সিডনির কাউন্সিল নির্বাচন – বাংলাদেশী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্যের কাহন
মোহাম্মদ হুদা, শাহে জামান টিটু, লিঙ্কন শফিকুল্লাহ, সুমন সাহা, এনামুল হক এখন শুধু সিডনিবাসি বাঙালিদের পরিচিত মুখ নয়, এঁরা সারা অস্ট্রেলিয়াদের পরিচিত মুখ৷ সিডনির সাবার্ব গুলোতে পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে এদের মুখ ৷
আসছে ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার বিভিন্ন এলাকার কাউন্সিল নির্বাচনে আমাদের এই বাংলাদেশিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৷
এদের মধ্যে শাহে জামান টিটু ও এনামুল হক অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি, মোহাম্মদ হুদা ও সুমন সাহা বিরোধী দল লেবার পার্টি এবং লিঙ্কন শফিকুল্লাহ স্বতন্ত্র পার্টি থেকে মনোনয়ন লাভ করেছেন ৷ প্রতিদ্বন্দ্বী সকলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এঁরা প্রত্যেকেই নির্বাচিত হওয়ার আশা রাখেন ৷ বর্তমান কাউন্সিলার বাংলাদেশি বংশোদভূত মাসুদ চৌধুরী মনে করেন মূল দুটি দল থেকে মনোনয়ন পাওয়াটাই একটি বিরাট ধাপ ৷ সেক্ষেত্রে আমাদের মনোনীত প্রার্থীরা সেই সাফল্য স্পর্শ করেছে নিশ্চিত।
সিডনির ওয়েন্টওয়ার্থভিল ওয়ার্ড থেকে লেবার পার্টি থেকে এক নম্বর প্লটটি পেয়েছেন সদা হাস্যমুখ বাংলাদেশী সুমন সাহা। অর্থাৎ এ আসনে লেবারের একজন নির্বাচিত হলেই আমাদের সুমনের জয় নিশ্চিত হয়।
ব্যাসহিল ওয়ার্ডে লিবারেল পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আরেক বাংলাদেশী এনামুল হক। সেখানকার বাংলাদেশীরা এনামুল কে ভোট দিয়ে তাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, এমন প্রত্যাশা জনাব হকের।
ক্যান্টারবুরী-ব্যাংক্সটাউন এলাকার রোজল্যান্ডস ওয়ার্ডে তিন বাংলাদেশী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এখান থেকে নির্বাচিত হবেন তিনজন কাউন্সিলার, মনোনয়ন পেয়েছেন দশজন। আমাদের প্রত্যাশা এখান থেকে তিন বাংলাদেশীই জয়ী হবেন। নির্বাচনী প্রচারনাও চালিয়ে যাচ্ছেন তারা জোরেসোরে।
একটি ঘটনা বলি। বছর খানেক আগে বাংলাদেশী এক ছাত্র একটি ফাস্টফুডের ড্রাইভথ্রুতে অস্ত্রের মুখে ছিনতাইয়ের শিকার হয়। ছিনতাইকারীরা তার গাড়িতে উঠে ছাত্রটিকে ড্রাইভ করতে বলে। সে সাহায্যের আশায় বাংলাদেশী অধ্যুসিত ল্যাকেম্বায় আসে এবং হেল্প বলে চিৎকার করে। সেদিন একমাত্র জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে লোকটি ছেলেটিকে উদ্ধার করেছিলো তার নামই শাহে জামান। আপনি বাংলাদেশ থেকে কোন সিনেমা এনেছেন, বা কোনো শিল্পী, টিকেট বিক্রি করতে হবে বা অনুষ্ঠানের জন্য স্পন্সর লাগবে; এর জন্য কয়েকজনের মধ্যে যে মানুষটিকে সবার আগে পাবেন তার নামই শাহে জামান।
লিবারেল পার্টি থেকে মনোনীত শাহে জামান যেনো বাংলাদেশীদের নয়নমনি। তার ব্যবসাকেন্দ্রটি ল্যাকেম্বায় হওয়ায় খুব সহজেই তাকে পাওয়া যায়। তার কাছে সমস্যা নিয়ে গিয়ে খালি হাতে খুব কম মানুষই ফিরে এসেছেন। তিনি সর্বদা বন্ধুর মতো আচরন করেন। আরেকটি সুবিধা হলো ইতোমধ্যেই তিনি আরেকটি বড় নির্বাচন পার করে এসেছেন। গত ফেডারেল নির্বাচনে তিনি প্রায় ত্রিশ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্হান লাভ করেন। সুতরাং লিবারেল পার্টিতে যারা ভোট দেন তারা জনাব শাহে জামানকে চেনেন। অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেছেন এমপি ইলেকশনের প্রার্থী হয়ে কিভাবে একজন কাউন্সিলরের প্রার্থী হতে পারেন। আমার জবাব হলো উনি কমিউনিটির জন্য কাজ করেন এবং করতে চান বলেই কাউন্সিলর হতে চাইছেন। কাজ করতে চাইলে এমপি বা কাউন্সিলর কোনটাই ম্যাটার করেনা নিশ্চয়ই।
অনেকেই বলছেন আগামী ফেডারেল নির্বাচনে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসবে। সেক্ষেত্রে লেবার মনোনীত প্রার্থীর গুরুত্বও অনেক। আমাদের কমিউনিটির আরেক প্রিয় মুখ নূরুল হুদা সেই ভাগ্যবানের মধ্যে একজন যে কিনা ১১ জন বাংলাদেশীর মধ্যে পার্টি কর্তৃক মনোনীত হয়েছেন। আমার মনে হচ্ছে এ মনোনয়নটাই আসল। কারন সর্বশেষ দুটি নির্বাচনের ফলাফল থেকে দেখা যায় তিন জনের মধ্যে প্রথম দুজন লেবার এবং বাকী একজন লিবারেল পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
সেক্ষেত্রে হুদা ভাই এবং শাহে জামান ভাইয়ের জয় নিশ্চিত বলা যায়।
নুরুল হুদা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকুরী করেন। তিনি বেশ ক’বছর ধরে একটি ইংরেজী কমিউনিটি নিউজপেপার বের করে আসছেন। তার সম্পর্কে লেবার পার্টির এক সাংসদ বলেন একমাত্র হুদা তার প্রতিদ্বন্দ্বি বাঙালি প্রার্থীদের সুনাম ব্যতিরিকে কখনই দুর্নাম করেননি।
আমার সাথে যতবার তার কথা হয়েছে ততবার দেখেছি এই লোকটি আসলে কাজের মানুষ। আমার বিশ্বাস আমরা সিডনিতে তাকে একদিন মেয়র বা অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে পাবো। সেদিন হয়ত বেশি দূরে নয়।
লিংকন শফিকুল্লাহ প্রফেশনাল একাউন্ট্যান্ট। ল্যাকেম্বায় তার অফিস। খুবই বন্ধুবৎসল মানুষটি একই এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। তার নির্বাচনী প্রচারনাও জমিয়ে উঠেছে। বাংলাদেশী ছাড়াও বিভিন্ন কমিউনিটিতে তার নাম মুখে মুখে। অন্য বাঙালিদের মত তিনিও পর্যাপ্ত কমিউটার পার্কিং, নিরাপত্তার জন্য পুলিসিং ব্যবস্থার উন্নয়ন সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন।
আমি জানিনা টেকনিকালি এই তিনজনকে তিনটি ভোট দেয়া যায় কিনা। যদি যায় আমি তিনজনকেই তিনটি ভোট দেবো।
এবারের প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচজনের কাউকেই কখনোই বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক নেতাকে এয়ারপোর্টে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দিতে দেখা যায়নি। কারন তারা অস্ট্রেলিয়া বসে বাংলাদেশের রাজনীতি করতে চাননি, অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার রাজনীতি করতে চেয়েছেন। এর আগের নির্বাচনে বলেছিলাম আমি আওয়ামীলীগ বুঝিনা, বিএনপি, জাতীয় পার্টি বা ওলামালীগও বুঝিনা, আমি বুঝি একজন বাংলাদেশী আমাদের এগিয়ে নিয়ে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করতে চাইছেন। আমাদের উচিত তাদের সর্বাত্নক সহযোগিতা করা এবং আমরা তা অবশ্যই পারবো।
-আতিকুর রহমান শুভ
Related Articles
শেখ হাসিনার সাফল্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা
একটি শুদ্ধ নির্বাচন ও একটি শুদ্ধ ভোটার তালিকা দাবিতে যখন আওয়ামী লীগ সহ মহাজোট সোচ্চার, তখন দলীয় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ
রংধনু : কবিতা আবৃতি এবং চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নাম
রংধনু Aus-Bangla Cultural Society Inc. –এর আয়োজনে শিশু মেলা ২০০৯-এ Family Needs, Eastlakes (Bangladeshi Shop) Ges Word Master Talking Dictionary
বাংলাদেশের ভোট : আদর্শ ব্যবস্থা কী?
বাংলাদেশের সংসদ এবং বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পদ্ধতি বর্তমানে যেমনটা রয়েছে সেরকম করে কি নির্বাচনের উদ্দেশ্য পূরণ করছে? না করলে








What is the percentage of BD Voters among their election area ? Do you ve latest data about BD people in Sydney.