বিদেশে দুই প্রজন্মের চিন্তাধারা এবং সাংকৃতিক পার্থক্য
৭ বছর হলো বর্না ও শুভ তাদের ৩ সন্তান সহ অস্ট্রেলিয়া মাইগ্রেট করেছেন।প্রথম সন্তান সোমা (১৭) দ্বিতীয় বাঁধন (১৩) আর তৃতীয় শান্তা (৮)।
অনেক স্টাগেল করেও শুভ বাংলাদেশে যেমন পদে নিযুক্ত ছিলেন তেমন পদ অস্ট্রেলিয়ায় আর পান নি।তার দু:খ সেখানে নয়, দিন দিন ছেলে মেয়েগুলো উচ্ছন্নে যাচ্ছে বলে তার ধারনা। বড় মেয়ে সোমা তার সঙ্গে কথাই বলতে চায় না যদিও বলে বেয়াদবের মতন চঁখে চোঁখ রেখে কথা বলে, মুরুব্বীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নেই বল্লেই চলে।
বর্না ভাবে বাঁধন ভালই ছিল প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত কিন্তু হাই স্কুলে খারাপ রেসাল্ট করার পর ওর বাবা যেদিন ওঁকে পেটালো তার পর থেকে ছেলেটা তার আর আগের মতন নেই বাসায় সময় কাটাতে চায় না, নিজের রুমেই থাকতে পছন্দ করে, সেদিন ওর বাবার ওর গায়ে হাত দেওয়াটা হয়তো বাড়াবারি হয়ে গেছিল কিন্তু মার না খেয়ে মানুষ হবে কি করে? আমাদের অভিভাবকরাও তো এভাবেই আমাদের শৃঙ্খলা শিখিয়েছেন। আসলে আর কিছুই নয় এখানকার স্কুল বাচ্চাদের শিখায় কেও তোমার গায়ে হাত দিতে পারবে না এটা বেআইনি তাই বাঁধন মনে করছে ওর বাবা ওঁকে মেরে ভুল করেছে কিন্তু এখানকার বাচ্চারা মার খায়না দেখেই উচ্ছন্নে যায়, পড়ালেখা না করে গভর্নমেন্টের টাকায় চলে, আমরা যা করছি তা যে ভালোর জন্য সেটা সে বড় হয়ে বুঝবে।
বেশ কিছুদিন হয় শুভ ও বর্না লক্ষ করছেন তাদের ছোট মেয়ে শান্তা স্কুলে ভর্তি হবার আগ পর্যন্ত বেশ বাংলায় কথা বলতো কিন্তু যত বড় হচ্ছে ততই বাংলা বলতে চাইছে না। শুভ ও বর্নার মদ্ধে এই ব্যাপারে তুমুল ঝগড়া, শুভ মনে করেন মা’র কাছ থেকেই মেয়ে শেখে আর বর্নার কথা হলো সে সারাদিন রিটেলে চাকরি করে বাসায় এসে রান্না করবে, বাচ্চাদের পড়াতে বসাবে, ঘরের বাকি কাজ করবে নাকি বাংলা শিখাবে। তবে দুজনই একমত যেসব বাবা মা গর্বের সাথে বলে আমার ছেলে মেয়ে কিন্তু বাংলা বলতে পারে না, তাদের মতন তারা হবেন না। আত্মীয় বন্ধু বান্ধবদের মাঝে এরচেয়ে লজ্জার আর কি হতে পারে।
এতক্ষন যে পরিবারের গল্প শুনছিলেন সেটা আর আট দশটি মাইগ্রেন্ট পরিবারেরই গল্প, ঠিক এভাবেই এক দেশে বেড়ে ওঠা বাবা মা অন্য দেশে সন্তান বড় করতে গেলে সংস্কৃতিও প্রজন্মের ব্যাবধান দিন দিন বাড়তে থাকে, এক সময় যত ত্যাগ তিতিক্ষাই সহ্য করতে হোক না কেন, অভিভাবকরা নিজেদের ব্যার্থ বলে মনে করতে থাকেন। কেউ কেউ মেনে নেন বাস্তবতা এবং মানিয়ে নেন নিজেদের নতুন পরিবেশে আর কেউ কেউ সমাজের নিন্দা, কটুক্তি না মেনে নিতে না পেরে সন্তানদের সাথে ক্রমাগত কঠোর আচরন করে থাকেন, যার ফলাফলে এই প্রজন্মের ব্যাবধান আর কখনই মেটে না। প্রিয় দর্শক শ্রোতা আজ আমাদের আলোচনার বিষয় “Intergenerational and culture gap between first and second generation Bangladeshi Australians”. আমরা কথা বলবো এক জোড়া বাবা ও ছেলে আর মা ও মেয়ের সাথে, আলোচনা হবে তাদের অভিগ্যতার আলোকে আমরা বুঝতে চেস্টা করবো প্রজন্মের এবং সংস্কৃতির ব্যাবধানটা কিভাবে কমানো যায় কিংবা না কমলেও তা মেনে নিয়ে তাকে আলিঙ্গন করে বেঁচে থাকা যায়।
Intergenerational and Culture GapDiscussing intergenerational and culture gap between first and second generation Bangladeshi Australians
Posted by Gaan Baksho on Sunday, July 28, 2019
Related Articles
DUAAA Ekushey Celebration Announcement
Dhaka University Alumni, Australia (DUAA) Ekushey Celebration Announcement
চোখের আয়না মনের জানালা
দাদি মেজোকে কোলে নিয়ে আমাকে বলল চল নদী দেখে আসি। আমি দাদির শাড়ির আচল ধরে পিছনে পিছনে চললাম। নদীর পাড়ে
Labour Law 2013: Will it satisfy the US?
Labour Law 2013: Will it satisfy the US? By Barrister Harun ur Rashid Former Bangladesh Ambassador to the UN, Geneva


