মেলবোর্নে বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে শোকসভা আয়োজন

মেলবোর্নে বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে শোকসভা আয়োজন

বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মেলবোর্ন, ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া গত শনিবার (২৬শে অগাস্ট , ২০১৭) মেলবোর্ণের হপার্স ক্রসিং এর সেন্ট্রাল পার্ক এ বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের জন্য একটি শোকসভা আয়োজন করে। মেলবোর্নে বসবাসরত বাংলাদেশীরা এতে স্বতঃফুর্তভাবে অংশগ্রহন করে। এক মিনিট নীরবতা এবং জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি ডঃ সানিয়াত ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের মঞ্চে আসন গ্রহনের পর স্বাগত বক্তব্যে সভাপতি মফিজুল ইসলাম বলেন “বঙ্গবন্ধুর অবদান বাংলাদেশের আত্মার সাথে মিশে আছে, তিনি এবং বাংলাদেশ একই সুত্রে গাঁথা। বঙ্গবন্ধু কে ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনা করা যায় না।বিদেশে থেকে দেশের বিরুদ্ধে সমস্ত ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।তিনি না থাকলে আজকে আমরা নিজেদেরকে বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে পারতাম না। তারপর বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বাংলাদেশ (কেন্দ্রীয় কমিটি) অনুমোদিত বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মেলবোর্ন, ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার নতুন কমিটি সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।

আগত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি ডঃ আবুল কাশেম, সহ-সভাপতি জনাব ফেরদৌস মোল্লা, বিশেষ অতিথি বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও কলামিস্ট জনাব কাজী সেলিম, বঙ্গবন্ধু কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়ার কোষাধ্যক্ষ জনাব মেহেদী রব এবং প্রধান অতিথি বঙ্গবন্ধু কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট জনাব শেখ শামিমুল হক। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জনাব আব্দুল কুদ্দুস, জনাব মোর্শেদ কামাল, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম রহমান চৌধুরী সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুযুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট জনাব এহতেশামুল কবির সহ আরও অনেকে।

সহ-সভাপতি ডঃ আবুল কাশেম, বঙ্গবন্ধু মত নেতা না হলে, হয়ত এখনও পাকিস্তানিদের হাতে শোষিত হতাম, পাকিস্থানিদের অন্যায় অত্যাচার ও বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ স্মরণ করেন ও তার আদর্শে জীবন গড়ার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু না হলে বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে আসতে পারতাম না, হয়ত এখনও পাকিস্তানিদের হাতে শোষিত হতাম।” সহ-সভাপতি জনাব ফেরদৌস মোল্লা সমস্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ও বঙ্গবন্ধুর শহীদ পরিবারকে স্মরণ করেন তাহাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে সমস্ত ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা জনাব কাজী সেলিম বলেন “ বাংলাদেশ বাংলাদেশিদের কিন্তু বঙ্গবন্ধু সবার। প্রতিবেশী দেশ ভারতে বঙ্গবন্ধুর প্রচুর সমর্থক রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পরা উচিত। ”
প্রধান অতিথি শেখ শামিমুল হক বঙ্গবন্ধু কাউন্সিলের মাধ্যমে কিভাবে বঙ্গবন্ধুকে অস্ট্রেলিয়াতে একটি সার্বজনীন নামে পরিচিত করেছেন সেটার ইতিহাস তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীটি তুলে দিতে অনুরোধ করেন। বঙ্গবন্ধু কে, কেন হাজার বছরের সেরা বঙ্গালী বলা হয় তার ব্যাখ্যা করেন। মানুষের মাঝে তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিছেন বলে, তার ডাকে বাংলাদেশের সমস্থ মানুষ এক হয়ে সারা দিয়েছিল ও জাপিয়ে পড়েছিল।তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ ভিক্টোরিয়াকে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সাধুবাদ জানান এবং বঙ্গবন্ধু কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়া ভবিষ্যত পথচলায় সাহায্যের অঙ্গীকার করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধু পরিষদের মাননীয় সাধারন সম্পাদক জনাব ড: এস এ মালেক দূরালাপনীর মাধ্যমে যুক্ত হন এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বলীয়ান হয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশের জন্য কাজ করে যাবার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, “বঙ্গবন্ধুর মতোই জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি চক্র ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং যেকোনো মূল্যে এদের রুখে দাঁড়াতে হবে”।দূরালাপনীর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মাননীয় সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদির, উপস্থিত সকল বঙ্গবন্ধুর অনুসারি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ ভিক্টোরিয়ার সকল কর্মকর্তাগনকে শুভেচ্ছা জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জনাব মফিজুল ইসলাম বলেন “মেলবোর্নে বঙ্গবন্ধু পরিষদ প্রতিষ্ঠা হওয়ার একটা কারন ছিল বিদেশের মাটিতে রাজাকার-জামাত ইসলামি-জঙ্গি ও বাংলাদেশ সরকার বিরোধিদের প্রোপাগান্ডা রুখে দাঁড়ানো। আমাদের যে স্বাধীনতা তিনি দিয়ে গেছেন তা সংরক্ষণ করতে হবে, শেখ হাসিনার সরকারের সাহায্য করতে হবে, জঙ্গি-রাজাকার-সন্ত্রাসিদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে, বিদেশে থেকে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের জন্যে কাজ করে যেতে হবে। তিনি মেলবোর্নে নিজেদের মধ্যে দলাদলি না করে একসাথে দেশের জন্যে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।


সহ-সভাপতি জনাব কাশেম বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের এবং ২১শে অগাস্টের হামলায় নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন। এতে আরো জননেত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু এবং সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সফলতা কামনা করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা ও স্বার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি ডঃ সানিয়াত ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদিকা সেহেরুন্নেসা রুনা।


Place your ads here!

Related Articles

বাংলাদেশের ভোট : আদর্শ ব্যবস্থা কী?

বাংলাদেশের সংসদ এবং বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পদ্ধতি বর্তমানে যেমনটা রয়েছে সেরকম করে কি নির্বাচনের উদ্দেশ্য পূরণ করছে? না করলে

Special Benefits given to Non-Resident Bangladeshis (NRBs)

Bangladesh High Commission, Canberra : Press Release (25 September 2009) In July 2008, the Ministry of Expatriates’ Welfare and Overseas

Bangladeshi Australian Finalists for 'Australian of the Year 2009'

Chowdhury SadaruddinGunnMuslim community leaderChowdhury Sadaruddin’s contribution to the Islamic community in Darwin is significant. As President of the Islamic Society

No comments

Write a comment
No Comments Yet! You can be first to comment this post!

Write a Comment