সবারই অধিকার রয়েছে কিছু বলার
মেলবোর্নের আবহাওয়াটা কেমন যেন দিন দিন ইয়ো ইয়ো (Yoyo) এর মত হয়ে যাচ্ছে। এক দিনে চার আবহাওয়া দেখা যায় সেটা মানলাম, তাই বলে প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর এর রূপ বদলে যাবে! কিন্তু কি আর করা এই শহরে আছি প্রায় তের বছর। এর থেকে বেশী সময় অন্য কোন শহরে থাকি নি কোনদিন। এই রকম উদ্ভট ঝামেলাগুলো ত সহ্য করতেই হবে।
অনুরূপ প্রতিনিয়ত আমাদের জীবনে, আশেপাশে, সমাজে, দেশে-বিদেশে এসব লেগেই আছে। তবুও সহ্য করেই যাচ্ছি। যেতে হবে তাই যাচ্ছি।
এই মেলবোর্নের সেন্ট কিলডা একটা অল্টারনেটিভ প্লেস ( alternative place)। চমৎকার জায়গা। ক্যাফে কালচার রয়েছে, ভাল ভাল রেস্তোরা রয়েছে, থিয়েটার-সিনেমা রয়েছে। শিশুদের আনন্দ ফূর্তির জায়গা রয়েছে। মোট কথা শিশু থেকে প্রৌড় সবাই যায় সেখানে।
কিন্তু অন্য সবকিছুর পাশাপাশি সেন্ট কিলডায় যৌনকর্মীদের আনাগোনাও বেশী সাথে ত জাংন্কী রয়েছেই। This place is full of Sex workers and junkies on the streets. Sometimes I wonder how these two (Sex workers & junkies) synchronise with all those exotic offerings! সেন্ট কিলডা বাসীর সহ্য ক্ষমতার তারিফ না করে পারছি না। They are very inclusive society! অনেকটা হিডেন বাংলাদেশী সমাজ ব্যবস্থার মত! সব আছে সেখানে। নামাজ-রোজা, তাবলীগ -জামাত, চোর বাটপার, আস্তিক -নাস্তিক, সুশীল -মূর্খ সব সমাজই আছে বাংলাদেশে। এদের মাঝে একদল রয়েছে যারা কালচারাল ওয়ারটা জিতে গিয়েছেন বাংলাদেশে। লিবারেল বলে নিজেকে যারা পরিচয় দেন তারা। এরা আবার অন্যান্য গ্রুপকে এলিয়েনেটেড করায় উস্তাদ। এই এলিয়েনেটেড করার ফল আমরা কিছুটা দেখেছি ইউএস নির্বাচনে। তবে যারা ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছে তারা সবাই রেসিস্ট এই রকম ভাবাটা উচিৎ না।
আমেরিকার নির্বাচনে ট্রাম্প সাহেব পাশ করেছেন। নির্বাচনের আগে অনেক কিছুই বলেছেন। উল্টাপাল্টা কথা বলে সারা বিশ্বেরই ব্লাড প্রসার বাড়িয়ে দিয়েছেন। যদিও তিনি অধিকাংশই ডমেস্টিক পলিটিকাল কনজাম্পশনের জন্য সেসব বলেছেন। কিন্তু দুনিয়ার তাবৎ সব বোদ্ধারা ট্রাম্পকে ত রেসিস্ট বলেছেনই, সাথে সাথে তার সাপোর্টার এবং ফলোয়ারদেরকেও বলেছেন। ট্রাম্প কেমন মানুষ সেটা জানি না। তবে তার ভোটারদের অনুমান করতে পারি।
আমার মনে হয় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন বিশ্লেষণ করলে অনেকের অনস্থান নড়বড়ে হয়ে যাবে। আজকাল কেউ কিছু বললেই তাকে ট্যাগ মারা হয়! বাম-ডান, রাজাকার, ভারতের দালাল, আওয়ামীলীগ-বিএনপি,জামাত সব ট্যাগ দেয়া হয়। মানুষকে চিন্তা করার সুযোগটা দেয়া হচ্ছে না। মানুষ ভয় পাচ্ছে বলতে সে যা ভাবছে। অতি সুশীল, আস্তিক -নাস্তিক, ডান-বাম সবাই করছে। এই ভয় পাওয়ার জায়গা থেকে মানুষকে উদ্ধার করা দরকার। উদ্ধার না করতে পারলে এই ঢেউ বারবার আসবে। ট্রাম্প সেই ঢেউয়ের অংশ মাত্র। এই ইয়ো ইয়ো ঢেউ কিছু সময়ের জন্য আশাকরি। লিবারেলদের শুভবুদ্ধির উদয়হোক। সবাইকে একটা ভয়েস দেয়ার প্লাটফরম না দিলে আমরা আরো বেশী বেশী ট্রাম্প সাহেবদের দেখব।
জুবায়দুল জেকব
মেলবোর্ন
Related Articles
Sujata Mehta’s visit to Dhaka
Ms. Sujata Mehta, Indian Ministry of External Affairs Secretary (Multilateral and Economic Relations) will visit Bangladesh from 5 to 7
জীবনানন্দের প্রেতাত্মা
গায়ের রাস্তা ধরে গরুর গাড়ি চলেছে তার একঘেয়ে ক্যা-কু শব্দ করে। গাড়িতে হাসিনা খাতুন আর তিন সন্তান। বড় আর মেজো
ফুলের প্রতি ভালবাসা
‘ফুলের মেঘ’ দেখেছেন কখনো! হাল্কা গোলাপী আভা ছড়িয়ে নিথর কাঠে ফোঁটা সহস্র ফুলের বাহার কেবল চেরী ব্লসমেই মেলে। পাতাবিহীন গাছ,


