Shanjib Chowdhury passes away

Shanjib Chowdhury passes away

সঞ্জীবের জন্য এ শহর কাঁদবে বহুদিন – প্রতীক ইজাজ – সমকাল
শ্রদ্বা জানাতে আসা নানা পেশার বরেণ্য মানুষ সঞ্জীবকে নিয়ে গতকাল খুলে ধরেছিলেন তাদের স্মৃতির খেরোখাতা। কারো সঙ্গে সম্পর্ক ছিল বন্ধুর, কারো সঙ্গে ‘আপনি’। কিন্তু সবার কাছেই সঞ্জীব ছিলেন প্রাণের মানুষ। কত আড্ডা, কত গল্প তাদের সঞ্জীবকে নিয়ে। সেসব কষ্ট গাথাই তারা তুলে ধরেছেন সমকালের কাছে।

shanjib_978449261.jpgshanjib_family_326862216.jpg

সুবীর নন্দী : সঞ্জীবের বড় গুণ ছিল তার গায়কী ঢং। সঙ্গীতের শেকড়ের গানগুলো গাইতেন তিনি। অথচ কষ্ট থেকে গেল তিনি নিজেকে চিনতে পারলেন না। তার সবচেয়ে বড় অবদান যেটি তা হলো, নতুন প্রজন্মকে সঙ্গীতমুখী করেছেন। ঐতিহ্যের গানগুলো নিজের মতো করে মানুষের জন্য গেয়েছেন। তার বোহেমিয়ান জীবন তাকে মানুষের আরো কাছে এনেছে। সঞ্জীব চৌধুরী একজন সৃষ্টিশীল মেধাবী মানুষ ছিলেন।

মামুনুর রশীদ : সঞ্জীবের ভেতর নাটকের ভাবনা ছিল অন্যরকম। কল্কপ্পনাশক্তি এত প্রবল ছিল যে, চিত্রনাট্য নিয়ে ওর সঙ্গে বসলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া যেত। ওর ভেতরে ছবির ভাষা ছিল স্পষ্ট। যেমন করে ও ভোরের কাগজের মেলা পাতা সাজাত। পড়তে মোটেই কষ্ট হতো না। বিনোদন যে এত সহজেই মানুষের ঘরের মধ্যে ঢুকে যেতে পারে, তা সঞ্জীবের কাজ থেকে আমি দেখেছি। ওর বড় গুণ ছিল ও সহজেই যে কাউকে আপন করে নিতে পারত। এই যে কাউকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করা এটা কিন্তু সরল প্রাণ না হলে সম্ভব নয়। সঞ্জীব অনেক কিছুই সম্ভব করেছে। গান, কবিতা, নাটক, সাংবাদিকতা সব। শুধু নিজের জীবনের হিসাব কখনো করতে পারল না। ছুটে চলতে চলতে সঞ্জীব এক সময় দাঁড়াল ঠিকই, কিন্তু তখন আর ও আমাদের নয়। অন্য জগতের, অন্যখানে। সঞ্জীবকে আজো চেনা হলো না আমার।

শংকর সাঁওজাল : ছাত্র ইউনিয়নের এক অনুষ্ঠানে একবার এক গানের রিহার্সেà

¦²à§‡ কিছুতেই অন্যদের সঙ্গে সঞ্জীবের গলা মিলছিল না। এ জন্য প্রচ- বকুনি দিয়েছিলাম ওকে। হয়তো অভিমানও করেছিল। গলা লাগাতে না পারার কারণে খুব মেজাজও খারাপ হয়েছিল। সেই সঞ্জীবই একদিন সঙ্গীতের নন্দিত শিল্কপ্পী হয়ে উঠল। শুধু সঙ্গীতেই নয়, গলা লাগালো মনেও। সঞ্জীব মানুষের বিক্ষুব্ধ সময়ের একমাত্র সহচর। এতটা যাপিত জীবনে ও এতটাই বেহিসেবি মানুষ ছিল যে, হিসাবের খেরোখাতা খুলে কখনোই দেখা হয়নি তার। চলেছে, চলেছে, তো চলেছেই। তারপর তেল ফুরিয়ে গেলে আজ সরে পড়ল অলক্ষ্যে, অন্তরালে। কিন্তু এই শহর সঞ্জীবের জন্য বহুদিন কাঁদবে।

বাপ্পা মজুমদার : দলছুট গঠনেরও অনেক আগে থেকে সঞ্জীব দার সঙ্গে পরিচয় আমার। ভোরের কাগজে মেলার আড্ডায় যেতাম তার সৃষ্টিশীলতা দেখতে। একটা মানুষ কেমন করে শুধু কিছু তরুণ-তরুণীর কাছে নন, সময় ও তারুণ্যের কাছেও ‘সঞ্জীব দা’ হয়ে যান তা দেখতাম আর ভাবতাম। ভীষণ ভালো মানুষ ছিলেন বলেই তার সঙ্গে দলছুট করতে পারলাম ও নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছিলাম। গান গাইতে গাইতে যদি কখনো ভুল করত তো আপনিই জিভ কেটে বলত আর যাই বলো, সঞ্জীব বলে তো কথা। দেখিস সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। হয়েছে, সব ঠিক হয়েছে শুধু সঞ্জীব দা নেই। সঞ্জীব দা গুনগুন করে গাই গাইতেন। আমি মুগ্ধ হয়ে শুনতাম। অফিসে, আড্ডায়, হাঁটতে হাঁটতে কিংবা অভিমানে গাইতেন। গানের ভেতরের মানুষ ছিলেন তিনি। তার বেহিসেবি জীবনের ব্যাপ্টি এত বড় ছিল যে, মাঝে মধ্যে লাগাম টানতে যেয়েও ভয় পেতাম। ভাবতাম কবে সঞ্জীব দা একটু স্টি’র হবেন। সঞ্জীব দা স্টি’র হলেন তবে একা, আমাদের রেখে, অভিমানে অন্য কোনো গ্রহে। আমরা একজন যোব্দাকে হারালাম।

কামরুজ্জামান কামু : সঞ্জীব দা না চাইলে হয়তো কোনোদিনই গান লেখা হতো না আমার বা গানের সংসারে মন বসত না। রংপুর থেকে একজন মফস্বলের ছেলে হিসেবে যখন এই শহরে এলাম, প্রথম পরিচয় সঞ্জীব দার সঙ্গে, ভোরের কাগজে। কবিতা

লিখতাম, কিন্তু তা যে এতদহৃর এখানেও উড়ে এসেছে জানতাম না। সঞ্জীব দা জানালেন। একদিন বললেন, শোন আমার জন্য গান লেখ। আমি তোর অপেক্ষাতেই ছিলাম । তুই এলে আমার জন্য গান লিখবি। সঞ্জীব দার জন্য গান লিখেছিলাম অšøত ১৫-১৬টি। এর মধ্যে ৬-৭টি সঞ্জীব দা গেয়েছেন। এগুলোর মধ্যে এখনো ‘তোমার বাড়ির রঙ্গের মেলায় দেখেছি এক বায়োস্কোপ, বায়োস্কোপের নেশা আমার কাটে না’, ‘আগুনের কথা বল্পব্দুকে বলি’, ‘হাতের উপর হাতের পরশ ধরে না, আমার বল্পব্দু, আমার বল্পব্দু হবে না’সহ কয়েকটি গান মানুষের মুখে মুখে শুনি। মজা লাগে সঞ্জীব দা যখন শিশুর মতো সারল্য নিয়ে গানগুলো গাইতেন। গানের মধ্যে ঢুকে যেতে তাকে দেখেছি, রাতের পর রাত পথে পথে ঘুরতে, নিরলস আড্ডা দিতে তারপর এক সময় ঢুকে যেত গানের ভেতর। গান গাইতেন প্রাণ দিয়ে। তবে বোধের মধ্যে কথা না ঢুকলে সঞ্জীব দা সেই গান ছুঁয়েও দেখতেন না। সঞ্জীব দা আমার কাছে বোহেমিয়ান জীবনের এক কিংবদন্তী হয়ে থাকবেন। তার জন্য বুকে জমে থাকা কষ্ট হয়তো আমাকেও তাড়া করে ফিরবে বহুদিন।

link anim anamika


Place your ads here!

No comments

Write a comment
No Comments Yet! You can be first to comment this post!

Write a Comment