তেমন বাবা মা কি আমরা হতে পারব?
এটি একটি প্রস্তাবনা মাত্র। একটি ব্যাক্তিগত প্রসঙ্গের অবতারনা করতে যাচ্ছি। এ ধরনের লেখালেখি বহুদিন হল ছেড়ে দিয়েছি, বরং মুখোমুখি চোখে চোখ রেখে কথা অনেক বেশি কাজ করে। তারপরেও কিছুটা চেস্টা। আমি অতখানি ধার্মিক নই, ইশ্বর অবিশ্বাসিও নই, আবার সম্ভবত এগোনিস্টও নই। আমি আমার কিশোর বয়সে ধর্মকর্মে কিছুটা মনোযোগী হয়েছিলাম স্বাভাবিক ভাবেই, তখনই আমার জীবনের একটা বাক পরিবর্তন হলো, অনেকটা গুলশানের সেই ছয় তরুনের মত, পেছনে ছিল একজন ইসলামি চিন্তাবিদ নামে পরিচিত সমাজে ধার্মিক এবং সৎ হিসাবে পরিচিত একজন মানুষ (পরে বুঝলাম মুখোশধারী বিভ্রান্ত)। আমার চিন্তাধারা ক্রমেই চরমপন্থার দিকে যেতে থাকল (আমার স্কুল জীবনের বন্ধুরা তার সাক্ষী)। আর এই পথে যাওয়ার প্ররোচনা কিন্তু সেই লোকটি আমাকে কোরান হাদিস ঘেটেই দিয়েছিল। এখান থেকে উদ্ধার করল আমার বাবা আর বড় ভাই (দুজনেই প্রয়াত)। প্রচুর পরালেখা করা মানুষ দুজন, আমিও ছোট থেকেই কিছুটা বইপোকা। তারা আমাকে পড়াল প্রথমে বিশ্ব ইতিহাস, আমি তুতেনখমেনের কথ জনালাম, গ্রীক নগর সভ্যতার কথা জনলাম, মেসোপোটামিয়ার কথা জানলাম, পারসিয়ান সাইরাস দ্যা গ্রেট এর কথা জনলাম(একে অনেকেই কোরানে উল্লেখিত জুলকারনাইন বলে থাকেন)। জানলাম মহান ভারতীয় সভ্যতা, সেমেটিক সভ্যতার কথা। সম্রাট অশোক, কিং ডেভিড বা সলোমন যেমন আকর্ষন করলে একই ভাবে গৌতম বুদ্ধ, গুরু নানকের জীবন আমাকে আকর্ষন করল।
এর পরে আমার হাতে তুলে দেয়া হল ধর্মীয় দর্শনের বই।তখন আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম তারা সবাই একই মানবতার জয়গান গেয়ে গেছেন।
অবশেষে আমার হাতে দেয়া হলো ইসলামের ইতিহাস। নবীজির জীবনী, নবুয়তের আগে, নবুয়তের মক্কার প্রথম ১৩ বছর মদিনার ১০ বছর মক্কা বিজয়, রাশেদুন খেলাফত, উমাইয়া, আব্বাস, সেলজুক, অটোমান খেলাফত এর পাশাপাশি খারেজী, সালাফি, মুতাজিলা সহ চার মাহজাব পড়লাম কিছুট করে। যে সমস্ত আয়াত দিয়ে আমাকে চরমপন্থার দিকে আহব্বান করা হচ্ছিল তার প্রেক্ষাপট জানলাম।
আশ্চর্য!আশ্চর্য! আমি উপলব্ধি করলাম কি চতুরভাবে আমাকে ভুল বোঝানো হয়েছে, সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটকে বর্তমানের আলাদা প্রেক্ষাপটের সাথে মিলিয়ে দিয়ে, এবং এভাবেই তারা ক্রমশই চরম্পন্থার দিকে ঠেলে দেয় আমাদের অজ্ঞতাকে পুজি করে।
আমি শিখলাম প্রতিটি ধর্মের ঈশ্বরই পরম করুনাময়, মানুষের মংগলকামি। হিংস্র হল সেই ধর্মগুরুরা ভয় না দেখলে যাদের রাজত্ব চলে যায়।
রামকৃষন পরমহংসদেবের একটি বানী আমার মনে ধরেছিল সেই সময় “হাস সারাদিন পাকে খাবার খোজে, কিন্তু নিজের গায়ে পাক লাগতে দেয় না”। আমরা আমাদের এই নস্ট সমাজের ভেতর থেকেই ভালটা খুজে নেই না কেন।
গুলশানের সেই ৬ জন তরুন আবার আমার কিশোর বয়সের সেই দেড় বছরের কথা মনে করিয়ে দিল। আমার সৌভাগ্য আমি বাবা আর ভাই পেয়েছিলাম।
বন্ধুরা, আমাদের ছেলে, মেয়েদের জন্য তেমন বাবা মা কি আমরা হতে পারব।
সুখে আনন্দে মানুষের জন্য সীমাহীন ভালবাসা নিয়ে বড় হোক আমাদের উত্তরাধিকার।
"নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অতিথি লেখক"
Related Articles
Does Human survival depend on leaving Earth?
Human beings have lived in the earth for at least 65, 000 years, according to scientists. Human beings do not
Holidays in Bangladesh
16 June, that was the date that my father (Shahadat Manik) had announced that we were going to Bangladesh on
আমাদের মোনাজাতউদ্দিন
ফজলুল বারী: আমার পায়ে হেঁটে বাংলাদেশ ভ্রমনের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাংবাদিকদের কাছে মোনাজাতউদ্দিনের নাম-খ্যাতি শুনি। আমাকে তাদের অনেকে বলেন


