ইয়াসুনারি কাওয়াবাতার গল্প: পাখি – অনুবাদ : ফজল হাসান

ইয়াসুনারি কাওয়াবাতার গল্প: পাখি – অনুবাদ : ফজল হাসান

দিনের শুরু থেকেই পাখিটা কর্কশ স্বরে চিৎকার করছিল।

সাত-সকালে বাড়ির লোকেরা যখন দরজা খোলে, তখন নজরে আসার আগেই পাখিটা ফুড়–ৎ করে উড়ে গিয়ে পাইন গাছের নিচু একটা ডালে বসে। পাখিটার বসার ঢং দেখে অনেকের মনে হচ্ছিল যেন ও আবার ফিরে আসবে। সবাই যখন নাস্তা খাচ্ছিল, তখনও পাখিটার ডানা ঝাপ্টানোর শব্দ ভেসে আসছিল।

‘পাখিটা বড্ড জ্বালাচ্ছে।’ চোখেমুখে বিরক্তির চিহ্ন ফুটিয়ে ছোট ভাইটা বললো।

‘ঠিক আছে, ঠিক আছে।’ বুড়িমা ওকে থামিয়ে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বললো, ‘পাখিটা ওর বাচ্চাকে খুঁজছে। আসলে গতকাল বাচ্চাটা গাছ থেকে নিচে পড়ে গেছে। পাখিটা গত সন্ধ্যা পর্যন্ত উন্মাদের মতো ওড়াউড়ি করেছে। সে কি জানে, বাচ্চাটা কোথায়? মায়ের মন। তাই আজ সকালে আবার খুঁজতে এসেছে।’

‘বুড়িমা ভালোই বোঝে।’ ইয়োসিকো বললো।

ইয়োসিকোর বুড়িমা চোখে কম দেখে। বছর দশেক আগে প্রস্রাবের সমস্যা ছাড়া আর কোনো রোগে আক্রান্ত হয়নি। তবে শৈশব থেকেই বুড়িমার চোখে ক্যাটারেক্টের সমস্যা আছে। যদিও বাম চোখে ঝাপসা দেখতে পায়, তবুও কাউকে তার হাতে ভাতের থালা এবং চপস্টিক তুলে দিতে হয়। বুড়িমা ঘরের ভেতর একাকী চলাফেরা করতে পারে, কিন্তু একলা বাগানে যেতে পারে না।

অনেক সময় দিনের বেলা ইয়োসিকো কাচের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে দু’হাত মেলে দিয়ে স্থির দৃষ্টিতে সামনের দিকে তাকিয়ে থাকে। তখন কাঁচ ভেদ করে আসা সূর্যের আলোয় তার আঙুলগুলো গরম হয়। এটা তার সারা জীবনের অভ্যাস।

এ সময়ে বুড়িমাকে দেখলে ইয়োসিকো ভয় পায়। যদিও সে পেছন থেকে ডাকতে চায়; কিন্তু ডাকে না। বরং পাশ কাটিয়ে চুপিচুপি চলে যায়।

প্রায় অন্ধ বুড়িমা, যে এতক্ষণ পাখির কণ্ঠস্বর শুনছিল, কথাগুলো এমনভাবে বললো যেন সে সব কিছুই দেখতে পেরেছে। বুড়িমার কথা শুনে ইয়োসিকো দারুণ আশ্চর্য্যান্বিত।

খাবার টেবিল থেকে পরিত্যক্ত থালা-বাসন নিয়ে ইয়োসিকো যখন রান্নাঘরে যাচ্ছিল, তখনও প্রতিবেশীর ঘরের চলে বসে পাখিটা এক নাগাড়ে ডাকছিল।

পেছনের বাগানে একটাই বাদাম গাছ। তবে গোটা তিনেক খেজুর গাছের মতো গাছ আছে। ইয়োসিকো ওই গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখে বাইরে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। এই রকম হালকা বৃষ্টি সহজে বোঝা যায় না। তবে ঘন পাতার ওপর পড়লে বোঝা যায়।

সারাক্ষণ চিৎকার করতে করতে পাখিটা বাদাম গাছের ডাল থেকে নেমে মাটির ওপর এসে পুনরায় উড়ে গিয়ে বসলো মগ ডালে। পাখিটা দূরে কোথাও উড়ে যাচ্ছে না। তবে কি ওর ছানাটা আশপাশে কোথাও আছে?

এ ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তিত ইয়োসিকো নিজের ঘরে ফিরে যায়। সকাল ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই তাকে তৈরি হতে হবে।

সেদিন বিকেলে ইয়োসিকোর বাবা-মা ওর ফিয়্যাঁসের মাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসে।

আয়নার সামনে বসে ইয়োসিকো তার আঙুলের নখের ওপর সাদা দাগগুলো এক পলক দেখে নিল। কথায় আছে, যখন কারোর নখের মধ্যে সাদা দাগ হয়, তখন সে একটা কিছু উপহার পায়। কিন্তু ইয়োসিকো খবরের কাগজে পড়েছে, এই সাদা দাগগুলো ভিটামিন-সি অথবা অন্য কিছুর অভাবে হয়। দাগগুলো থাকার পরও সে নখের মধ্যে নেলপলিশ লাগাতে পারে। তার ভ্রƒ এবং ঠোঁট দুটো দারুণ আকর্ষণীয়। কিমোনো পোশাক পরতে তার কোনো অসুবিধা হয় না।

যদিও ইয়োসিকো ভাবছিল সে তার মায়ের জন্য অপেক্ষা করবে। মা এসে তাকে কাপড় পরিয়ে দেবে। কিন্তু সে নিজে নিজেই পোশাক পরার সিদ্ধান্ত নেয়।

ইয়োসিকোর বাবা তাদের ছেড়ে অন্যত্র থাকে। এটা তার বিমাতা।

বাবা-মার যখন বিচ্ছেদ হয়, তখন ইয়োসিকোর বয়স চার বছর। আর তার ছোট ভাইয়ের বয়স দুই বছর। বাবা-মার বিচ্ছেদের মূল কারণ মা খুব চকমকে পোশাকে নিজেকে সুন্দরী করে রাখতেন। তাছাড়া মা নাকি বিনা কারণে এদিক-ওদিক ইচ্ছেমতো টাকা উড়াতেন। ইয়োসিকো কিন্তু এসব মামুলি কারণ বিশ্বাস করেনি। তার ধারণা, বিচ্ছেদের পেছনে অন্য কোনো গভীর কারণ লুকিয়ে আছে।

ইয়োসিকোর ভাইটি যখন খুব ছোট ছিল, তখন একদিন সে তার মায়ের ছবি বাবাকে দেখিয়েছিল। বাবা মুখ খুলে কিছু বলেনি বটে, তবে চোখে-মুখে ভয়ঙ্কর রাগের চিহ্ন ফুটিয়ে আচমকা ছবিটা ছিনিয়ে নিয়ে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে।

ইয়োসিকোর বয়স যখন তেরো বছর, তখন বাবা পুনরায় বিয়ে করে নতুন মাকে ঘরে তুলে আনলে সে বিমাতাকে সাদরে গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তার মনের ভেতর ধারণা জন্মায় যে বাবা হয়তো গত দশ বছর শুধু তার জন্যই একাকীত্বের দুঃসহ জীবন-যাপন করেছে। ইয়োসিকোর সৎমা খুবই সজ্জন। ফলে পুনরায় সংসারে শান্তি বিরাজ করতে থাকে।

কিন্তু ইয়োসিকোর ছোট ভাইটা উপরের ক্লাসে উঠে ডরমেটরিতে চলে যায়। সেই সময় থেকেই সৎমায়ের প্রতি তার আচার-আচরণ আমূল বদলে যায়।

‘আপু, মায়ের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। উনি বিয়ে করে আজাবুতে থাকেন। সত্যি, মা দেখতে অনেক সুন্দর হয়েছেন। আমাকে দেখে খুবই খুশি হয়েছেন।’ ছোট ভাইটা বললো। অকস্মাৎ এ কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ইয়োসিকোর ঠোঁটের ফাঁক গলিয়ে একটা কথাও বের হলো না। মুখটা দেখতে কেমন যেন ফ্যাঁকাশে হয়ে যায়। ভয়ে তার ঠোঁট দুটি কাঁপতে থাকে। পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বিমাতা দু’জনের কাছে বসে। ‘খুব ভালো, খুব ভালো। মায়ের সঙ্গে দেখা হওয়াটা দোষের কিছু নয়। আসলে এটাই স্বাভাবিক। অনেকদিন থেকেই আমি জানতাম এমন একটা দিন আসবে। তবে বিস্তারিত কিছুই জানতাম না।’ বললো বিমাতা।

দিনে দিনে ইয়োসিকোর বিমাতার স্বাস্থ্য ভাঙতে থাকে। ইয়োসিকোর কাছে মনে হয় কৃশকায় শরীরের বিমাতা যেন আরও বেশি অকেজো এবং সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে।

ছোট ভাইটা হঠাৎ উঠে গটগট করে চলে গেলো। ইয়োসিকোর ইচ্ছে হলো ভাইটাকে খুব জোরে একটা চড় কষিয়ে দেয়।

‘ইয়োসিকো, ওকে কিছু বলিস না। ওর সঙ্গে কথা বললে বরং ও আরও বেশি বেয়াড়া হয়ে উঠবে।’ নিচু স্বরে বিমাতা বললো।

অশ্রুতে ইয়োসিকোর চোখ দুটি ভিজে উঠলো।

একদিন ইয়োসিকোর বাবা ভাইটাকে ডরমেটরি থেকে ডেকে আনে। যদিও ইয়োসিকো ভেবেছিল, ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বিমাতার ব্যাপারটা মিটে যাবে। তারপর বাবা হয়তো বিমাতাকে নিয়ে অন্য কোথাও চলে যাবে।
কিন্তু বিষয়টা ইয়োসিকোর মনে এক ধরনের ভয় ধরিয়ে দিল। বাবার ক্রোধ এবং প্রচণ্ড বিরক্তি যেন তাকে দুমড়ে মুচড়ে ফেললো। তাহলে বাবা কি পছন্দ করে না যে তারা নিজেদের মায়ের সঙ্গে কোনোরকম সম্পর্ক রাখুক? ইয়োসিকোর মনে হলো, ছোট ভাইটা খুব তাড়াতাড়ি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য বাবার মতো আপসহীন স্বভাব পেয়েছে।
এখন ইয়োসিকোর কাছে মনে হয় বিচ্ছেদ এবং পুনরায় বিয়ের পর গত দশ বছর ধরে বাবা যে দুঃখ-কষ্টের ভার বয়ে চলেছে, তা সে বুঝতে পারে।

একদিন ইয়োসিকোর বাবা, যে সৎমকে নিয়ে আলাদা থাকে, তার জন্য বিয়ের একটা প্রস্তাব নিয়ে আসে। অপ্রত্যাশিত খবরটা শুনে ইয়োসিকো দারুণ বিস্মিত হয়।

‘আমার জন্য তুই অনেক কষ্ট পেয়েছিস। আমি পাত্রের মাকে বলেছি, তুই প্রচণ্ড কষ্ট-বেদনার ভেতর বড় হয়েছিস। তাই ওরা যেন তোর সঙ্গে নতুন বউ হিসাবে ব্যবহার না করে। তোকে যেন মেয়ের মতো আদর দিয়ে শৈশবের সব দুঃখ-কষ্ট ভুলিয়ে দেয়।’

বাবা যখন এসব কথা বলছিল, তখন ইয়োসিকো আকুল কান্নায় ভেঙে পড়ে।

ইয়োসিকো ভাবল, বিয়ের পর সে যদি স্বামীর সঙ্গে অন্যত্র চলে যায়, তবে ছোট ভাই আর বুড়িমাকে দেখ-ভালের জন্য এ বাড়িতে কোনো মেয়ে মানুষ থাকবে না।

অবশেষে সবাই মিলে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাল যে, দুই পরিবার একই সঙ্গে থাকবে। যদিও তার বাবা-মার বিয়ের তিক্ততার কাহিনী সে জানে, তবুও এই সিদ্ধান্ত শোনার পর ইয়োসিকো বিয়েতে মত দেয়। বিয়ের কথাবার্তা পাকাপাকি হওয়ার সময় তেমন কোনো অঘটন ঘটেনি।

বিয়ের সমস্ত আনজাম শেষ হওয়ার পর একদিন ইয়োসিকো তার বুড়িমার ঘরে ঢোকে।

‘বুড়িমা, তুমি কী কিমোনো পোশাকের লাল রং দেখতে পারো?’

‘আমি কিমোনো পোশাকের গায়ে লাল রঙের কাজ করে দিতে পারি। তোর কিমোনো পোশাকটা কি রঙের?’ বুড়িমা স্বস্নেহে ইয়োসিকোকে কাছে টেনে কিমোনো পোশাক এবং কোমরের মোটা বেল্টের দিকে তাকিয়ে থাকে।

‘ইতোমধ্যে আমি তোর চেহারা ভুলে গেছি, ইয়োসিকো।’ বলেই বুড়িমা একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছুড়ে দেয় ঘরের ভেতর। একটু থেমে বললো, ‘আমার প্রচণ্ড ইচ্ছে করে তোকে চোখ ভরে দেখি। তুই এখন দেখতে কেমন হয়েছিস রে?’

বুড়িমার কথা শুনে ইয়োসিকো হাসতে গিয়েও চট করে থেমে যায়। সে একটা হাত আলতোভাবে বুড়িমার মাথার ওপর রাখে।

বাইরে গিয়ে ইয়োসিকো বাবা এবং অন্যদের সঙ্গে দেখা করতে চাচ্ছে। চুপচাপ এভাবে বসে থাকতে পারছিল না। মনে হচ্ছিল সে বুঝি একটা কিছুর জন্য অপেক্ষা করছে। এক সময় সে উঠে গিয়ে বাগানে প্রবেশ করে। হাতের তালু ওপরের দিকে মেলে ধরে। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির ফোঁটা এতো সূক্ষ্ম আর মসৃণ যে তার তালু ভিজেনি। কিমোনো পোশাক খানিকটা ওপরের দিকে তুলে ইয়োসিকো মনোযোগের সঙ্গে ছোট ছোট গাছের ফাঁকে হারিয়ে যাওয়া পাখির ছানাটা খুঁজতে থাকে। এক সময় সে দেখতে পায় বড় ঘাসের ভেতর ছানা-পাখিটা লুকিয়ে আছে।

সঙ্গে সঙ্গে ইয়োসিকোর বুকের ধুকপুকানি বেড়ে যায়। তবুও সে ধীরে ধীরে পা ফেলে নিঃশব্দে কাছে এগিয়ে যায়। ছানা-পাখিটা মাথা তুলতে চাচ্ছে, কিন্তু নাড়াতে পারছে না। ছানা-পাখিটা এতো বেশি ক্লান্ত যে আলতো হাতে তুলে নিতে ইয়োসিকোর কোনোই অসুবিধা হলো না। ইয়োসিকো এদিক-ওদিক তাকিয়ে ওর মাকে খুঁজতে থাকে। আশপাশে কোথাও নেই।

ইয়োসিকো দৌড়ে ঘরে ঢুকে বুড়িমাকে ডাকে, ‘বুড়িমা, আমি ছানা-পাখিটাকে খুঁজে পেয়েছি। দেখো, ও আমার হাতের মুঠোয়। খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে।

‘ওহ্ তাই? ওকে একটু পানি দে।’ বুড়িমা শান্ত গলায় বললো।

ইয়োসিকো একটা বাটিতে খানিকটা পানি এনে ছানা-পাখিটার ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়। সামান্য পানি খাওয়ার পর ভেজা গলায় ডেকে ওঠে, ‘কি-কি-কি, কি-কি-কি।’

মা-পাখি সে শব্দ শুনে উড়ে আসে। টেলিফোন তারের ওপর বসে সে-ও শব্দ করে। মায়ের গলা শুনে ছানা-পাখি ইয়োসিকোর হাতের মুঠোয় ছটফট করে। পুনরায় ডেকে ওঠে, ‘কি-কি-কি।’

‘আহা, একেই বলে মা। শীঘ্রই ওকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দে।’ বুড়িমা বললো। ইয়োসিকো পুনরায় বাগানে গেলো। মা-পাখি টেলিফোনের তারের ওপর থেকে উড়ে এসে খানিকটা দূরত্ব রেখে বাদাম গাছের ডালে বসে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে।

ছানা-পাখিটা দেখানোর জন্য ইয়োসিকো হাত উপরের দিকে তোলে। পর মুহূর্তে ছানা-পাখিটাকে আস্তে করে মাটির ওপর রেখে সে ভেতর চলে আসে।

ইয়োসিকো কাচের দরজার ভেতর থেকে লক্ষ্য করে। আকাশের দিকে তাকিয়ে মা-পাখি বিলাপ করতে করতে কাছে আসে। এক সময় মা-পাখি যখন কাছাকাছি পাইন গাছের নিচু ডালে এসে বসে, তখন ছানা-পাখি ডানা ঝাপটিয়ে মা-পাখির কাছে উড়ে যেতে চাইল। কিন্তু পারল না। মুখ থুবড়ে পড়ে গেল সামনের দিকে। তবুও সে কিচিরমিচির করে মাকে ডাকতে থাকে।

সাবধানী মা-পাখি মাটিতে নেমে আসার বদলে গাছের ডালেই বসে থাকে।

যাহোক, কিছুক্ষণ বাদে মা-পাখি সমান্তরালভাবে উড়ে ছানা-পাখির পাশে আসে। মাকে দেখে ছানা-পাখির আনন্দ যেন আর ধরে না। ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে অবশেষে ছানা-পাখিটা মার কাছে যায়। বাচ্চার মুখে মা-পাখি সামান্য খাবার তুলে দেয়।

ইয়োসিকোর ইচ্ছে হচ্ছিল খুব শীঘ্রই তারও বাবা এবং সৎমা ফিরে আসুক। ওরা এলে এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যটা সে দেখাতে পারত।

[লেখক পরিচিতি : সাহিত্যে জাপানি প্রথম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ঔপন্যাসিক এবং গল্পকার ইউসুনারি কাওয়াবাতা ১৮৯৯ সালের ১৪ জুন ওসাকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পনের বছর বয়সের মধ্যেই তিনি বাবা-মাসহ নিকটতম অনেক আত্মীয়-স্বজন হারিয়েছেন। তিনি তার সংযত, কাব্যময় এবং নিগূঢ় গদ্য রচনার জন্য ১৯৬৮ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তার বিভিন্ন লেখা আন্তর্জাতিক সুধী মহলে প্রচুর প্রশংসা কুড়িয়েছে। উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘স্নো কান্ট্রি’, ‘দ্য সাউন্ড অব দ্য মাউন্টেন’, ‘থাউজেন্ট ক্রেইনস’, ‘দ্য ওল্ড ক্যাপিটাল’ এবং ‘বিউটি অ্যান্ড স্যাডনেস’। জীবনের শেষদিকে ভগ্ন স্বাস্থ্য এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে ১৯৭২ সালের ১৬ এপ্রিল তিনি নিজ বাসভবনে আত্মহত্যা করেন। ‘পাখি’ ইউসুনারি কাওয়াবাতা রচিত এবং লেইন ডানলপ ও মার্টিন হলম্যানের ইংরেজিতে অনূদিত ‘দ্য জেই’ গল্পের রূপান্তর। ]


Place your ads here!

No comments

Write a comment
No Comments Yet! You can be first to comment this post!

Write a Comment