সিডনিতে শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারি অনুদান – বিজয় উৎসব পালিত
এসো মেতে উঠি বিজয়ের আনন্দে স্লোগান নিয়ে সিডনিতে বিজয় উৎসব ২০১৭ পালিত।
প্রশান্ত মহাসাগরের পাড়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিস্থ ইঙ্গেলবার্ন কমিউনিটি হলে গত ১৬ ডিসেম্বর (শনিবার ) ‘এসো মেতে উঠি বিজয়ের আনন্দে’ স্লোগান নিয়ে ‘সিডনি বাঙালী কমিউনিটি’র (ইনক) আয়োজন করেছে বিজয়ের ৪৭ বছর উদযাপন ।
অনু্ষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের এমপি অনুলাক চান্টিভংগ। তিনি বাংলা দেশের আদলে ক্যাম্পেলটাউন এলাকায় শহীদ মিনার নির্মাণের জন্যে সিডনি বাঙালি কমিউনিটি ইনক কে ৩৫৬১৬ ডলারের সরকারী অনুদান প্রদানের ঘোষনা দেন। তিনি তার বক্তৃতায় বলেন , গত চার বছর ধরে সিডনি বাঙালী কমিউনিটির প্রস্তাবিত শহীদ মিনার নির্মাণের প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছেন প্রাক্তন ফেডারেল এমপি লরি ফার্গাসন , বর্তমানে ফেডরেল এমপি এন স্ট্যানলি কাজ করছেন । তিনি আরও উল্লেখ করেন , বর্তমানে ক্যাম্পেলটাউন সিটি কাউন্সিলে শহীদ মিনার স্থাপনের জায়গা অনুমোদনের সিদ্বান্ত প্রক্রিয়াধীন।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ওয়ারিয়ার ফেডারেল এমপি এন স্ট্যানলি। এন বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে স্বাগত জানান এবং অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইঞ্জি: সাইফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই কিশালয় কচিকাঁচা সঙ্গীত, ছড়া, নাচ ও গানসহ বিজয় দিবস ভিত্তিক বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থাপন করে। রোকসানা বেগমের সার্বিক পরিচালনায় গড়ে উঠা কিশালয় কচিকাঁচা সিডনিতে অতি পরিচিত একটি শিশু-কিশোর সংগঠন। ওদের বাহারি রঙ ও মন মাতানো পরিবেশনা অস্ট্রেলিয়া তে বেড়ে উঠা প্রজন্মের কাছে একটি উদ্দীপনা। বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিদেশের মাটিতে ধরে রাখার জন্য শত প্রতিকূলতার মধ্যে এই দলটি সিডনি জুড়ে তাদের দলীয় সঙ্গীত, কবিতা, গান ও নাচ পরিবেশনা অব্যাহত রেখেছে গত এক দশক ধরে।
এর পর আসে অস্ট্রেলিয়াতে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের সংগঠন কিশোর সংঘ। বিজয় দিবসকে বরণ করতে তাদের পরিবেশনায় ছিল মুক্তিযুদ্ধ ও দেশাত্ববোধক গান,নাচ ও আবৃত্তি। মেধাবী কিশোর-কিশোরীদেরকে নিয়ে এই দলটির সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন সীমা আহমেদ। তারা একক গান, আবৃত্তি, নৃত্য ছাড়াও পরিবেশন করে দলগতভাবে গণসংগীত ও দেশাত্মবোধক গান। লাল-সবুজের দেশীয় সজ্জায় তাদের পরিবেশনা সবার মন ছু.য়ে যায়।
স্বাধীন বাংলা বেতারের গানগুলো নিয়ে আকর্ষণীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যকলা ডান্স স্কুল। শাহীন আক্তার স্বর্ণার দক্ষতায় তৈরী এই সুশৃঙ্খল দলটি আসে বিভিন্ন বয়সী শিশু-কিশোরী নিয়ে। যেমন ছিল তাদের সাজ-সজ্জা, তেমন ছিল তাদের নাচের পরিবেশনা। এক কথায় তাদের এই পর্বটি ছিল আবেগময়,নয়নজোড়ানো।
এছাড়াও সিডনির প্ৰতিষ্ঠিত নৃত্য শিল্পী পূরবী পারমিতা বোসের “ও আমার দেশের মাটি ” গানের সাথে এককভাবে একটি নাচ পরিবেশন করে দর্শকদের মন জয় করে নেয়। একক ভাবে গান পরিবেশন করে সবাইকে মুগ্ধ করে রাখেন সানোয়ার হোসেন তপু। সবশেষে জাতীয় দলগতভাবে জাতীয় সংগীত গেয়ে অনুষ্ঠানটির পরিসমাপ্তি টানেন আয়োজকরা।
বাংলাদেশী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সিডনি থেকে প্রকাশিত অনলাইন ও পেপার পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিকবৃন্দ ও সুশীল সমাজসহ প্রবাসী বাংলাদেশীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে তবলায় ছিলেন সাকিনা আক্তার,আপ্যায়নে ছিলেন লিটন বাউল, শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন নাদিম ভাই ও তায়েফ এবং গ্রাফিক ডিজাইন ছিল ছোট বন্ধু ঐহিক।
সিডনি বাঙালী কমিউনিটি ইনকের পক্ষ থেকে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সেলিমা বেগম।
Related Articles
একুশে কর্নার ও মাতৃভাষা সংরক্ষন আন্দোলনের সমর্থনে অস্ট্রেলিয়ার এসিটি পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাশ
“কনসারভ ইউর মাদার ল্যাংগুয়েজ” বার্তাকে বৈশ্বিক বার্তা হিসেবে গ্রহণ, সমন্বিতভাবে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” উদযাপনে প্রতিটি প্রধান প্রধান শহরে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা
রজত জয়ন্তী পেরিয়ে সুবর্ণ জয়ন্তীর পথে সিডনি বৈশাখী মেলা
বারুদ থেকে সিডনি অলিম্পিক পার্ক_ মাঝে কেটে গেছে ২৫বৎসর।দীর্ঘ এ যাত্রা পথে আলোর মশাল জ্বালিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বঙ্গবন্ধু কাউন্সিল
Australia Muslim Welfare organises Qurbani
অষ্ট্রেলিয়ার মুসলিম ওয়েলফেয়ারের উদ্যোগে কুরবানীর ব্যবস্থাআতিকুর রহমান ॥ বিগত বৎসরের ন্যায় এবারও অষ্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার কুরবানীর ব্যবস্থা করেছে। ইসলামী

























