by Priyo Australia | July 12, 2015 2:04 am
অসাধারণ কিছু আবেদন পেয়েছি আমরা স্বপ্নচারী শিক্ষাবৃত্তির জন্য। বাছাইকৃত কিছু আবেদন নাম পরিচয় প্রকাশ না করে শেয়ার করছি আমরা।
আবেদনকারীর জীবনে এমন কোন অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা আছে যা অন্য ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ যোগাবে? থাকলে তার বিস্তারিত বিবরণ:
আমি মনে করি আমার পুরো জীবনটাই চ্যালেঞ্জিং এবং অনুপ্রেরণামূলক।যেখানে আমি পদে পদে নানা ধরনের সমস্যা্র সম্মুখীন হই এবং সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে তা অতিক্রম করে আজ এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। প্রথমে আমি যখন ৮ম শ্রেণীতে পড়ি তখন আমার বাড়ির পাশের একজন আমার জন্য একটা বিয়ে নিয়ে আসে।ছেলেটা ছিলো রিক্সাচালক। আমি রিক্সাচালক বলে তাঁকে কোনভাবেই ছোট করছিনা কিন্তু মানুষের মানসিকতা ছিল এমন যে আমি রিক্সাচালকের মেয়ে বলে এর চেয়ে ভাল বিয়ে আমার সম্ভব না। আমার বাবা-মা সেই কথা শুনে অনেক কেঁদেছিলো যা এখনও আমার চোখের সামনে ভাসে।আবার আমি যখন ৯ম শ্রেণীতে উঠি আমার বাবা গরিব বলে বিজ্ঞান বিভাগে আমি পড়তে পারবোনা বলে একজন বুদ্ধি দেয়।যেখানে আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নটাও গেলো।এরপর আমি মানবিক বিভাগ থেকে ২০১০ সালে জিপিএ ৫.০০ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়।এবার নতুন আরেকটি সমালোচনা শুরু হলো রিক্সাচালকের মেয়ে এতো পড়াশোনা করে কি হবে।এবং এবার আরেকজন আরেকটি বিয়ে নিয়ে আসলো।এবারের ছেলেটা ছিলো কাঠমিস্ত্রি।কারন এবার আমি রিক্সাচালকের মেয়ে হলেও এস.এস.সি পাশ তাই।তখনও আমার বাবা-মা অনেক কেঁদেছিলো। এরপর স্যারদের সহায়তায় আমার গ্রামের একটা কলেজে ব্যাবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি হয়ে ২০১২ সালে জিপিএ ৫.০০ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়।স্যাররেদর পরামর্শেই আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেই এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ তে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাই। (আবেদনকারীর নাম পরিচয় প্রকাশ করছি না বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করলাম। এবার আমার এক প্রতিবেশী গ্রাম্য ডাক্তার চাচা আবার একজন রিক্সাচালকের সাথে আমার বিয়ে নিয়ে আসে। এরপর যখন সে শুনলো যে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি তখন সে বলল এমনিই বাবা রিক্সাচালক তরপরে মেয়েকে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেছে জীবনে কিছুই করতে পারবেনা।এই কথা শুনে এবার আমার বাবা-মার সাথে আমিও অনেক কেঁদেছিলাম এটা ভেবে যে আমার বাবা রিক্সাচালক বলে আমার কোন কিছুরই কি মূল্য নেই আমার মেধা, রেজাল্ট।যেখানে উনার ছেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বলে কত গর্ব উনার ছেলেকে নিয়ে।আর আমি একটা রিক্সাচালকের মেয়ে বলে আমার বাবার কোন মূল্যই নেই।কিন্তু এটা আমার জন্য গর্ব যে আমি একজন রিক্সাচালকের মেয়ে হয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়ছি এবং ভবিষ্যতে আল্লাহর রহমতে ও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো কিছু করবো।আর এইগুলো হচ্ছে আমার জীবনের ঘটনা যা অনবরত আমাকে কষ্টের পাশাপাশি সামনের দিকে আগানোর অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে।
আবেদনকারী কীভাবে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চান এবং দেশের জন্য কাজ করতে চান:
আমার জীবনের ঘটনাগুলো অনেক কষ্টের যা সবসময় আমার বাবা-মা এবং আমাকে কাঁদায়।আর তাই আমি আমার দুঃখী বাবা-মার কষ্ট দূর করে তাদের একটু সুখ দিতে চাই।আমার সমাজের যেই মানুষ গুলো আমাকে নিয়ে সমালোচনা করেছে বিপদের দিনে আমি তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।আমার পরিবার,সমাজ ও দেশের মানুষের পাশে সম্পদ হিসেবে থাকতে চাই বোঝা হিসেবে নয়।আমি দেখিয়ে দিতে চায় একটা রিক্সাচালকের মেয়ে হয়েও পরিবার,সমাজ ও দেশের জন্য অনেক কিছুই করতে পারে যা একটা বড়লোকের ছেলে হয়েও নাও করতে পারে।আপনি জেনে খুশি হবেন যে আমি আমাদের ১ম বর্ষ ১ম সেমিঃ এ ৫ম স্থান অধিকার করেছি। সর্বোপরি আমি এমন একজন মানুষ হতে চাই যাকে দেখে সমাজের আর সব মানুষ তাদের শত বাধাঁ সত্বেও সন্তানদের লেখাপড়া শিখায়।বিশেষ করে গরীব বাবা-মা তাদের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া শেখায়।সমাজে যারা আমার মতো অবস্থায় আছে আমি তাদের সহায়তা করতে চাই।আমি প্রমাণ করে দিতে চায় লেখাপড়া শুধু বড়লোকের ছেলে মেয়েদের জন্যই না।মেধার জোরে একজন রিক্সাচালকের মেয়েও অনেক দূরে যেতে পারে।মেধার মূল্য কখনো টাকার মূল্যে হয়না।জানিনা অল্লাহ তায়ালা আমার মনের আশা পূরণ করবে কিনা।জানিনা আমি আমার দুঃখী বাবা-মা,সমাজ ও জাতীর জন্য কিছু করতে পারবো কিনা।আমি সবাই কে নিয়ে একটু ভালো খাকতে চায়।আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন আমার লক্ষে পৌছাতে পারি।
আবেদনকারী কেন নিজেকে স্বপ্নচারী শিক্ষাবৃত্তির জন্য যোগ্য মনে করেনঃ
বাবা-মায়ের অনেক বড় স্বপ্ন তারা আমাকে লেখাপড়া শিখিয়ে সমাজে অনেক বড় মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।কিন্তু আমাদের পরিবারের যেই অবস্থা তাতে তাদের স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা জানিনা।আমি যখন বাড়িতে ছিলাম তখন অনেক টিউশনি করিয়ে বাবাকে অনেক সাহায্য করতাম।কিন্তু এখন তো আমি অনেক দূরেে এবং নতুন জায়গা বলে টিউশনি করাতে পারিনা।বাবা এবং আমি নিজের সাথে অনেক সংগ্রাম করে এই পর্যন্ত এসেছি।কিন্তু এখন আমার ও বাবার বর্তমান অবস্থা যা তাতে আমার পড়াশোনা প্রায় বন্ধের পথে।এছাড়া পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি আমার অন্যান্য বই পড়ার অভ্যাস আছে যা আমার কাছে প্রায় নেশার মতো।কিন্তু এখন আমি আমার পাঠ্য বই-ই কিনতে পারিনা তো অন্যান্য বই কিনবো কীভাবে?আর এই সকল কারনেই মূলত আমি নিজেকে স্বপ্নচারী শিক্ষাবৃত্তির জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করি।যেখান থেকে আমি আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি কিছু বই ও অভিভাবক হিসেবে কাউকে পেতে পারি।স্বপ্নচারী শিক্ষাবৃত্তির কথা শুনে আমার মনে আবার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার নতুন স্বপ্ন ও শক্তির সৃষ্টি হয়েছে।
Kind Regards
Tanjina Kader
Research Assistant, Heart Disease Research Group,
University of Otago, Dunedin, NZ
Primary Education Project Director, Shwopnochari Trust.
Source URL: https://priyoaustralia.com.au/priyo/bangali-around-the-world/2015/shwopnichari-education-scholarship-2015/
Copyright ©2025 PriyoAustralia.com.au unless otherwise noted.