What for? I am not going

What for? I am not going

উত্তর ইংল্যান্ডে জন্ম এবং বেড়ে উঠা আমার সহকর্মী আজ সকালে আমাকে বলে যে বাংলাদেশে আবারও নিজ বাড়িতে দুইজন নিরীহ নাগরিক এবং জেলখানার সামনে প্রাক্তন কারারক্ষী খুন হয়েছে I দুইদিন আগে উনিভার্সিটি শিক্ষক খুন হয়েছে I বাংলাদেশের যে কোনো ভালো বা মন্দ যে কোনো খবর, সে আমাকে জানায় I অত্যন্ত মেধাবী, উদার এবং ভদ্র, হাস্যরসে ভরপুর এই মানুষটা বিলেতে থাকতে আমাদের উপমহাদেশীয় লোকসংস্কৃতি, জীবনধারা, খাবার-দাবার এর সংস্পর্শে আসে I ফলে সে আমাকে এবং আমার মত অন্যদের খুব সহজে বুঝতে পারে I বাংলাদেশের GDP, গার্মেন্টস শিল্প, overseas remittance, ওষুধ রপ্তানি- ইত্যাদি অনেক বাংলাদেশীর চাইতেও ভালো জানে I বাংলাদেশ ভালো করছে বলে খুব আনন্দিত হয় আর আমকে খুব উত্সাহিত করে বলে যে এই ভাবে বাংলাদেশ এগুতে থাকলে কিছুদিন পর অস্ট্রেলিয়ানরা তোদের দেশে মাইগ্রেট করবে I আমিও ওকে কৌতুক ভরে বলি যে তোরা ব্যবসা করতে যেয়ে আমাদেরকে ২০০ বছর শোসন করেছিস, আর অফিসিয়ালি মাইগ্রেট করলেতো খবর আছে! উত্তর না দিয়ে মুচকি হাসে I

১৯৭৪ সালে যখন বাংলাদেশে আসি তখন আমি অনেক ছোট I এইটুকু মনে আছে বাড়ির সবাই নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিল I শ্যম চাচার এজেন্ট ইত্তেফাক তো ছিলোই; সরকারী দৈনিক বাংলাতে পর্যন্ত চুরি, ডাকাতি, গরু চুরি করে চামড়া খুলে নেয়া, দলাদলি, খুনাখুনির খবরের কমতি ছিল না I সেই সময়ে ঢাকা শহরে ভিক্ষুকদের আহাজারির কথা এখনো আমার কানে বাজে I এত বড় একটা রক্তাত্ত স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে একটা নতুন এবং অনভিজ্ঞ সরকার, তার উপর পৃথিবী তখন দুই ভাগে বিভক্ত- এমন নাজুক অবস্থা সবাই কম বেশি মেনে নিয়েছিল বা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল, কারণ কারই কিছু করার ছিল না I বঙ্গবনধু কোনো একটা রাত আরামে ঘুমাতে পেরেছিলেন কিনা আল্লাহ জানেন I অনেক ভালো মানুষের সাথে সাথে তার কাছাকাছি ছিল কিছু সুবেস্ধারী, সুবিধাবাদী এবং চোর I সে সময়ে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সবাই কম বেশি মেনে নিয়েছিল কারণ অনেকের কাছেই তখন সমরাস্ত্র রয়ে গেছিল I সর্বহারা পার্টি, আর জাসদের ইতরামি বঙ্গবনধুকে এক মুহূর্ত বসতে দেয় নাই I যে ভাবেই হোক, আমরা সেই সময় থেকে বেরিয়ে এসেছি I আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, বাত্সরিক বাজেটের জন্য অর্থ মন্ত্রীকে প্যারিস কনসর্টিয়াম, IMF বা WB এর কাছে দাসখত দিয়ে আসতে হয় না, নিজের অর্থেই বাজেট করতে পারি, উন্নয়ন খাতেও নিজেরাই বিনিয়োগ করতে পারি I ছোট একটা কালভার্ট তৈরী করতে বিদেশী অর্থের প্রয়োজন হত, অথচ এখন পদ্মা সেতু নিজেদের অর্থেই সম্পন্ন করতে যাচ্ছি I ভাবলেও ভালো লাগে I যে বাঙালি আর্থিক অনটনে কোনদিন কক্স বাজারেও যেতে পারত না, সেই বাঙালি এখন ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ঘুরে বেড়ায় I রাজনৈতিক সরকারের সঠিক দিক নির্দেশনা, বেসরকারী খাত, এবং কৃষক-জনগনের অক্লান্ত প্রচেষ্টা আজকের বাংলাদেশ I বঙ্গবনধু এইসব দেখেতে পেলে তার চাইতে বেশি সুখী আর কেউ হত না I তবে বর্তমান ধর্মীয় উন্মাদনা আর ধর্মের নাম খুনাখুনি দেখে ততোধিক আহত হতেন, কারণ উনি উগ্র ধর্মীয় বাংলাদেশের জন্য জীবন উত্সর্গ করেন নাই I

ডিনার শেষে সন্ধ্যায় SBS দেখছি, পাশে আমার টেন পড়ুয়া ছেলে I গতকালের হত্যাকান্ড, চট্টগ্রামে নিরীহ অধ্যাপক খুন সহ গত দুই বছরের খুনের ধারাবাহিক বর্ণনা শুনে আমার ছেলে বলে, “I can’t support travelling there any of us. Why do you want to travel there? What for? I am not going.” অথচ আমার ছেলেরা রাত জেগে আমাদের সাথে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা দেখে, সাকিব, মুস্তাফিজের রেকর্ড মুখস্থ রাখে, বাংলাদেশের সেলেব্রেতিদের সাথে ছবি তুলে I আমরা এদের এখন কি বলি?

আমার সহকর্মী গত বছর থেকে শুরু করে গতকালের ঘটনা অব্দি কোনো অগ্রগতি হয়েছে কিনা অর্থাত অপরাধী ধরা পড়েছে কিনা জানতে চায় I আমাকে বলে যে এই সমস্ত ঘটনা অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ম্লান করে দেয়, মানুষের আস্থা কমে যায়, মনের শান্তি কমে যায়- যা অবশেষে gravely hamper the productivity. A good government must be aware of this. Playing double game sometime could be shooting at own foot. Political game can be an instrument for the time being, but in certain cases you have to be very decisive and tame the invaders with utmost cruelty.

কিশোরগঞ্জে জন্ম নেয়া, পরবর্তিতে কলকাতা, নয়াদিল্লি হয়ে অক্সফোর্ড নিবাসী নিরদচন্দ্র চৌধুরীর লেখায় অনেক উন্নাসিকতা আছে কোনো সন্দেহ নাই, কিন্তু বাঙালি সমাজ এবং চরিত্রের অনেকটাই খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন I ‘আত্মঘাতী বাঙালি’ হচ্ছে তার সবচাইতে নিন্দিত এবং নন্দিত বই I ধর্মীয় উন্মাদনা, হত্যাকান্ড এবং সবার নির্বিকার মনোভাব আমাকে নিরদচন্দ্র চৌধুরীর কাছে নিয়ে যায়: “আজ বাঙালি জীবনে যে জিনিষটা প্রকৃতপক্ষে ভয়াবহ সেটা এই: মৃত্যুযন্ত্রণারও অনুভূতি নাই; আছে হয় পাষান হইয়া মুখ বুজিয়া সহ্য করা, অথবা সজ্ঞাহীন হইয়া প্রাণ মাত্র রাখা; আরেকটা ব্যাপারও আছে— জাতির মৃত্যুশয্যার চারিদিকে ধনগর্বে উল্লসিত বাঙালি প্রেত ও প্রেতিনীর নৃত্য “I


Place your ads here!

Related Articles

বনভোজনের বর্নিল ছোঁয়ায় আলোড়িত ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল।

“সব প্রান বলে আজ সদলবলে শিহরিত তণু-মন দেখ খুশি চারিদিক আলো ঝিকিমিক হচ্ছে বনভোজন”। বহু বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো ক্যাম্বেলটাউন বাংলা

মানবাধিকার লংঘন এর সমাধান কী?

বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘন এখন সাধারণ একটা বিষয়ে পরিণত হয়েছে! নিহত একরামুল এর পরিবার যে অভিযোগ করেছে এটা খুবই গুরুতর। সরকার

অভিযান বন্ধে নেতারা শেখ হাসিনার অপেক্ষায়!

ফজলুল বারী: চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযান আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজ ধান্ধাবাজ নেতাদের ভেতর কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। কোথায় কার কখন নাম এসে

No comments

Write a comment
No Comments Yet! You can be first to comment this post!

Write a Comment