ইডেন গার্ডেনসে টি-২০: বাংলদেশের খেলা দেখতে যাবেন?
ফজলুল বারী, কলকাতা থেকে: বাংলাদেশের বাইরে সবচেয়ে বেশি বাঙ্গালি থাকেন পশ্চিমবঙ্গে, কলকাতায়। সেই কলকাতায় আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-পাকিস্তানের খেলা। সুপার টেনের প্রথম খেলা বাংলাদেশের। এর আগে কলকাতায় এসেছিলাম দশবছরের বেশি আগে। ২০০৫ সালে। সেই কলকাতায় আবার এসেছি বাংলাদেশের খেলা উপলক্ষে। আগে কলকাতায় এলে এর সদর স্ট্রিট এলাকায় থাকতাম। বাংলাদেশের লোকজন কলকাতায় শপিং পছন্দ করেন বলে কলকাতা নিউমার্কেট লাগোয়া এলাকাটির হোটেলগুলোতে থাকে্ন বেশি। তাই সদর স্ট্রিট এলাকাটায় গেলে এখানকার হোটেল-রেষ্টুরেন্টগুলোয় অনেক বাংলাদেশির দেখা মেলে। এবার কলকাতায় এসে উঠেছি ফেসবুকসূত্রের এক বন্ধুর বাসায় টালিগঞ্জ এলাকায়। কিন্তু কাপড় পালটে তৈরি হয়ে চলে গেলাম সদর স্ট্রিটে। যে ধারনায় যে উদ্দেশে গিয়েছিলাম তা ষোলআনা উসুল!
বুধবার সদর স্ট্রিটে গিয়ে দেখি যেন বাংলাদেশিদের মেলা বসেছে পুরো এলাকাজুড়ে! এমনিতে যেখনে বিস্তর বাংলাদেশি থাকেন, খেলা উপলক্ষে এত বাংলাদেশি এসেছেন যে পথেঘাটে হাঁটতে যার সঙ্গে আপনার ধাক্কা লাগবে সেই যেন বাংলাদেশি! এটি যেন এখন কলকাতার বুকে এক খন্ড বাংলাদেশ! এই খেলা নিয়ে স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া বুঝতে বুধবার ইচ্ছা করেই বাংলাদেশ দলের জার্সি পরে পথে বেরিয়ে ছিলাম! গীতাঞ্জলি স্টেশন থেকে বন্ধুর সঙ্গে মেট্রোয় উঠেছি পার্ক স্ট্রিটের উদ্দেশে। গায়ে বাংলাদেশের জার্সি দেখে লোকজন কৌতুহল নিয়ে তাকাচ্ছিল! আলাদা দেশ হলেও ভাষা-সাংস্কৃতিক নৈকট্য অথবা একাগ্রতার কারনে এরা এমনিতে বাংলাদেশের আত্মার আত্মীয়। কিন্তু যা ভেবেছিলাম তাই! ট্রেনের পাশের আসনে বসা এক মাঝ বয়সী ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করি,কাল বাংলদেশের খেলা দেখতে যাবেন? কোন রাখঢাক ছাড়াই জবাব দিলেন, না! এরপর জানতে চাইলেন খেলা কার সঙ্গে? কখন?
কলকাতার দাদাদের বেশিরভাগ হয়তো এমনই। বাংলাদেশকে ভালোবাসি ভালো। কিন্তু টাকা খরচ করে বাংলাদেশের খেলা দেখতে ইচ্ছুকদের সংখ্যা এদের মধ্যে কম। হয়তো বাংলাদেশ থেকে আসা বাঙ্গালরা বাংলাদেশের খেলা দেখতে যাবেন। কারন দেশ ছেড়ে এলেও মন তাদের পড়ে থাকে বাংলাদেশে। মানসিকভাবে এরা আজও ভারতীয় হয়ে উঠতে পারেননি। আদি পশ্চিমবঙ্গীয়দের মনে সে ব্যাপারটি সেভাবে কাজ করেনা। এরা মনেপ্রাণে ভারতীয়। বাংলাদেশ-বাংলা ভাষা-সংস্কৃতিকে ভালোবাসি ঠিক আছে। কিন্তু নিজেদের কাজ-ব্যবসা বাদ দিয়ে টাকা দিয়ে টিকেট কেটে বাংলাদেশের খেলা দেখতে যাবার তাগিদ তারা যেন সেভাবে বোধ করেননা! এটি একটি ধারনা মাত্র।
বাংলাদেশের খেলা দেখতে কলকাতায় আসা বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় সদর স্ট্রিটে। ধর্মশালায় এই দলের সদস্যদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল। এদের নেতা জুনায়েদ পাইকার তার একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। বুধবার খেলার টিকেট কিনতে গিয়ে দেখেন কলকাতার উর্দুভাষী বিহারিরা পাকিস্তান সমর্থকদের গ্যালারির টিকেট কাটছে! বিহারিরা বরাবর এমনই! বাংলাদেশে যেমন ভারতেও তাই! এদের মনের মধ্যে পাকিস্তান! ভারতীয় হলেও বৃহস্পতিবার মাঠে এদেরকে পাকিস্তান দলের সমর্থকের ভূমিকায় দেখা যাবে! কিন্তু জুনায়েদ পাইকার এবং খেলা দেখতে আসা অনেক বাংলাদেশির মতে বৃহস্পতিবার খেলার মাঠে উপস্থিত থাকবেন রেকর্ড সংখ্যক বাংলাদেশি! এর আগে ধর্মশালায় মাশরাফিরা সীমিত সংখ্যক বাংলাদেশির উপস্থিতিতে খেলেছেন। বাঙ্গালোরের চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের মাঠেও হয়তো খুব বেশি বাংলাদেশি থাকবেননা। কিন্তু বৃহস্পতিবার ইডেন গার্ডেনে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি সমর্থকদের উপস্থিতিতে খেলবেন মাশরাফিরা। এর আগে ক্যানবেরার মানুকাওভালে খেলা দেখতে গিয়ে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতি দেখে মুশফিকের বাবা বলেছিলেন, যেন মিরপুর স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখছি! প্রাক একলাখ দর্শক ধারন ক্ষমতার ইডেন গার্ডেনে হয়তো অত দর্শক হবেনা। কিন্তু যে রেকর্ড সংখ্যক দর্শক-সমর্থকের উপ স্থিতিতে খেলে মাশরাফিরা কি আবার হারাতে পারবেন পাকিস্তানকে? যে উত্তর দেবে বৃহস্পতিবার।
Related Articles
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক মোঃ ইয়াকুব আলীর প্রথম বই ‘নদীর জীবন’ এসেছে এইবারের বইমেলায়
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক মোঃ ইয়াকুব আলীর প্রথম বই ‘নদীর জীবন’ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি মূলত লেখকের শৈশব কৈশোরের স্মৃতিকথা হলেও এতে
Unilateral construction of Tipaimukh Dam: A Serious Breach of Trust
The visit of Prime Minister Sheikh Hasina to New Delhi in January 2010 is considered to have unfolded a new
আমাদের তারকা সাঁতারু ছোট্ট নাইরৌং
ক্যানবেরাতে যারা অনেক দিন থেকে আছেন – তাঁরা এই তারকা সাতারুকে হয়তো চিনতে পারবেন। অনেক দিন থেকেই ক্যানবেরাতে। বাবা মা




