ইচ্ছা পূরণের লক্ষ্যে অম্লান
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাতে ৯৯.৭৫% নম্বর (ATAR 99.75%) নিয়ে অম্লান নাগ ব্রিসবেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর অব অ্যাডভান্সড ফাইন্যান্স এন্ড ইকোনমিক্স পড়ছে। ATAR 99.75% স্কোর নিয়ে অষ্ট্রেলিয়ার যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিক্যাল সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, কিংবা ওকালতি করার জন্য ‘ল’ ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি না হয়ে ফাইন্যান্স এন্ড ইকোনমিক্স কেন পড়ছে জানতে চাইলে অম্লান জানালো, ‘ তাঁর ইকোনমিক্স মডেলিং করতে ভালো লাগে । এডভান্সড ফাইন্যান্স এন্ড ইকোনমিক্স ডিগ্রি তার স্বপ্ন পুরণে সহায়ক হবে।’ অম্লান আরো জানালো যে ‘তাঁর বাবা-মা’র ইচ্ছা ছিল মেডিক্যাল সায়েন্স পড়ে অম্লান একজন ডাক্তার হোক; তবে শেষমেশ তাঁরা দুজনেই অম্লানের ইচ্ছাকে পূরণ করার পক্ষে মতামত দেওয়ায় ‘ অম্লান ভীষণ খুশি।’

অম্লানের জন্ম বাংলাদেশে। সেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াকালীন অবস্থায় অম্লান তাঁর পরিবারের সকলের সাথে ইমিগ্রেশন নিয়ে অষ্ট্রেলিয়ায় চলে আসে।
প্রবাসি বাংলাদেশী অনেক বাবা-মা আছেন যাঁদের অনেকেই তাঁদের সামাজিক স্ট্যাটাসকে প্রাধান্য দিয়ে প্রবাসে বেঁড়ে উঠা তাঁদের সন্তানের ইচ্ছাকে গুরুত্বে না এনে বাবা-মা তাঁদের পছন্দ/ ইচ্ছা মাফিক সাব্জেক্টে সন্তানকে ভর্তি হতে বাধ্য করান। এসব সন্তানদের অনেকেই বাবা-মা’র কথা রাখতে গিয়ে নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও বাবা-মার পছন্দের সাবজেক্ট -এ ভর্তি হয় । এসব ছেলেমেয়েদের কেউ কেউ হয়তো বাবা-মা’র পছন্দের সাব্জেকটে পড়াশুনা শেষে জীবনে প্রতিষ্ঠাও পায়। তবে তারা বঞ্চিত হয় নিজের মতো করে বেড়ে উঠা থেকে, নিজের স্বপ্ন পুরণের সুযোগ থেকে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাবা-মা’র স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে এসব সন্তানকে প্রচণ্ড স্ট্রেসফুল পরিস্তিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোনো কোনো পরিবারকে মারাত্বক খেসারতও দিতে হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়- এমনকি মৃত্যু’র মতো ঘটনাও ঘটেছে জানিয়ে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে বলে আমরা জানি। সেক্ষত্রে অম্লানের বাবা-মা অম্লানকে নিজের মতো করে বেঁড়ে উঠার সুযোগ দিয়ে দূরদর্শিতার প্রমান দিয়েছেন।
নিজের পছন্দ মতো বিষয়ে পড়াশুনা করার সুযোগ পেয়ে নিজের মতো প্রতিষ্ঠিত হবার লক্ষ্যে এরই মধ্যে অম্লান তাঁর বন্ধুদের নিয়ে তৈরী করেছে MyIBTutor App এবং প্রতিষ্ঠা করেছে IB Tutoring Business (https://www.myibtutor.org/ )| উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রাবস্থায় ‘অষ্ট্রেলিয়ান ফিজিক্স ইনস্টিটিউশন ম্যাগাজিনে’ প্রকাশ করেছে তাঁর গবেষণালব্ধ আর্টিকেল ‘Investigating the weight of falling chain’
অদম্য উৎসাহ আর উদ্দীপনা নিয়ে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে এভাবেই একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে অম্লান।
Related Articles
নারী দেহঃ শিল্পে-সাহিত্যে
কিছুদিন আগে নতুন এক লেখকের বই পড়লাম। ঘটনা-কাহিনী প্রবাহ ভাল, কিন্তু আমার সবচে’ ভাল লেগেছে যে বিষয়টা যেটি হলো নারী
No warmth in US-Bangladesh Relations: Why?
One of the important allies of Bangladesh has been the US. The posting as Ambassador to Washington from Bangladesh is
ধলেশ্বরী-১
ফিলের কথা খুব মনে পরে। হাসপাতালে আমার পাশের বেড টাতে ও ছিলো। বয়শ প্রায় নব্বযের কোঠায। রাতের বেলা ঠিক বুঝতে


