ওয়েলিংটন টেস্টে পরাজয় আর চোট প্রসঙ্গ
ফজলুল বারী, ক্রাইস্টচার্চ থেকে: এখনও চলছে ময়নাতদন্ত ওয়েলিংটন টেস্টের। প্রথম ইনিংসে এমন একটি রেকর্ড ৫৯৫ রানের পর যে দল দ্বিতীয় ইনিংসে তালগোল পাকিয়ে যে দল হারে তাদের নিয়ে আলোচনা-গবেষনা কী এত সহজে থামে? শুক্রবারের দ্বিতীয় টেস্টের আগে বাংলাদেশ দলের আকাশে চোটের কালো মেঘ। টেস্ট ক্যাপ্টেন মুশফিকের চোট আক্রান্ত বৃ্দ্ধাঙ্গুলির ব্যথা কমছেই না। তার হাতে নতুন করে চিঁড় ধরা পড়েছে। কিন্তু বুধবার মুশফিককে দেখে তা বোঝার উপায় নেই। বৃষ্টি বিঘ্নিত অনুশীলনে এসেই তিনি কোচকে নিয়ে উইকেট দেখতে মাঠে চলে যান। তাদের অনুসরন করে মাঠে যান তামিম ইকবাল। ওয়েলিংটন টেস্টে চোট আক্রান্ত আঙ্গুলটি বাঁচাতে গিয়ে উল্টো ঘাড়ে আঘাত নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাঠ ছেড়েছিলেন মুশফিক। দুই ওপেনার তামিম-ইমরুল দু’জনেই চোট আক্রান্ত। আঙ্গুলের চোট নিয়েও তামিম খেলবেন এটা সবাই জানেন। বল লেগে বুকে ব্যাথা মমিনুলের। অনভ্যস্ত ১৪৮ দশমিক বল করে বোলিং বিভাগ ক্লান্ত-বিধবস্ত। তাদের হাঁটাচলাতেই এর প্রমান পাওয়া যাচ্ছিলো। এরপর আবার ওয়েলিংটন টেস্টের পরাজয় সবাইকে মুষড়ে ফেলেছে। এমন একটি দল কী করে স্বাভাবিক খেলা খেলবে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে শক্তিশালী স্বাগতিক দলের বিরুদ্ধে? বাংলাদেশ দলের কোচ চন্ডিকা হাথুরু সিংহে অবশ্য এসবকে অফিসিয়েলি আমলে নিতে চাননি। বুধবার তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন প্রথম টেস্টের অভিজ্ঞতায় তার ছেলেরা ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে আরও ভালো খেলবে।
বুধবার দলকে অনুসরন করা বাংলাদেশি সাংবাদিকরা ওয়েলিংটন টেস্টের পর প্রথমবারের মতো প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরু সিংহেকে মিডিয়া ব্রিফিং’এ সামনে পেয়েছিলেন। সেখানেও ঘুরেফিরে আসে ওয়েলিংটন টেস্টে পরাজয় আর চোট প্রসঙ্গ। পরাজয়কে জন্য ক্যাপ্টেনের মতো কোচও ব্যাটসম্যানদের দুষলেন। বললেন প্রথম ইনিংসে ব্যাটসম্যানরা অবিস্মরনীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে সেটি পারেনি। বোলারদের প্রশংসা করে কোচ বলেছেন ১৪৮ ওভারেরও বেশি সময় ধরে বোলাররা অনেক ভালো বল করেছে। তারা অনেক সুযোগ করেছিল। এত লম্বা সময় ধরে বল করে বোলাররা কী ক্লান্ত? কোচ এটা মানলেন না। বললেন এটাই তাদের কাজ। এরজন্যেই তাদেরকে তৈরি করা হয়েছে। কামরুল ইসলাম রাব্বির ভূয়সী প্রশংসা করে কোচ বলেন সে অনেক ভালো বল করেছে। চট্টগ্রাম টেস্টের আগে স্কোয়াডে তাসকিনকে না রাখার কারন সম্পর্কে কোচ তখন বলেছিলেন তিনি মেধাবী তাসকিনের ক্যারিয়ার ধবংসের দায়িত্ব নিতে পারেননা। বুধবার ক্রাইস্টচার্চেও প্রশ্নটি এসেছিল। হেড মাষ্টার কোচ এ প্রশ্নে কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করে বলেন তার বক্তব্যের আংশিক উল্লেখ করা হয়েছে। কোচ বলেন তাসকিনকে অনেক দিন ধরেই টেস্ট ক্রিকেটের জন্যে তৈরি করা হচ্ছিল।
চোট আক্রান্ত দল সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে কোচ বলেন চোটসব দূর্ঘটনাবশত। ইচ্ছে করে নয়। এরসবই খেলার অংশ। চোট আক্তান্ত মুশফিক-ইমরুলের প্রশংসা করে কোচ বলেন ওই রকমের একটি দূর্ঘটনার পরও হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবার পর সোজা মাঠে চলে আসেন। দলের পক্ষে দাঁড়াতে ব্যাট হাতে মাঠে চলে যান ইমরুল। এসব ভূমিকা খুবই উৎসাহব্যাঞ্জক। মুশফিক খেলবেন কিনা এ নিয়ে তিনি কোন আভাস দেননি। মমিনুল প্রসঙ্গে কোচ বলেন ও ভালো আছে এবং খেলবে। চোট আক্রান্ত ইমরুলের আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট হাতে পাওয়া স্বত্ত্বেও তার ব্যাপারে বুধবারও কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দেয়া হয়নি। হয়তো হতাশা ছড়াবে তাই। কোচ বলেছেন তার খেলার সম্ভাবনা পঞ্চাশ-পঞ্চাশ। বুধবার ইমরুল দলের সঙ্গে অনুশীলনে আসেন। টিম বাস থেকে নেমে তিনি খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন। বৃষ্টি ঝরতে থাকায় কাউকেই অনুশীলনে নামতে হয়নি।
দলে উপেক্ষিত রুবেলকে না নেবার কারন বলে চাননি কোচ। কিছুটা রুঢ় উচ্চারনে বলেছেন ‘আপনাকে অজুহাত যুক্তি দেবার কোন প্রয়োজন আমার নেই। দলের জন্যে যা ভালো মনে করি তাই আমি করি’। এমন প্রশ্নে কোচকে বেশ বিরক্ত মনে হয়। ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভের উইকেটের চাইএ সবুজ ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের উইকেট। রুবেল হয়তো এখানে ভালো করতে পারতেন। কিন্তু কোচের চোচমুখের ভাষা বলছিল ক্রাইস্টচার্চ টেস্টেও রুবেলের খেলানোর সম্ভাবনা কম।
ওয়েলিংটন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে সাকিবের শূন্য রানে আউট হবার বিষয়টি কোচকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি আর এ নিয়ে দলের সমস্যা বাড়াতে চাননি। বলেছেন আমি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দোষ দেবোনা। শুধু বলবো দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানরা তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেননি। কোচ ব্যাটসম্যান-বোলার সবার কাছে সেরাটা আশা করেন ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে। কোচ বলেন এ উইকেটে যে দল টস জিতবে তারা প্রথম বল হাতে নেবে। টসে জিতলে আমাদের বোলারদেরও তখন গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট যখন শুরু হবে তখন এখানকার তাপমাত্রা থাকবে ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে। এরসঙ্গে থাকবে বাতাসের দাপট। এসব বাংলাদেশ দলের খেলায় কোন প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চাইলে কোচ বলেন, পরিবেশেরতো একটা প্রভাব থাকবেই। কিন্তু এটি কোন অজুহাত হতে পারেনা। এখানকার দলগুলো অনেক গরম আবহাওয়ার মধ্যে উপমহাদেশে খেলতে যায়।
Related Articles
The Moon that Divides – an individual’s observation
It has become a common place to find the debates raging amongst Islamic leaders in deciding the beginning and end
এস হে বৈশাখ
নিশি অবসান প্রায় ঐ পুরাতন বর্ষ হয় গত আমি আজি ধূলিতলে জীর্ণ জীবন করিলাম নত !! বন্ধু হও শত্রু হও
দেশের টান – চৌধুরী মোহাঃ সদর উদ্দিন
বিদেশে থাকার নানা যন্ত্রণা আর বিড়ম্বনার মাঝে একটা হচ্ছে বিনিশুতায় বাধা দেশের টান। এই টানা টানি ব্যাপার গুলি আমার কাছে


