিলকারীদের মধ্যে সন্দেহভাজন উগ্রপনিথদের সাথে সাথে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ২৪ঘন্টার স্থলে ২০ ঘণ্টা বন্দী রেখে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রেপ্তারকৃতের সকল পরিচয় নথিভুক্ত
করে তাকে মুক্তি দিতে পারিবে ,তবে কোন ভাবেই তাকে নির্যাতন করা যাবেনা নির্যাতন করা হয়েছে প্রমাণ হলে আইন প্রয়োগকারীর বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে ।গ্রেপ্তার কৃতের সকল পরিচয় ও গ্রেপতারের বিবরণী আদালতে প্রেরণ করিতে পুলিশ বাধ্য থাকিবেন ।
ছ.জনসাধারণ রাষ্ট্রের সম্মানিত নাগরিক বিবেচনায় তাদের স্বার্থ সবার উপরে বিবেচনায় আনতে হবে ।
জ. এরপরও যদি রাজনৈতিক সন্ত্রাসীরা সম্পত্তি ধংস করতে সমর্থ হয় সেক্ষেত্রে যদি প্রমাণিত হয় ব্যাক্তি
বা গোষ্ঠী কোন দলীয় সদস্য তখন হরতাল , জনসভা,কিংবা সমাবেশ কারি দলকে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ
প্রদানের বিঞ্চপতী পাঠাতে হবে ,ক্ষতিপূরণ প্রদানে ব্যর্থ দল বা সংগঠনকে ঐ ধরনের কোন কিছুতে আর অনুমতি দেওয়া হবেনা ।
স্মরণ রাখতে হবে সরকারও বিরোধীদল দেশের সেবক , তাই বলে জনগণের উপরে তাদের স্থান নয় । জন গনের সম্পত্তি ধংস করে আতংকিত করে সেবক হওয়া যায়না ।অপরদিকে জনগণের জীবন, সম্পত্তি রক্ষা , আইনের শাসন কার্যকর রাখা , জনসাধারণের অবাধ চলাফেরার স্বাধীনতা রক্ষা ,সরকারের মুল দায়িত্ব ।
সভ্যতার চলমান রীতি অনুযায়ী জনগণ থেকে একটি অংশ রাষ্ট্রের মানুষের সেবায় ব্রত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে সংগঠিত হয় , আর তাকেই রাজনৈতিক দল বলাহয় ।তাই ঐ দলের বাইরে থাকা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীই সাধারণ জনগণ ।মুল অর্থে সব রাজনৈতিক দল জনগণের ।কারণ জনগণ সময়মত তাদের পছন্দনীয় একটি দলকে নির্বাচিত করে , তাই নির্দিষ্ট কোন দলই জনগণের নয় । রাজনৈতিক দল তাদের চাঁদা প্রদানকারী সদস্যদের । আর তাই জনগণের নির্দিষ্ট কোন দলনেই ।

2011/pdf/Hartal_587236253.pdf ( B) 


Place your ads here!

No comments

Write a comment
No Comments Yet! You can be first to comment this post!

Write a Comment