পড়াশুনায় খরচ বেড়ে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়
দুই হাজার দশ সালে আসাদ দম্পতি অস্ট্রেলিয়ায় আসে। বিয়ে থা করে ফেললেও তখন দু’জনের বেশ পিচ্চি। স্ত্রীর পড়াশুনা উপলক্ষে স্পাউস ভিসায় সঙ্গে আসে আসাদ। কুমিল্লায় বাড়ি।
তাঁর বাবা আব্দুর রউফ দেশে একজন সৎ পুলিশ অফিসার হিসাবে প্রশংসিত ছিলেন। খালেদা জিয়ার আমলে ওএসডি হলেও ১/১১’এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আইজিপি হিসাবে তিনি অবসরে যান।
যশোরে পুলিশ সুপারের দায়িত্বেও ছিলেন। যশোরে খুব জনপ্রিয় পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন আব্দুর রউফ। তাই জনকন্ঠের যশোর অফিসের স্টাফ রিপোর্টার সাজেদ রহমান সিডনি আসার আগে আসাদকে আমার ফোন নাম্বার দেন।
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের প্রথম সংগ্রামের দিনগুলোতে সহায়তার চেষ্টার অভ্যাসটি পুরনো। প্রিয় প্রজন্ম ছেলেমেয়েরা এতটাই মেধাবী সংগ্রামী যে বিদেশে কেউ একজন তাদের প্রথম সংগ্রামের এক মাস একটু সময় দিলেই চলে।
এরপর তারা একাই পথ চলতে পারেন। আসাদও একই উদ্দেশে যোগাযোগ করেছিল। তখন রাতের বেলা কাজ ছিল সিডনি বন্দাই জংশনে। আসাদকে বলতেই সেখানে চলে আসে। প্রথম দেখাতেই মনে হয় ফাইটার। ইম্রেসিভ।
আমাদের মধ্যে আড্ডা চলেছে সারারাত। নতুনদের কাউন্সিলিং বন্ধুর মতো আড্ডায় দেয়া গেলে তা বেশি কার্যকর হয়। পরের দিন আসাদকে এক জায়গায় পাঠানোর পর তাঁর একটা চাকরিও হয়ে গিয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার জীবনে আসাদ চাকরি আর তাঁর স্ত্রী পড়াশুনায় মনোযোগী ছিল। এরজন্য তাদের সংগ্রামের সাফল্যও তাড়াতাড়ি আসে। এ নিয়ে আসাদের একটি নিজস্ব বক্তব্য আছে।
তাহলো বিদেশে যারা পড়াশুনা করতে যায় তাদের কেউ পড়াশুনায় কেউ কাজে মনোনিবেশ অথবা বিনিয়োগ বেশি করে। যারা পড়াশুনায় মনোনিবেশ বা বিনিয়োগ বেশি করে তারা রেজাল্ট পায় আগে।
স্ত্রীর ভালো পড়াশুনা ভালো রেজাল্ট শেষে সিডনিতে স্বামী-স্ত্রী দু’জনের ভালো চাকরির পাশাপাশি আসাদদের অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনও হয়ে যায়। শুক্রবার হঠাৎ করে আবার আসাদের সঙ্গে দেখা হয়।
সঙ্গে ছিলেন তাঁর বাবা-মা। তাদের সঙ্গে এমন সময় দেখা হলো যখন করোনা পরিস্থিতির জন্যে অস্ট্রেলিয়ার বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীরাও কঠিন এক সময় পার করছেন।
এই বাবা-মা’ও এই সময় অস্ট্রেলিয়া এসে আটকে গেছেন। তাদের বলা হয় সম্ভব হলে আপাতত এখানেই নিরাপদে থাকুন। দেশে এখন অনেক বিপদ। করোনার দূঃখের থাবা সবখানে। কেউ কোথাও নিরাপদ নন।
আসাদের বাবা আব্দুর রউফ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সংগঠনের সভাপতি। দূঃখের দিনে তিনি সাবেক সহকর্মীর পাশেই থাকতে চান। তবু তাঁকে নিরস্ত করে বলি, প্লিজ আপাতত এখানেই থাকুন।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমন অস্ট্রেলিয়া দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিলেও এর কঠিন প্রভাব চলছে এই দ্বীপ মহাদেশে। এদেশে পড়াশুনা করতে আসা বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের সিংহভাগ এখানে কাজ করে পড়াশুনা করেন।
কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে তাদের সিংহভাগ কাজ হারিয়েছেন। তাদের সিংহভাগ এখনও কাজ ফিরে পাননি। এখন মড়ার ওপর খড়ার ঘা হিসাবে দুঃস্বপ্নের মতো নতুন দুঃসংবাদটি হলো এদেশের সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পড়ার খরচ বাড়াচ্ছে।
উল্লেখ্য অস্ট্রেলিয়ায় সরকারি স্কুলে দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত নাগরিক ছেলেমেয়েদের ফ্রি পড়াশুনার ব্যবস্থা আছে। দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশুনাকেই অধিকার বিবেচনা করা হয়। এরপর শিক্ষা ব্যবস্থা একটি লাভজনক শিল্প।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ছাত্রছাত্রীদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ঋনে পড়াশুনার ব্যবস্থা আছে। প্রতিটি নাগরিকের মতো উচ্চ শিক্ষার প্রতিটি ছাত্রছাত্রীদের আছে একটি ট্যাক্স ফাইল নাম্বার।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সেই ছাত্র বা ছাত্রীর ট্যাক্স ফাইল নাম্বারের বিপরীতে টিউশন ফী হ্যাক্স তথা শিক্ষা ঋন হিসাবে দেয়া হয়। কর্মজীবনে যাবার পর কিস্তি হিসাবে ফেরত নেয়া হয় সেই শিক্ষা ঋন।
এর বাইরে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের অন্যতম বড় উৎস বিদেশি ছাত্রছাত্রী। লাভজনক বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের বড় অংশ আবার চীনা ছাত্রছাত্রী। কারন তাদের সিংহভাগ পুরো ফান্ড সঙ্গে নিয়ে আসেন।
বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ছাত্রছাত্রীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আসেন একটি টিউশন ফী জমা দিয়ে। বাকি টিউশন ফী তাদের বেশিরভাগ কাজ করে দেন। কিন্তু লাল পতাকার দেশ হলেও চীনাদের এখন অনেক ব্যক্তিগত সম্পদ বৈধ।
সিংহভাগ চীনা ছাত্রছাত্রী এখানে পৌঁছবার আগেই তাদের টিউশন ফীর পুরোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছে।
আমেরিকাকে খুশি করতে করোনা ভাইরাসের চীনা উৎস সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়ার তদন্ত দাবি করলে সেখান থেকে সমস্যার সূত্রপাত। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে চীন অস্ট্রেলিয়া থেকে মাংস আমদানি বন্ধ করে দেয়। উচ্চ শুল্ক আরোপ করে বার্লি আমদানিতে।
অথচ একক দেশ হিসাবে অস্ট্রেলিয়ার গরু-ভেড়া-শুকর খামারী, বার্লি চাষীদের উৎপাদিত পণ্যের বড় ক্রেতা-বাজার চীন। দাবানলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতির ক্ষত সারানোর সময় অস্ট্রেলিয়ায় আসে করোনার ধাক্কা।
করোনার সংক্রমন ঠেকাতে নানাকিছু বন্ধ করে দেয়ায় প্রশান্তপাড়ের দেশটায় সপ্তাহে ক্ষতি হয়েছে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি। নানাভাবে এদেশটির অর্থনীতির নানাকিছুর সঙ্গে চীনা সম্পর্ক, চীনা পর্যটকদের আসা যাওয়া গুরুত্বপূর্ন।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক লেবার পার্টির সরকারের প্রধানমন্ত্রী কেবিন রাড চীনা ভাষাও জানতেন। তাঁর সময়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে। এমন কি সেই সময়ের অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবও অস্ট্রেলিয়ায় পড়েনি।
কারন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক। লাল পতাকার দেশটি ভাঙ্গতে পারে কিন্তু মচকায়না। চারদিকে সাগর থাকায় অস্ট্রেলিয়ার কোন স্থল সীমান্ত নেই। করোনার কারনে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় আকাশ সীমান্তও বন্ধ।
এবং সম্ভবত এ বছর এ সীমান্ত আর খুলবেওনা। চীনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির পর চীন নিজের দেশের ছাত্রছাত্রীদের অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাবার ব্যাপারেও সতর্ক করেছে। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার নানা তথ্য ভান্ডারে সাইবার হামলা হয়েছে।
ধারনা দেয়া হয়েছে এর পিছনেও চীন জড়িত থাকতে পারে। এরপর থেকে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার এডুকেশন ইন্ডাস্ট্রিতেও। কারন এটি মোটামুটি আয় ভিত্তিক শিল্প।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো সরকারি মঞ্জুরিতে চলেনা। এখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ বেশি। কারন তাদের ক্যাম্পাস বড়। তাদের পরিচালনা ব্যয় বেশি।
বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো এক ফ্লোর দুই ফ্লোর বিশ্ববিদ্যালয়ও এখানে আছে। তাদের টিউশন ফী কম। তবে সেই কমটাও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি।
যেমন ২০১০ সালে আসাদের স্ত্রী যখন এদেশে প্রফেশনাল একাউন্টিং পড়তে আসেন তখন তাঁর দুই বছরে শুধু টিউশন ফী ৫০ হাজার ডলারের মতো লেগেছে। বাংলাদেশের টাকায় যা তিরিশ লাখ টাকার বেশি।
বাড়িভাড়া সহ নানান রাহা খরচতো আলাদা। অস্ট্রেলিয়ার একজন ছাত্রছাত্রীর শেয়ারের বাসায় থাকতে গেলেও সপ্তাহে রাহা খরচ কমপক্ষে পাঁচশ ডলার। এমন ব্যয়বহুল দেশে পড়াশুনায় আসার আগে সাতবার ভাবতে হবে।
এখন অস্ট্রেলিয়ার সরকার নতুন প্রস্তাবনায় শুধু কমার্সে বিভিন্ন শাখায় টিউশন ফী পঁচিশ শতাংশ বাড়াচ্ছে। আবার ক্রিয়েটিভ আর্টস, কমিনিউকেশন্স, হিস্ট্রি, ইকনমিক্স, পলিটিক্স, সোসাইটি এন্ড কালচারের মতো বিষয়ে টিউশন ফী দ্বিগুন করা হচ্ছে।
কৃষি, নার্সিং, ম্যাথ, সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজির মতো নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে টিউশন ফী কমানো হচ্ছে। এসব বিষয়ে ৪০ হাজারের মতো আসনও বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীরা এসব বিষয়ে পড়তে আসেননা।
বাংলাদেশে সবাই যেমন কাজের বাজার থাকুক না থাকুক, বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী বিবিএ-এমবিএ পড়তে চান, তেমনি গত দশ বছরে যত ছাত্রছাত্রী অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন তাদের সিংহভাগ এসেছেন প্রফেশনাল একাউন্টিং’এ।
কিন্তু এ বিষয়ে এখন এখানে চাকরি এবং অভিবাসন পাওয়া কঠিন। বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবকের বেশিরভাগ যে দেশে পড়তে যাচ্ছেন সেখানকার কী চাহিদা তা জানতেও চান না।
এমনিতে অস্ট্রেলিয়ার যার টিউশন ফী সেমিস্টারে দশ হাজার ডলারের মধ্যে তাদের সিংহভাগ কাজ করে টিউশন ফী দিতে পারে। কিন্তু নতুন পরিস্থিতিতে টিউশন ফী বেড়ে পনের-কুড়ি হাজার ডলার হয়ে গেলে সেটি কাজ করে দেয়া কঠিন।
এখন আবার এদেশে নতুন ছাত্রছাত্রীদের কাজ পাবার সুযোগ দুরুহ। পুরনোরাই কাজ ঠিকমতো পাচ্ছেনা। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিমান কর্মী সহ নানান প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে সরকার সুপার মার্কেট সহ নানা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গেছে।
সে কারনে বিদেশি ছাত্রদের অনেকে এখন আগের মতো শিফট পাচ্ছেনা। এমন নানান সংকটে নতুন শিক্ষাবর্ষে বিদেশি ছাত্রছাত্রীর এনরোলমেন্টেরও তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে। এরজন্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ছাটাই শুরু করেছে লোকবল।
কারন আবেগে অর্থনীতি চলেনা। এখন যারা বিদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া আসেন তাদের নিজ খরচে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারিন্টিনে থাকতে হয় হোটেলে। বিদেশি ছাত্রছাত্রী আকৃষ্ট করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ক্যানবেরার একটি বিশ্ববিদ্যালয়।
তারা বিশেষ ফ্লাইটে ছাত্রছাত্রী এনে তাদের হোটেল কোয়ারিন্টিনের নিজের খরচে দেবার উদ্যোগ নিয়েছে। কারন যে অর্থনীতি। জগতের সবকিছুর কারন অর্থনীতি। করোনা সংকট এমন নানান হিসাব-নিকাশ ভেঙ্গে দিচ্ছে সারা বিশ্বে।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বেতন বাড়ালে বড় ছাত্র আন্দোলনের ঝুঁকি দেখে সরকার। অস্ট্রেলিয়ায় এমন আন্দোলন হয়না। একটা আশার কথা টিউশন ফী বাড়ানোর বিরোধিতা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মীদের ভেতর থেকে উঠেছে।
তারা সরকারের উদ্দেশে খোলা চিঠিতে লিখেছে এখন টিউশন ফী বাড়ালে বিদেশি ছাত্র আসা বন্ধ হয়ে গেলে তারা চাকরি হারানোর ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। চাকরি হারানো বা সংযোজনের বিষয়টি আবার অস্ট্রেলিয়া সরকার গুরুত্ব দেয়।
ভোট বা ভোটারের মন হারাতে কে ভালোবাসে! যদি টিউশন ফী না বাড়ে যদি বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদের আসা অব্যাহত থাকে এটা বাংলাদেশের পরিবারগুলোর জন্যে ইতিবাচক সংবাদ হবে।
ছেলেমেয়েরা যদি নিরাপদ একটা দেশে নিজের উপার্জনে পড়তে পারে তাহলে পরিবারগুলোর উদ্বেগ কমে। তেমন নিরুদ্বেগ একটি পরিবারের মা-বাবা’র স্বস্তি আর শান্তির নির্মল হাসি দেখার যে কি আনন্দ তা বলে বোঝাবার নয়।
অনেক হয়েছে করোনা। এবার দূর হও। অথবা অন্তত সংযত হও।
ছবিঃ প্রিয় প্রজন্ম আসাদ, তাঁর বাবা-মা’র সঙ্গে শুক্রবার সিডনির লাকেম্বায়।
Related Articles
Does Begum Khaleda Zia step out of anti-India posture?
Bangladesh people have to grasp geo-political realities of the country. One can choose friends but not neighbours because geography dictates
Book launch: Vulnerability and Adaptation to Climate Change in Bangladesh by Bangladesh Scientist Dr Younus
Bangladeshi-Australian Research Fellow of Adelaide University, Dr Younus’ book entitled ‘Vulnerability and Adaptation to Climate Change in Bangladesh’ has recently
When is the Eid Al-Fitr 2016 holiday, as predicted by NASA?
Eid Al-Fitr is expected on Wednesday July 6 after a 30-day Ramadan, but public holidays start from as early as


