প্রতিভা – ডাঃ নায়লা আজিজ মিতা
প্রতিভা ব্যাপারটাকে আমরা আসলে দু’ভাবে দেখি। কারো কোন প্রতিভা দেখলে আমরা সাধারণত: বলি, দারুন! খোদাপ্রদত্ত অথবা গড গিফটেড, আবার বলি ইস, কি পরিশ্রমী এই লোকটা ! তবে খালেদ এর বেলায় আমি গড গিফটেড ব্যাপারটাকে কম উচ্চারণ করতে চাই, কারণ ওর পরিশ্রম করার ধরণটা আমার খুব চেনা এবং জানা।
অনেক বছর ধরে দেখা এই মানুষটাকে এবং তার পরিবারকে খুব ভালো করে চেনা জানার সুযোগ হয়েছে আমার। ওর বৌ লাকী অসম্ভব গুন এর এক মেয়ে। খুব সুন্দর আর লক্ষী দুই ছেলে মেয়ে ( মাহিবা ও মাহদী)কে নিয়ে ওদের ছোট্ট সংসার। দৈনন্দিন কর্ম ব্যস্ততার পাশাপাশি ছেলে মেয়ে দুজনকেই এরা খুব সুন্দর ভাবে দেশ-বিদেশের রীতি নীতি, নিজের ধর্ম, দেশীয় সংস্কৃতির শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে।
ওদের সাথে পরিচয় হবার পর থেকে একটা প্রচন্ড ইচ্ছা আমার মনে জেগে আছে আর সেটা হল খালেদ-এর অসাধারণ ক্রিয়েটিভিটি নিয়ে কিছু লেখা। অসম্ভব সুন্দর সব প্রতিভার অধিকারী এই খালেদ ছেলেটাকে আমি যতটুকু জানি, চিনি তাতে আমার মনে যে ধারনার তৈরি হয়েছে সেটা হলো, খুব চমৎকার মানবিক গুণাবলীর অধিকারী, সদা বিনয়ী, হাসিখুশি, প্রাণবন্ত এক ছেলে। যে কিনা বলতে গেলে সর্বদাই অন্যকে সাহায্য করা নিয়ে ব্যস্ত। কেউ ওকে কোনো অনুরোধ করলে কখনো আমি না বলতে শুনিনি। তাছাড়া কারো বিপদা আপদের খবর পেলে সে নিজে থেকেই তাকে সাহায্য করতে ঝাপিয়ে পড়ে।
ওর নিজের ছোট্ট এক জগত আছে যখনই সে অবসর পায় তখনই সে সেই জগৎকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আর সেটা হল নিজ হাতে নিত্য নতুন জিনিস তৈরি করা, বাগান করা…ওর বাগান দেখলে চমকে যাবার মত সেটা ফুলেরই হোক ফলের ই হোক আর সবজি হোক! এ’ছাড়া খেলাধুলা, মাছ ধরতে যাওয়া এবং বড় বড় মাছ ধরা এই সবকিছুতেই ওকে দারুন সফলতা অর্জন করতে দেখেছি এবং সে খুব আনন্দ সহকারেই এইসব কাজ করে থাকে। এতসব পরিশ্রম এবং ব্যস্ততার পরেও ওর চোখে মুখে ক্লান্তির কোন ছোঁয়া পর্যন্ত কখনো দেখিনি।
ওর বাসায় গেলে বোঝা যায় ওর হাতে তৈরি জিনিসগুলি কি অপূর্ব ভাবে চারিদিকে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। প্রতিটা জায়গা ওর হাতের স্পর্শে এক অনবদ্য সৌন্দর্য নিয়ে প্রস্ফুটিত হয়ে আছে। মাটি সিমেন্ট দিয়ে তৈরি নানারকম সব সুন্দর সুন্দর ডেকোরেশন সামগ্রী। নিজের বাড়ি ঘর কে তার নিজের হাতের তৈরি সামগ্রী দিয়ে এমন ভাবে সাজিয়ে রেখেছে যে দেখে মন প্রাণ জুড়িয়ে যায়, মনে হয় কোন show peice এর দোকানের ঢুকেছি। কে বলবে যে এসব বানানোর জন্য ও কখনো কোন প্রশিক্ষণ নেয়নি বা কেউ ওকে দেখিয়ে দেয় নি?
নিজের পেশা IT তে কাজ এর চরম ব্যস্ততার পাশাপাশি ঘরে বাইরে পরিবারকেও নানানভাবে সাহায্য করতে দেখেছি খালেদকে। শুধু তাই নয়, বৌ ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য সময় বের করা, বন্ধুদের বিপদ আপদে সাহায্য করা…এই সবকিছু ও কিভাবে manage করে ভাবতে অবাক লাগে।
প্রার্থনা করি খালেদ তার পরিবারকে নিয়ে সবসময় ভালো ও সুস্থ থাকুক। ওদের সব স্বপ্ন যেন সার্থক হয়। ওদের দুজনের অসাধারণ এই প্রতিভা ও সুন্দর মনের প্রভাব, প্রতিফলন যেন ওদের ছেলে মেয়েদের ভেতরেও বিকশিত হয়।
Dr Naila Aziz Meeta
Home town is Bangladesh, live in Australia. Love to write, read, travel, and listening to music.
Related Articles
১৯৭১ সেই সব দিন – একটি পর্যালোচনা
১৯৭১ সেইসব দিন’ বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছে অগাস্ট মাসে। অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা শহরে BongOz Films এর বদৌলতে আমরা গত রবিবার এই সিনেমাটি
পাকিস্তানী জেল থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি ও ইন্দিরা গান্ধী, অজানা অধ্যায়
ব্যাপারটা সহজ ছিলো না। পুর্ব পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তান ধরাশায়ী, শেষ দিকে ১৩ দিনের ভারত-পাকিস্তান রণ, ৯৩ হাজার পাকিস্তানী
The Copenhagen Launch Fund: Decision at the Commonwealth Summit
The heads of state/government of 53-member states of the Commonwealth met in Port of Spain, capital city of Trinidad &




















