প্রাণবন্ত আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক্স শাহীন স্কুল এন্ড কলেজের পিকনিক
৩০ সেপ্টেম্বর সিডনির অস্ট্রেলিয়ান মাউন্ট আনান – বিগ আইডিয়া গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হলো এক্স বিএএফ শাহীন স্কুল এন্ড কলেজের পিকনিক। এক্স শাহীন এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে দিনব্যাপি জমজমাট এ আয়োজনে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও শুভাকাংখীরা যোগ দেন।
এক্স শাহীন নাসিম সামাদ, আহবায়ক লিংকন শফিউল্লাহ সংগঠনটির উদ্দেশ্য ও এর প্রয়াস তুলে ধরেন এবং আগত সকল অথিতিদের স্বাগত জানান। সারাদিন ছিলো নানারকম খেলাধুলা আর আড্ডা। খেলাধুলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো পুরুষদের ৫০ মিটার দৌড়, বাচ্চাদের চকলেট দৌড়, বড়দের মোরগ লড়াই, মহিলাদের ওপেনটি বায়োস্কোপ ও বাচ্চাদের টেন্ট গেম শো l এ পর্বের তত্বাবধানে ছিলেন সাইরা, ফারিহা, লিংকন, রুমানা হক, এহসান রেজা, মামুন, রাসেল, সাজ্জাদ, হাসিন ও ডাব্লিউ রুবেল।
দুপুরে ছিলো পোলাও, চিকেন রোষ্ট, মাটন কারি, মাছের দোঁপিয়াজু, ভেজিটেবলসহ সুস্বাদু খাবারের ভোজ ও ফলমূল। এই পর্বের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন রান্নাঘর মিন্টো। ১৯৯১ ব্যাচ বিভিন্ন ধরনের ফলের যোগান দেন, অতিথিগণ এধরনের আয়োজনে নতুনত্ব খোঁজে পান। এবারের পিকনিকের সবচেয়ে মজার পর্ব ছিলো মধ্যাহ্নভোজের ফাঁকে ফাঁকে নাসিম সামাদ, লিংকন, আবু রেজা আরেফিন, ফারিহাসহ অন্যান্যদের হাস্যকৌতুক রসবোধে।
এরপর বিজয়ীদের মধ্যে পুরুষ্কার বিতরন করা হয়। এ পর্বে স্পনসর করেছেন নাসিম সামাদ ও জন্মভূমি টেলিভিশন অস্ট্রেলিয়ার সিইও রাহেলা আরেফিন ও সাইরা মির্জা । পুরো অনুষ্ঠানটির ভিডিও ধারন করেছেন রুবেল। সর্বশেষ ছিলো র্যাফেল ড্র। এতে সামীন শাখাওয়াত জিতে নেয় ‘কন্জুস’ মঞ্চ নাটকের দু’টো টিকেট। এসময় সংগঠনটির উদ্যোগে সর্বকনিষ্ঠ এক্স শাহীন হিসেবে অনুপ্রেরণামূলক সম্মাননা প্রদান করা হয় সামীন শাখাওয়াতকে।
লিংকন শফিউল্লাহ তার অনবদ্য উপস্থাপনায় উপস্থিত সকলকে মোহিত করেন এবং সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় প্রতি বছর পিকনিকের আয়োজন করার আশা ব্যক্ত করেন। সারাদিন হৈ চৈ, আনন্দধ্বনির মধ্যদিয়ে শেষ হয় এক্স শাহীনের এই ভিন্নধর্মী পিকনিকের।
Related Articles
সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের বিজয় দিবস উদযাপন
গত ১৬ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় সিডনিস্থ রকডেলের বনলতা ফাংশন সেন্টারে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা
বৈশ্বিক অস্থিরতা দূর করতে বঙ্গবন্ধুর দর্শন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে
প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ক্যানবেরা, ১৫ আগস্ট, ২০২২: অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুফিউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর দর্শন ও চিন্তা-চেতনা অস্ট্রেলিয়াসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়ে বৈশ্বিক অস্থিরতা দূর করার পাশাপাশি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সমস্যার সমাধান দূর করা সম্ভব। এ বিষয়ে গবেষণা ও ভূমিকা রাখার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহবান জানান তিনি। হাইকমিশনার বলেন, এধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় আজ স্বাধীনতার মহান স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় মোহাম্মদ সুফিউর রহমান এসব কথা বলেন। হাইকমিশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ হাইকমিশনের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সুফিউর রহমান বঙ্গবন্ধুর মানবতা, রাজনৈতিক দর্শন এবং জাতীয়তাবাদের ধারণার থেকে অনুপ্রাণিত হয় দেশ গঠনে কাজ করতে সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশ ও জাতিয়তাবাদ গঠনে সহস্র বছরে বঙ্গবন্ধু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ত্যাগ, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গী, অভিজাত শ্রেণির উর্ধ্বে উঠে দেশের সকল মানুষকে একত্রিত করে তাদের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষমতা বঙ্গবন্ধুকে অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। বঙ্গবন্ধুর অনন্য অবদানের জন্য বাঙালি জাতি চিরদিন তাঁর কাছে ঋণী থাকবে। বঙ্গবন্ধুর হত্যা বাঙালি জাতির জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, ৪৭ বছর পর এ কলঙ্ক থেকে দায় মুক্তি পেতে হলে বাঙলি জাতিকে চিন্তার অসহিষ্ণুতা, সাম্প্রদায়িতা, ধর্মান্ধতা এবং ব্যক্তিগত লোভ লালসা থেকে মুক্ত হতে হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করতে হবে । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে স্বাধীনতার চেতনা সমৃদ্ধ প্রগতিশীল সমাজ গঠন করতে পারলে একটি সমৃদ্ধ অথনীতিও তৈরি হবে। আলোচকগণ জাতির পিতার কিংবদন্তী নেতৃত্ব ও অবদানের ওপর আলোচনা করেন। বঙ্গবন্ধুর তৈরি পথরেখা অনুসরণ করে একটি আদর্শভিত্তিক ও উন্নতসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান তাঁরা। আলোচকগণ উল্লেখ করেন, জাতির পিতা চেয়েছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। তারা বঙ্গবন্ধুর প্রজ্ঞা এবং আপোষহীন নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, ঘাতক চক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। বক্তারা শোককে শক্তিতে পরিণত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এসময় জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুফিউর রহমান ও তাঁর সহধর্মিনী সামসিয়া রহমানসহ উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি ও হাইকমিশনের সদস্যবৃন্দ । এসময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। সকালে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্যে দিয়ে শোকদিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এছাড়া জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। এদিকে, গত ৫ আগস্ট শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩ তম জন্মবার্ষিকী এবং ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রাঙ্গনে ভিডিওচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় হাইকমিশনার সুফিউর রহমান পুষ্পস্তবক করেন। অনুষ্ঠানে ক্যানবেরাস্থ প্রবাসী বাংলাদেশিগণ এবং হাইকমিশনের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


