Few ways to reduce private car in Dhaka city

Few ways to reduce private car in Dhaka city

ঢাকা শহরে প্রাইভেট গাড়ী কমানো কয়েকটি পন্থা

সূচনাঃ

ঢাকা শহরে যানজট সমস্যা সমাধানের একটি অত্যন্ত সহজ এবং কার্য্যকরী উপায় হচ্ছে প্রাইভেট গাড়ীর সংখ্যা কমানোযানজট ঢাকা শহরবাসীর অন্যতম প্রধান সমস্যা। যে সময়টা মানুষ অফিসে, কলে-কারখানায় কাজ করতে পারত, ছাত্র ছাত্রীরা পড়াশোনায় ব্যয় করতে পারত, অথবা বাড়ীতে আরামে কাটাতে পারতো তার বিরাট একটা অংশই এখন ব্যয় হয় যান জটে আটকে কষ্ট পেতে, আর নির্বাচিত সরকারের, বিশেষতঃ এই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে খারাপ গালিগুলি রেয়াজ করতে করতে । সরকার এই সমস্যা সমাধানের জন্য অনেক কিছুই করছে বা করতে চাচ্ছে এমন ভাব আমরা দেখতে পাচ্ছি । সামান্য বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরাও বুঝতে পারে, তাদের প্রচেষ্টায় কোন কাজ হবে না । আর একটু বুদ্ধি সম্পন্ন লোকেরা জানেন, কেন কাজ হবে না । তারা জানেন, সরকারের চার পাশের লোকেরা প্রধানতঃ এমন সব বুদ্ধি দিয়ে থাকেন যা থেকে তারা লাভবান হবেন, আর ক্ষমতাশীন দল রাজনীতি ও নির্বাচনের খরচ জোগাড় করতে পারবে । সরকার এবং ক্ষমতাশীন দল বিশ্বাস করে যে, জনগনকে যত কষ্টই দেয়া হোক না কেন নির্বাচনে টাকা খরচ করলেই তাদের বিজয় নিশ্চিত হবে, যদিও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে এর বিপরীত অভিজ্ঞতা লাভ করেছে । আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ঢাকা শহরের যানজট সমস্যা সমাধানের একটি পন্থা হিসেবে শহরে প্রাইভেট গাড়ীর সংখ্যা কমানোর কয়েকটি পন্থা । তবে এগুলি সরকারের পছন্দ হবে না বলেই মনে হয়

জনবহুল মাঝারী আয়তনের শহরে মাস ট্রান্সপোর্টই যানবাহন সমস্যার ভালো সমাধানঃ

ঢাকা শহরের বর্তমান আয়তন পাতাল রেল বা মনোরেল স্থাপনের উপযোগী নয় । এমন কি এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে বা উড়াল রাস্তাও এই শহরের জন্য উপযুক্ত নয় । শহরের সামগ্রীক পরিবেশ নষ্ট করা ছাড়াও উড়াল রাস্তা মানুষের যাতায়াতের খরচ অনেক বাড়িয়ে দেবে এবং শহরের নীচের রাস্তায় যান বাহনের গতি খুবই কমিয়ে দেবে । এই প্রসঙ্গে নাইজিরিয়ায় সাবেক রাজধানী ল্যাগোসের অভিজ্ঞতা স্মরন করা যেতে পারে । যানজট সমাধানের জন্য নাইজিরিয়ায় যে সব ব্যবস্থা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশে এখন সেসব ব্যবস্থাই গ্রহন করা হচ্ছে ।

নাইজিরিয়ার সর্ব দক্ষিনে সাগরের মধ্যে আছে বন্দর শহর ল্যাগোস, যা এক সময় দেশটির রাজধানী ছিল । উন্নত দেশগুলি তেল সমৃদ্ধ দেশটির সম্পদ আহরনের জন্য যেসব পন্থা গ্রহন করেছিল তার মধ্যে একটি ছিল দেশটিতে প্রচুর গাড়ী রপ্তানি করা। বলা হতো, নাইজিরিয়ায় কুড়েঘর থেকে মারসিডিজ বের হয় । স্বাভাবিক ভাবেই এত গাড়ী যখন সারা দেশ থেকে রাজধানীতে আসতো তখন যানজটের সৃষ্টি হত । পশ্চিমা পরামর্শকদের প্ররোচনায় ল্যাগোসের ভিকটোরিয়া আয়ল্যান্ড-এ গড়ে উঠলো সুউচ্চ ভবন, আর সেখানে সরিয়ে নেয়া হল রাজধানীর গুরুত্বপুর্ন কাজকর্ম । আফ্রিকার শহর ল্যাগোসের রাস্তা যে কোন এশিয়ান শহরের তুলনায় অনেক প্রশস্ত । তা সত্বেও দেশের নানা এলাকা থেকে আসা হাজার হাজার গাড়ী শহরের আভ্যন্তরীন প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ী দিয়ে ভিকটোরিয়ায় যাতায়াত শুরু করতেই শুরু হলো প্রচন্ড যানজট । পচ্চিম থেকে উপদেশ এল, তৈরী কর এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে । এ জিনিস আবার এমন যে একটি তৈরী করলেই আরো কয়েকটি তৈরী করতে হয় । ১৯৮৮ পর্য্যন্ত তৈরী হয়েছিল ৪ লেভেলের ওয়ে । ইতিমধ্যে যানজট কমানোর জন্য প্রস্তাব এলো, একদিন পর পর বিকল্প (জোড়-বেজোড়) নম্বরের গাড়ী বেরুবে। ফলাফল, আরো নতুন নতুন গাড়ী রাস্তায় এলো । এদিকে বড় রাস্তায় জোড়-বেজোড় গাড়ী চলাচল নিয়ন্ত্রন করা গেলেও ছোট রাস্তায় তা করা যায় না এবং তাই শহরে গাড়ীর সংখ্যা আরও বেড়ে গেল এবং শুরু হলো অসহনীয় যানজট ।

এদিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে তৈরীর ফলে রাজধানী ল্যাগোসের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অল্প সময়ে যাওয়া সম্ভব হলো । কিন্তু কোন গাড়ীইতো আর এক্সপ্রেসওয়েতে থাকবে না, বরং নীচে নেমে আসবে । সেগুলি নীচে নেমে আসতেই শুরু হলো অকল্পনীয় যানজট । আগে শহরের প্রবেশ পথ থেকে ভিকটোরিয়া যেতে (ধরা যাক, ৪০ কিলোমিটার) যানজটের কারনে ৩ ঘন্টা লাগত। এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে হবার কারনে শহর অতিক্রম করার সময় কমে (ধরা যাক) ৩০ মিনিট লাগে। কিন্তু নীচে এসে ১ বা ২ কিলোমিটার পথ পার হতে ৩ ঘন্টারও বেশী লাগে । এর কারন কি ? যেকোন শহরে সাধারন নিয়ম, বড় রাস্তার গাড়ী আগে যাবে এবং ছোট লেনের গাড়ী পরে যাবে । কিন্তু শহরে গাড়ীর সংখ্যা খুব বেড়ে যখন একটি গাড়ীর কয়েক মিটারের মধ্যেই পেছনের গাড়ী থাকে তখন এই নিয়মটি উলটে দিতে হয় । তখন নিয়মটি হয়ে যায়, বড় রাস্তার গাড়ী ছোট লেনে কোন গাড়ী দেখলেই তাকে আগে যেতে দেবে, নিজে পরে যাবে । যারা এই অদ্ভুত (?) নিয়মটি বুঝতে পারছেন না তাদের অবগতির জন্য বলি, এটি করা না হলে ছোট লেনে যানজটের কারনে শহর অচল হয়ে পড়ে । (আমাদের দেশের নগর পরিকল্পনাকারীগন এই বিষয়টি জানেন বা বোঝেন কি না আমার সন্দেহ আছে )। এ নিয়মটি প্রচলিত হবার সঙ্গে সঙ্গেই যানবাহন চলতে থাকে কচ্ছপের গতিতে । যে কথা বলছিলাম, ল্যাগোস শহরের যানজট সমাধানে যখন সকল পশ্চিমা সমাধান ব্যর্থ হবার উপক্রম হলো, তখনই বলা হল, রাজধানীর স্থান পরিবর্তন করতে হবে এবং পরে তাই করা হয়েছিল । ঢাকা শহরে উড়াল রাস্তা তৈরীর পর উপরে বর্নিত যানজটের বাস্তব উদাহরন আমরা এই শহরেই দেখতে পাব ।

প্রচুর সংখ্যক মাস ট্রান্সপোর্ট বা বাস চালু করলেই ঢাকার যাতায়াত সমস্যার সমাধান হয়ে যায় । কিন্তু এখানে বাস চলাচলের সব থেকে বড় সমস্যা, প্রাইভেট গাড়ি বা রিক্সা দিয়ে রাস্তা জ্যাম হয়ে থাকা । এদের সংখ্যা মারাত্মক বেড়ে যাওয়ায় রাস্তার ট্রাফিক সিগনাল অকার্য্যকরী হয়ে পড়ে । সরকারের লোকজন মাঝে মাঝে বলে থাকে, বাস মালিকেরা এখানে বাস চালাতে আগ্রহী নয় । আসলে বর্তমান অবস্থায় এটাই তাদের জন্য স্বাভাবিক । যে সময়ে তারা ৪/৫ টি ট্রিপ চালাতে পারতো সেই সময়ে যদি যানজটের কারনে তাদেরকে একটি ট্রিপ দিতে হয় তাহলে কি তাদের ব্যবসা থাকে ? আবার এই সংখ্যক ট্রিপ চালিয়ে লাভ করতে হলে তাদেরকে যে ভাড়া দাবী করতে হবে জনগন তা দিতে পারবে না । প্রকৃ্ত সত্য এই যে, ঢাকা শহরের রাস্তায় প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা কমানো গেলে বাসের সংখ্যা এমনি বেড়ে যাবে এবং যাতায়াত সমস্যা অনেক কমে যাবে।

বিস্তারিত নিচের পিডিএফ ফাইলে দেখুন।

2011/pdf/ReduceCarsPDF_274200626.pdf ( B) 


Place your ads here!

No comments

Write a comment
No Comments Yet! You can be first to comment this post!

Write a Comment