ফটোগ্রাফি – রুপ থাকলে ভরে দেব, না থাকলে গড়ে দেব

ফটোগ্রাফি – রুপ থাকলে ভরে দেব, না থাকলে গড়ে দেব

একবার সিলেটে বেড়ানোর সময় একটা দোকানের সামনে গিয়ে হটাত চোখ আটকে গেল, গাড়ি থামাতে বাধ্য হোলাম, সামনে এগিয়ে দোকানের লেখাগুলি পড়ে অবাক হয়ে গেলাম দোকান মালিকের অনুভূতি/ মানসিকতার এত চমতকার অভিব্যক্তি দেখে!! দোকানের ওপরে লেখা আছে, “রুপ থাকলে ভরে দেব, না থাকলে গড়ে দেব!” কি অদ্ভুত সুন্দর কথাগুলি! বলার অপেক্খা রাখেনা, বোঝাই যাচ্ছে কিসের দোকান! প্রবল আগ্রহ নিয়ে দোকানে ঢুকলাম, চারদিকের দেয়াল গুলি কি দারুন সব ছবি দিয়ে ভরা! ভাবলাম একবার জিগেস করি দোকানের মালিকটাকে ( ২৫/২৬ বছরের লোকটা) ছবিগুলিকি আসলেও তার তোলা কিনা, পরে ভাবলাম উচিত হবেনা…মাইন্ড করতে পারে…জানতে চাইলাম কতদিন যাবত সে ছবি তোলে, বল্ল, ছোটবেলা থেকেই সখ যার শুরু ঘর থেকে… টিফিনের পয়সা বাচিয়ে অনেক কষ্টে ক্যামেরাটা কেনা…তার স্বপ্ন পূরনে তার বাবা এই ঘরটা করে দিয়েছেন স্টুডিও হিসেবে… মনে তার অনেক আশা অনেক বড় ফটোগ্রাফার হবে, পুরা বাংলাদেশের বিভিন্ন যায়গার ছবি তুলবে, পেপারে ওর নাম/ ছবি ওঠবে…..

আজ অনেক বছর পরেও মাঝে মাঝে কোন সুন্দর ছবি দেখলেই কেন যেন ঐ লোকটার কথা মনে হয়, কে জানে এখনো সেই দোকানটা আছে কিনা আর তার স্বপ্ন পূরণ হোল কিনা! কিছু অপূর্ব ফটোগ্রাফি সত্যিই আমাকে অবাক করে! কিভাবে এমন সুন্দর করে ছবি তোলে এরা? জিগে্গস করলে অনেকে আবার ভদ্রতা করে উত্তর দেয়, ” ক্যামেরাটা ভাল” অথবা “যায়গাটা/ মডেলটা” সুন্দর….নাহ্, আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারিনা…নিশ্চয়ই এর ভেতর ক্যামেরাম্যান এর কোন কারসাজি আছে! কি সেটা? ” ক্লিক” তো সবাই করে, কিন্তু এই “ক্লিক” এর মাঝে এত তারতম্য কেন? কিছু চমতকার ছবি আমাকে ভীষন ভাবে মুগ্ধ করে….সেসব ছবি দেখে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুধু ভাবি,” তুমি কি কেবলই ছবি……”

Photo Credit : Fahmid Khondaker

Dr Naila Aziz Meeta

Dr Naila Aziz Meeta

Home town is Bangladesh, live in Australia. Love to write, read, travel, and listening to music.


Place your ads here!

Related Articles

পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংককে সরকারের না, নাকি সরকারকে বিশ্বব্যাংকের না?

একি শুনি আজ মন্থরার মুখে, পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংককে সরকারের না, নাকি সরকারকে বিশ্বব্যাঙ্কের না? আমরা কি ভুল দেখছি? আমি সত্যিই হতবাক

ক্যানবেরার খেরোখাতা ৭

||১||নিজেকে নিয়ে সদাব্যস্ত একজন স্বার্থপর মানুষের মতো পথ চলতিতে অনেক কিছুই ইচ্ছে করে এড়িয়ে যাই। হয়তো পাশে একজন মানুষ কাঁদছে,

১৯৭১ ভেতরে বাইরে – একটি নিরপেক্ষ এবং নির্মোহ বিশ্লেষন – পর্ব ২

এই অধ্যায়ে জনাব এ, কে খন্দকার ১৯৭১ জানুয়ারী থেকে ২৬ মার্চ’ পর্‍যন্ত ঘটনাবলির উপর নিন্মোক্ত কয়েকটি বিষয়ে/ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন্, যা

1 comment

Write a comment
  1. Saimum
    Saimum 29 July, 2017, 06:01

    True, not everyone can contain asesthetic beauty – some creative people do.

    Reply this comment

Write a Comment