জীবন ভ্রমন ৫, ৬
জীবন ভ্রমন ৫ : ক্রিম রল ,হট পেটিস, পচা ডিমের কেক থেকে সেনড উইচ , বার্গার এবং মরা মুরগির ফ্রাই । আমাদের সময় ঢাকার স্কুলের সামনে ঝাল মুড়ি, চাল্তার আচার ,আমড়া তেতুল ,বড়ই , শাক আলু , খিরা, আখ ইত্যাদি বিক্রি হতো । লাঞ্চ পিরিয়ডে এই সব ছিল প্রিয় খাবার । হাওয়াই মিঠাই , ৩ ও ৫ পয়সা দামের আইস ক্রিম , গোল লজেন্স- মুখে দিলেই লাল রস ইত্যাদি । আর স্কুল পাশে কনফেকশনারী দোকানে গেলে ক্রিম রল, হট পেটিস ও পিচ কেক ।
স্বাধীনতার পর ৭২/ ৭৩ সালে সন্ধার্ পর একজন ফেরি ওয়ালা হারিকেন হাতে প্রায়ই গরম বাখর খানি বিক্রি করত । বহূ বছর পর আমার শশুরালযে সেই বাখর খানি খেয়েছিলাম । আবার মাঝে মাঝে কাবুলি ওয়ালার পোষাকে চুঙ্গা ফুকে চানাচুর বিক্রি করত আর বলত – কই গেলিরে পোলাপান ..দুলা ভাইয়ের থেকে পয়সা আন …….. । চানাচুর খাওয়ার থেকে তাদের মজার মজার কথা গুলো বেশি ভালো লাগতো ।
আমার আব্বার ভোরে হাটার অভ্যাস ছিল । আমরা দুই ভাই প্রায়ই আব্বার সাথে হাটতে যেতাম । উদ্দেশ্য ছিল মাঠা অথবা দই বুনদিযা খাওয়া । আব্বা নিদিষ্ট একটা রুটে হেটে ফকিরাপুল বাজারের মুখে এসে শেষ করত । ঐখানে একটা বয়স্ক লোক মাঠা / গোল বিক্রি করত। ২০ কি ৩০ পয়সা গ্লাস ছিল । ওই সরল প্রাণ মানুষটি মাঠা বিক্রি করে কিভাবে সংসার চালাতো আজও বুজতে পারিনি ।
আজ প্রবাসে বসে দই জাতীয কিছু খেলেই ছোট কালের সেই স্মৃতি মনের অজান্তে চলে আসে ।
আরো মনে পড়ে ফকিরাপুল বাজরের সেই মিষ্টি দোকানের আসেপাশে ঘুরা কয়েক জন কংকালসার মানুষের কথা যারা একটু খাওয়ার জন্য ফেলে দেওয়া ময়লার পাশে …..একদিন সকালে ফেলে দেওয়া দই এর মাটির পাত্র লেহন করতে দেখে আমার হাতের বুনদিযার পেকেটটি দিতে গেলে ভয়ে দুরে সরে যায় । এখনো এই প্রবাসে ঘরে বানানো দই দেখলে স্মৃতিতে ভেসে সেই করুন দৃশ্য – পরবর্তী চামচ আর মুখে উঠতে চায় না ।
জীবন ভ্রমন 6 : Foxtel গত বাংলাদেশ – পাকিস্তান খেলা সম্প্রচার করে নাই । তাই দুই সপ্তাহ আগে আসন্ন বাংলাদেশ -ভারত ক্রিকেট খেলা দেখার জন্য একটা মডেম কিনেছি । এই মডেমটির নাম জাদু টিভি । আজ ১৮ বছর পর একটানা ৪ ঘন্টা বাংলা টিভি ওয়াচ করলাম । এখন মিডিয়া টেকনোলজি অনেক অ্যাডভান্সড ।
TV এড গুলো দেখে মনে পড়ে গেল লাল বাগের সেই হাস মার্কা নারিকেলে তেল ,আর মুক্ত বাতাস আর ঘরের শোভায মনোয়ার fan এর এড । আকাশ পাতাল পার্থক্য । এখনকার মত তখন ঘরে ঘরে টিভি ছিল না । আমাদের আশেপাশে ৪-৫ বিল্ডিং এর মধ্যে মাত্র ২ টি
টিভি ছিল । তখন এড দেখতে মোটেই ভালো লাগত না । আর এখন উল্টো । এড দেখতেই ভালো লাগে ।
যে রাতে সিনেমা প্রদর্শিত হত সেই রাতে স্টেডিয়াম এর মত ভিড় লাগত টিভি ওয়ালা বাসায় । এক রাতে এমন এক বাসায় টিভি দেখছিলাম । হঠাৎ দপাদপ কয়েকটি পচা ডিম জানালায় এসে পড়ল । কারন আগের শো তে টিভি ওয়ালা বাসায় তাদের জায়গা হয়নি । সেই
রাতে আর টিভি দেখা হয় নি । উপস্থিত সবাই হালকা পাতলা বকাবকি ও হাসাহাসি করে বের হয়ে গেল ।
তখন পচা ডিম একটি ভালো অস্ত্র ছিল । হকি স্টিক , মাছের কাটা , চাকু , রাম দা ইত্যাদি দেখা যেত পাড়া / দল ভিত্তিক মারামারি বাধলে । তিন বন্ধু মিলে একবার একজনকে ডিম মেরে ছিলাম । সে বুঝতে পেরেছিল এই কাঁচা কাজটি কে করেছিল । কারন তার সাথে আমাদের একজনের একটু তিক্ততা ছিল ।
এক পাড়াতো ভাই এর মাধ্যমে খবরটা আমাদের কাছে আসে । ” তোমরা ভালো ইস্কুলে পড়, ভালো ছাএ, তোমাদের কাছ থেকে এইরকম আশা করি নাই ” । সেই দিন কিছুটা বিব্রত হই ভুল বোঝাবুঝির জন্য । তবে সেই পরিকল্পিত ডিম ট্রিটমেন্ট এর মধ্যে একটা ভয় ও excitement ছিল ।
Related Articles
স্পন্দনের চ্যারিটি অনুষ্ঠান ও আমার অনুভূতি
কেনবেরা এখন হাজার বাঙ্গলাদেশীর ঠিকানা। এখানে যারা রয়েছেন প্রায় সকলেই সরকারী চাকুরে- এদের সপ্তাহের ৫দিনই ৯টা-৫টা অফিস। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে
Doing Business in Bangladesh
The owner of a clothing factory in Dhaka, Bangladesh, was at New York University last week to meet with clothing
সিডনিতে ট্রিবিউট টু নায়করাজ রাজ্জাক ও সঙ্গীতশিল্পী আব্দুল জব্বার
নায়করাজের জীবনের গল্পই যেন হয়ে উঠেছিল বাংলা সিনেমার পটভূমি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে প্রচারিত ‘সালাম


