Toggle Menu

অন্য রকম ভালবাসা

অন্য রকম ভালবাসা

প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

দ্বিতীয় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

না কোন উপায় নেই। বিয়ে তাকে করতেই হবে । নিজের সাথে বুঝা পড়া করে একদিন বলে দিল মাকে তোমার যাকে পছন্দ বৌ করে আনতে পারো। আমি দেখব না । একসাথেই দেখব। কৃষাণুর দ্বারাই এইগুলি সম্ভব । ও একটু সৃষ্টি ছাড়া । সবাইর মত না। ও ওর নিজের মত। কিন্তু নিজের মত একটা মানুষ বেশী দিন থাকতে পারে না । কথায় আছে ভাগ্যের লিখন না যায় খণ্ডন। জন্মের সময় নাকি বিধাতা মানুষের ভাগ্য ঠিক করে দেন। যদিও কৃষাণু এইসব বিশ্বাস করে না । কিছু সময় আছে মানুষের জিবনে, অবিশ্বাস্য কথাগুলি চোখ বুজে বিশ্বাস করা ছাড়া আর কোন গতি থাকে না। কোন কোন সময় মানুষ ভাগ্যের হাতের ক্রিয়ানক হয়ে যায়। অসাধ্য কাজ গুলিও মানুষই করে আবার সাধ্যের ভিতরের কাজগুলিও মানুষ একসময় করতে পারে না । মানুষের সীমাবদ্ধতাকে তখনি ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিতে হয় । কৃষাণু ও তার সমস্ত চিন্তা, চেতনা, আকাঙ্খা গুলিকে একদিন একটি স্বপ্নের বাক্সে ভরে চিরদিনের মত তালা দিয়ে চাবি টা গভীর সমুদ্রে ফেলে দিয়ে আসলো। কখনই আর স্বপ্নের বাক্স টা কৃষাণুর খুলা হবে না। চির দিনের মত জিবনের মোড় টা ঘুরে যাবে অলক্ষ্যের কারো অঙ্গুলি হেলনে। কিছু স্বপ্ন এ ভাবেই মরে যায়। কিছু ফুল অকালেই ঝড়ে যায়।

দেখতে দেখতে শুভক্ষণ টি হাজির । বাসর রাত। চাঁদের মত ফুটফুটে একটা বৌ। ফুলের মত নিস্পাপ। একটি মেয়ের সারাজিবনের স্বপ্ন ,কল্পনা আখাঙ্কা, ভালবাসা থাকে এই রাত টিকে ঘিরে। একটি মেয়ে অনেক টা নির্ঘুম রাত কাটিয়ে দেয় স্বপ্নের মানুষটির কথা ভেবে । সেই মাহেন্দ্রক্ষণের রাত টির কথা ভেবে ভেবে লাজে রাঙ্গা হয়ে। সেই প্রতীক্ষিত বাসরাতে যদি তার স্বপ্নের

………….

মানুষ টি বলে উঠে , আমি তোমাকে এখন ভালবাসি না এর জন্য কষ্ট পেও না। আমি ভণ্ডামি করতে পারি না। সত্যি কথা বলি। আমার দায়িত্ব কর্তব্যের কোন ত্রুটি হবে না। তোমাকে আমি কোনদিন অসন্মান বা অবহেলা করব না।তবে হ্যাঁ, যেদিন আমি তোমার উপর রাগ করব ভাব্বে সে দিন থেকেই আমি তোমাকে ভালবাসতে শুরু করেছি। এই কথা শুনার পড় কৃষাণুর বৌ বাসর রাতেই মূর্ছা গেল। পদ্ম গভীর রাতে চোখ মেলে দেখে কৃষাণু বসে আছে। আবার পদ্ম ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেল। পদ্ম খুবই বুদ্ধিমতি মেয়ে। সে কোন কিছুর ব্যাখ্যা চাইল না। নিজের মত করে কিছু বুঝে নিল। সেই থেকে পদ্মর একটি স্বপ্ন ,কৃষাণু কবে তার উপর রাগ করবে ? রাতের পড় রাত কেঁদেছে কৃষাণু কেন রাগ করে না । কৃষাণু তো মানুষ, পণ করে তো হ্রদয়ের দরজা বন্ধ করা যাবে না। মনের অজান্তে কৃষাণু পদ্মের মায়ায় জড়াতে লাগলো। পদ্ম এতো একটা ভালো মেয়ে যে কৃষাণু ছয় মাসের ভিতর কোনভাবেই মেয়েটার উপর কৃত্তিম রাগ করতে পারল না। দীর্ঘ ছয় মাসের মাথায় পদ্মের আকাশের মেঘগুলি হটাৎ এক ঝটকায় সরে গেল।অনেক দিন পর এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেল পদ্মের পৃথিবীতে । পদ্ম আজ অনেক খুশী । আনন্দের বন্যায় ভাসছে । আধ ফোঁটা পদ্ম আজ বিকশিত হবে।

কৃষাণু হটাৎ করে তার চণ্ডাল রাগ টা ফিরে পেল । কিছু না করার আগেই ছোট একটা ঘটনায় প্রচণ্ড রেগে গেল তার লক্ষ্মী বউটার উপর। রেগে বাসা থেকে বের হয়ে ফোনের সুইচড ও অফ করে রাখল । কৃষাণু গভীর রাতে ফিরে এলো । এসে দেখে বৌ তার সব প্রিয় খাবার রান্না করে সেজেগুজে বসে আছে বাসর রাতের মত করে। আজ পদ্মর জিবনে সেই প্রতিক্ষিত দিন যে দিন টার জন্য সে দীর্ঘ ছয় মাস অপেক্ষা করেছে। কৃষাণু কিছু না বলে খেতে বসল । পদ্ম কেও কাছে টেনে নিয়ে নিজের পাশে বসিয়ে খাইয়ে দিল । পদ্মর চোখে বাঁধ ভাঙ্গা জল । এ জল কে কিছুতেই রুখতে চায় না কৃষাণুর বৌ ।

কৃষাণুর এই ভালবাসা তিল তিল করে গড়ে উঠেছে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে এই মায়াবী বউটাকে ঘিরে । যে ভালবাসার জালে সে হুট করে জড়ায় নি । খু-উ-ব সচেতন ভাবে অল্প অল্প করে খুব কাছ থেকে প্রতিদিন একটু একটু করে গ্রহন করেছে । এই ভালবাসা কোন দায়বদ্ধতার নয়। সত্যিকারের হৃদয়টাকে একটু একটু করে উৎসর্গ করা। কৃষাণু বুঝতেই পারেনি কখন এই শান্ত এই লক্ষ্মী মেয়েটি তার সারামন জুড়ে বসে আছে ।এই মিষ্টি মেয়েটি কখন নিরবে তার সমস্ত ভালবাসা দিয়ে অসম্ভব কে জয় করেছে । পাগলাটে কৃষাণু মুচকি হেসে বলে , কি প্রতিদিন রাগ করব নাকি ? পদ্ম ডাগর ডাগর চোখ মেলে বলল আজকের পড় থেকে তুমি কখনই দ্বিতীয় কোন মেয়ের উপর রাগ করবে না। এক কথার মানুষ কৃষাণু সেই দিনের পড় থেকে সে আর কারো উপর ভিতর থেকে রাগ করতে পারে না । তার সব রাগ এক জায়গায় আটকে আছে। কৃষাণু চিরকালের জন্য বউর ভালবাসার কাছে ঋণী হয়ে গেল।

কৃষাণুর অস্থির মন বহুদিন পর শান্তির ঠিকানা খুঁজে পেল । কৃষাণু চিরকালের জন্য নির্ভার হলো।


Place your ads here!

No comments

Write a comment
No Comments Yet! You can be first to comment this post!

Write a Comment