ধলেশ্বরী-4
শোকের মাস
বাংগালী কাছে আগস্ট মাস নতুন করে তুলে ধরার কি আছে। এ বেদনার. শোকের। বই পরার অভ্যাস সেই পুরোনে কালের। যখনই দেশে যাই, ঝগরা ঝাটি, রাগারাগী করে হলেও কয়েক কিলো বই কিনার অনুমতি মনজুর করাতে হয় । আর ফিরে আসার পর ধিরে ধিরে বই গুলো পরি, মনের মধ্যে একটা ভয়, আবার যাওয়ার আগেই যদি শেষ হয়ে যায়? মাঝে মধ্যে ভাগ্নিকে রিকোয়েশট করি কিনে পাঠিয়ে দিতে। শেষ বার বংগ বন্ধুর অসমাপ্ত আত্বজীবনীটাও কিনে ছিলাম। আসামানন্য ইতিহাস, বাংগালীর বাংগালী হওয়ার ইতিহাস। রবীন্দ্রনাথের সেই আসামানন্য পংতিটাকে অস্বীকার করার ইতিহাস – রেখেছো বাংগালী করে , মানুষ করোনি । বাংলা ভূখন্ডে বাংগালীর আত্ব প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। ১৯৪৭ এর স্বপ্ন ভংগের পর আমাদের বিকাশের ইতিহাস।
খুব স্বাধারন মধ্যবিত্ত বাংগালী পরিবারের সন্তান, সাইকেল চালায়ে সভা সমিতি করে বেরানো যুবকটার বংগ বন্ধু হয়ে উঠার ইতিহাস । ঢাকার সাবেক মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড তাঁর
২০০২ সালে প্রকাশিত দি ক্রুয়েল বার্থ অব বাংলাদেশে বই তে এই মানুষটার বিকাশটাকে তুলে ধরেছিলো-তিনি এমন একজন মানুষ যার বৈশিষ্ট্য নির্দিষ্ট করা কঠিন। অঝোর বৃষ্টির মধ্যেও তাঁর ভাষণ শুনতে লাখো জনতা মন্ত্রমুগ্ধ থাকেন। ক্ষমতার অভিপ্রায় ও সুবিধাবাদিতা সব রাজনীতিকের জন্য যেভাবে খাটে, মুজিবও তাঁর বাইরে ছিলেন না। আমি তাঁকে কখনও দেশীয় বস্ত্র ব্যতিরেকে পাশ্চত্যের পোশাক পরিহিত দেখিনি।’ একজন বিদেশির চোখে এমনই ছিলেন শেখ মুজিবর রহমান ।
কতটুকু আমরা যানি এই মানুষটাকে? কিংবা জানার চেষ্টা করেছি? শুধুকি সিরাজদৌলা কিংবা
টিপু সুলতান কেই কলংকিত করা হয়েছিলো? হালের ইতিহাসের খুদিরাম , চেগুয়েভার কিংবা সালভাদোর আলেন্দ ? এদের শুধু হত্যা করা হয়নি, দশকের পর দশক কালিমা দেয়া হয়েছে।
মুজিব তার রক্তে আমাদের অবদ্ধ করে গেছেন। বাংগালী, বাংলা , বাংলাদেশ যতদিন থাকবে মুজিব থাকবে বীর বাংগালী হয়ে, পাশাপাশি ওরাও থাকবে যেমন আছে মীর জাফর, খন্দকার মোশতাক আরও কিছু বাংগালী যাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম আঙ্গুল তুলে বলবে – তুই রাজাকার।
মাকসুদ আলম
ক্যানবেরা
১১/৪/২০১৬
Related Articles
প্যারিসের চিঠি: প্যারিসে সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ’র সমাধিস্থল আবিস্কৃত
বিখ্যাত লাল সালু ও আমাবশ্যার চাঁদ উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ’র কবর সম্প্রতি প্যারিসের একটি কবরস্থানে পাওয়া গিয়েছে। সৈয়দ ওয়ালী
প্রিয় মানুষের শহর – ৭
[প্রিয় মানুষের শহর] প্রতি ভিজিটে ১০ সেন্ট! যতবার যাবেন – তত বারই ১০ সেন্ট করে চলে যায় ব্যাংক একাউন্টে! বিষয়


