An Article on Salamun Alaikum

by Priyo Australia | November 13, 2014 6:22 am

সালামুন আলাইকুম (Salamun Alaikum) سَلَامٌ عَلَيْكُمْ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

নিঃসন্দেহে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদের প্রভু তাদের পথ দেখিয়ে নেবেন তাদের বিশ্বাসের দ্বারা,- তাদের নিচে বয়ে চলবে ঝরনারাজি আনন্দময় বাগানে। সেখানে তাদের আহ্বান হবে-“তোমারই মহিমা হোক, হে আল্লাহ্‌?’’ আর তাদের অভিবাদন সেখানে হবে-“সালাম”(وَتَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلَامٌ – অতাহিয়্যাতুহুম ফিহা সালাম), আর তাদের শেষ আহ্বান হবে-“সকল প্রশংসা হচ্ছে আল্লাহ্‌র যিনি সমস্ত বিশ্বজগতের প্রভু’’।- সূরা ইউনুস (১০.৯-১০); তুলনীয়: সূরা ইব্রাহীম (১৪.২৩); সূরা আল ফুরকান (২৫.৭৫); সূরা আহযাব (৩৩.৪৪)।

সূরা নূরে (২৪:৬১) মহান রব্বুল আলামীন মূমিনদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছেন পরস্পরকে ‘সালাম’ দ্বারা কুশল বিনিময় করতে এবং একে বলা হয়েছে রব্বের পক্ষ থেকে ‘বরকতময় পবিত্র অভিবাদন’ বা “তাহিয়্যাতান মুবারকাতান তয়্যিবাতান”। শুধুমাত্র ‘সালাম’ বা ‘সালামুন’ হিসেবেও অনেকগুলো উদ্ধৃতি রয়েছে কুরআনে। জান্নাতে শান্তি, শুধুই নিরবচ্ছিন্ন শান্তির প্রতিশ্রুতি হিসেবে সূরা ওয়াকিয়াহতে (৫৬:২৬) “সালামান সালামা”-এর মত দ্বিত্ব ব্যবহারের উল্লেখও রয়েছে।

আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে পারস্পরিক অভিবাদনের (তাহিয়্যাতুন) পূর্ণাঙ্গ রীতি হিসেবে “সালামুন আলাইকুম”- এর উল্লেখ আছে কুরআনে মোট ছয় বার। প্রেক্ষাপট হিসেবে এখানে পৃথিবী, মৃত্যুকালীন সময়, কিয়ামতের ময়দান, জান্নাতে প্রবেশকালীন সময়, এবং জান্নাতে প্রবেশের পর- এই সকল অবস্থারই বিবরণ এসেছে।

১. আল্লাহ শেষ নবীকে (তাঁর প্রতি শান্তি) নির্দেশ দিচ্ছেন মূ’মিনদেরকে কীভাবে তিনি অভিবাদন জানাবেন। (প্রেক্ষাপট পৃথিবী)

২. যারা বাজে কথা/অসাড় কথাবার্তায় (লাগওয়া বা লাহওয়াল হাদীস) লিপ্ত থাকে তাদের থেকে নিজেদরেকে দূরে রাখতে আল্লাহর মূ’মিন বান্দাগণ একই পন্থায় সালাম জানিয়ে বিদায় নেয়। (প্রেক্ষাপট পৃথিবী)

৩. যখন কোন নেককার বান্দার মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন ফেরেশতারা তাকে একই কায়দায় সালাম প্রদান করে। (প্রেক্ষাপট মৃত্যুকালীন সময়)

৪. ক্বিয়ামতের ময়দানে আ’রাফবাসীরা (যারা জান্নাতে যাওয়ার আশা রাখে) জান্নাতীদেরকে লক্ষ্য করে সালাম বিনিময় করবে। (প্রেক্ষাপট ক্বিয়ামত)

৫. জান্নাতের প্রবেশ দ্বারে জান্নাতের দ্বার রক্ষীরা আল্লাহর ক্ষমাপ্রাপ্ত বান্দাদের অভিনন্দিত করবেন সালাম দিয়ে। (প্রেক্ষাপট জান্নাতের প্রবেশদ্বার)

৬. ফেরেশতারা জান্নাতের প্রত্যেক দরজা দিয়ে প্রবেশ করে জান্নাতবাসীদের একই ভাবে অভিবাদন জানাবে। (প্রেক্ষাপট জান্নাতের অভ্যন্তর)

[‘আলাইকা’ একবচন, ‘আলাইকুম’ বহুবচন নির্দেশক। যেহেতু প্রতিটি মানুষের সাথে তত্ত্বাবধানকারী একাধিক মালাকুন (ফেরেশতা) থাকেন, তাই তাঁদেরকেও সালামে শামিল করার জন্য “সালামুন আলাইকুম” বলা অধিকতর যুক্তিযুক্ত ও সমীচীন।]

১. সূরা আন’আম (৬:৫৪-৫৫)

وَإِذَا جَاءَكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِآَيَاتِنَا فَقُلْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ أَنَّهُ مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ سُوءًا بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَصْلَحَ فَأَنَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ () وَكَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآَيَاتِ وَلِتَسْتَبِينَ سَبِيلُ الْمُجْرِمِينَ

“আর যারা আমাদের আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে, তারা যখন তোমার (শেষনবীকে উদ্দ্যেশ্য করে) কাছে আসে তখন তুমি বলঃ সালামুন আলাইকুম। তোমাদের পালনকর্তা রহমত করা নিজ দায়িত্বে লিখে নিয়েছেন যে, তোমাদের মধ্যে যে কেউ অজ্ঞতাবশতঃ কোন মন্দ কাজ করে, এরপরে তওবা করে নেয় এবং পরিশুদ্ধ হয়ে যায়, তবে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, করুণাময়। আর এমনিভাবে আমরা নিদর্শনসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি-যাতে অপরাধীদের পন্থা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়ে উঠে।“

২. সূরা ক্বাসাস (২৮:৫২-৫৫)

الَّذِينَ آَتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِهِ هُمْ بِهِ يُؤْمِنُونَ () وَإِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ قَالُوا آَمَنَّا بِهِ إِنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّنَا إِنَّا كُنَّا مِنْ قَبْلِهِ مُسْلِمِينَ () أُولَئِكَ يُؤْتَوْنَ أَجْرَهُمْ مَرَّتَيْنِ بِمَا صَبَرُوا وَيَدْرَءُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ () وَإِذَا سَمِعُوا اللَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ وَقَالُوا لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ لَا نَبْتَغِي الْجَاهِلِينَ

“কুরআনের পূর্বে আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা এতে বিশ্বাস করে। যখন তাদের কাছে এটা পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। এটা আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সত্য। আমরা এর পূর্বেও মুসলমান ছিলাম (ইন্না কুন্না মিন ক্ববলিহি মুসলিমিন)। তারা দুইবার পুরস্কৃত হবে তাদের সবরের কারণে। তারা মন্দের জওয়াবে ভাল করে এবং আমি তাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে। তারা (আল্লাহর আয়াতে বিশ্বাসী মু’মিন বান্দাগণ) যখন অবাঞ্চিত কথাবার্তা শ্রবণ করে, তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, আমাদের কাজের ফল আমাদের জন্য এবং তোমাদের কাজের ফল তোমাদের জন্য। সালামুন আলাইকুম। আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়িত হতে চাই না।“ এই যে শিক্ষা আল্লাহ তা’আলা সর্বশেষ গ্রন্থ কুরআনের মাধ্যমে আমাদেরকে দিচ্ছেন, সেই একই চর্চা হযরত ইব্রাহীম আঃ হাজার হাজার বছর আগে অনুশীলন করে গেছেন নিজ অবিশ্বাসী পিতার সাথে (তুলনীয়.-১৯:৪৬-৪৭, ২৫:৬৩, ৪৩:৮৯)।

৩. সূরা নাহল (১৬:৩১-৩২)

جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ لَهُمْ فِيهَا مَا يَشَاءُونَ كَذَلِكَ يَجْزِي اللَّهُ الْمُتَّقِينَ () الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ طَيِّبِينَ يَقُولُونَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ

“সর্বদা বসবাসের উদ্যান, তারা যাতে প্রবেশ করবে। এর পাদদেশে দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হয় তাদের জন্যে তাতে তা-ই রয়েছে, যা তারা চায়; এমনিভাবে প্রতিদান দেবেন আল্লাহর পরহেযগারদেরকে, ফেরেশতাগণ যাদের মৃত্যু ঘটায় তাদের পবিত্র থাকা অবস্থায়। তারা বলেঃ সালামুন আলাইকুম (তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক)। তোমরা যা করতে, তার প্রতিদানে জান্নাতে প্রবেশ কর।“

৪. সূরা আ’রাফ (৭.৪০-৪৭; ৫ম রুকু)

إِنَّ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآَيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُجْرِمِينَ () لَهُمْ مِنْ جَهَنَّمَ مِهَادٌ وَمِنْ فَوْقِهِمْ غَوَاشٍ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ () وَالَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ () وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٍّ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ لَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ () وَنَادَى أَصْحَابُ الْجَنَّةِ أَصْحَابَ النَّارِ أَنْ قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا فَهَلْ وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا قَالُوا نَعَمْ فَأَذَّنَ مُؤَذِّنٌ بَيْنَهُمْ أَنْ لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ () الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا وَهُمْ بِالْآَخِرَةِ كَافِرُونَ () وَبَيْنَهُمَا حِجَابٌ وَعَلَى الْأَعْرَافِ رِجَالٌ يَعْرِفُونَ كُلًّا بِسِيمَاهُمْ وَنَادَوْا أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَنْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ لَمْ يَدْخُلُوهَا وَهُمْ يَطْمَعُونَ () وَإِذَا صُرِفَتْ أَبْصَارُهُمْ تِلْقَاءَ أَصْحَابِ النَّارِ قَالُوا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ

“নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং এগুলো থেকে অহংকার করেছে, তাদের জন্যে আকাশের দ্বার উম্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না যে পর্যন্ত না সূচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে। আমি এমনিভাবে পাপীদেরকে শাস্তি প্রদান করি। তাদের জন্যে নরকাগ্নির শয্যা রয়েছে এবং উপর থেকে চাদর। আমি এমনিভাবে জালেমদেরকে শাস্তি প্রদান করি। যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে আমি কাউকে তার সামর্থ্যের চাইতে বেশী বোঝা দেই না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা তাতেই চিরকাল থাকবে। তাদের অন্তরে যা কিছু দুঃখ ছিল, আমি তা বের করে দেব। তাদের তলদেশ দিয়ে নির্ঝরণী প্রবাহিত হবে। তারা বলবেঃ আল্লাহ শোকর, যিনি আমাদেরকে এ পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। আমরা কখনও পথ পেতাম না, যদি আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন না করতেন। আমাদের প্রতিপালকের রসূলগণ আমাদের কাছে সত্যকথা নিয়ে এসেছিলেন। আওয়াজ আসবেঃ এটি জান্নাত। তোমরা এর উত্তরাধিকারী হলে তোমাদের কর্মের প্রতিদানে। জান্নাতীরা দোযখীদেরকে ডেকে বলবেঃ আমাদের সাথে আমাদের রব্ব যে ওয়াদা করেছিলেন, তা আমরা সত্য পেয়েছি? অতএব, তোমরাও কি তোমাদের প্রতিপালকের ওয়াদা সত্য পেয়েছ? তারা বলবেঃ হ্যাঁ। অতঃপর একজন ঘোষক উভয়ের মাঝখানে ঘোষণা করবেঃ আল্লাহর অভিসম্পাত জালেমদের উপর। যারা আল্লাহর পথে বাধা দিত এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করত। তারা পরকালের বিষয়েও অবিশ্বাসী ছিল। উভয়ের মাঝখানে একটি প্রাচীর থাকবে এবং আরাফের উপরে অনেক লোক থাকবে যারা প্রত্যেককে তার চিহ্ন দ্বারা চিনে নেবে। তারা জান্নাতবাসীদেরকে ডেকে বলবেঃ সালামুন আলাইকুম। তারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করেনি, কিন্তু প্রবেশ করার ব্যাপারে আগ্রহী। যখন তাদের দৃষ্টি দোযখীদের উপর পড়বে, তখন বলবেঃ আমাদের রব্ব, আমাদেরকে এ জালেমদের সাথী করো না।“

৫. সূরা যুমার (৩৯:৭৩-৭৪)

وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ () وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَنَا وَعْدَهُ وَأَوْرَثَنَا الْأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَاءُ فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ

“যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা জান্নাতের নিকট উপস্থিত হবে এবং এর দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবেঃ সালামুন আলাইকুম (তোমাদের প্রতি সালাম), তোমরা সুখী হও, অতঃপর সদাসর্বদা বসবাসের জন্যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে এ ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন। আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা বসবাস করব। মেহনতকারীদের পুরস্কার কতই চমৎকার।“

৬. সূরা রা’দ (১৩:২৩-২৪)

جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آَبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِنْ كُلِّ بَابٍ () سَلَامٌ عَلَيْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ

“স্হায়ী জান্নাত, তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের সৎকর্মশীল বাপ-দাদা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানেরা। ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে। বলবেঃ সালামুন আলাইকুম (তোমাদের প্রতি শান্তি) তোমাদের সবরের কারণে। কতইনা উত্তম এ চূড়ান্ত-আশ্রয়।“

অভিবাদন হিসেবে ‘সালাম’-এর অন্যান্য উদ্বৃতিসমুহঃ

আস্-সালাম-৪:৯৪ (অনির্দিষ্ট ব্যক্তির সন্ধি প্রস্তাব হিসেবে উল্লেখ)

সালাম-১০:১০ (জান্নাতবাসীদের পারস্পরিক অভিবাদন; তুলনীয়-১৪:২৩, ৩৩:৪৪)

সালামিম্ মিন্না-১১:৪৮ (নুহের প্রতি)

সালামা, সালাম-১১:৬৯ (তুলনীয়-৫১:২৫; প্রতিউত্তরসহ)

সালাম-১৪:২৩ (তুলনীয়-১০:১০, ৩৩:৪৪)

সালাম-১৫:৪৬; সালামা-১৫:৫২

সালামুন আলাইহি-১৯:১৫

আস্-সালামু আলাইয়া-১৯:৩৩(হযরত ঈসা আঃ নিজের প্রতি)

সালামুন আলাইকা-১৯:৪৭

সালামা-১৯:৬২

সালামান ‘আলা ইব্রাহীম-২১:৬৯

সালামা-২৫:৬৩ (তুলনীয়-২৮:৫৫, ৪৩:৮৯)

সালামা-২৫:৭৫

সালামুন ‘আলা ইবাদিহ্-২৭:৫৯

সালাম-৩৩:৪৪ (তুলনীয়-১০:১০, ১৪:২৩)

সালাম-৩৬:৫৮ (দয়ালু আল্লাহর পক্ষ হতে)

সালামুন ‘আলা নুহ-৩৭:৭৯ (নবীর প্রতি আল্লাহর সালাম)

সালামুন ‘আলা ইব্রাহীম-৩৭:১০৯ (নবীর প্রতি আল্লাহর সালাম)

সালামুন ‘আলা মূসা ওয়া হারুন-৩৭:১২০ (নবী ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রতি আল্লাহর সালাম)

সালামুন ‘আলা ইলয়াসীন-৩৭:১৩০ (নবীর প্রতি আল্লাহর সালাম)

সালামুন ‘আলাল মুরসালীন-৩৭:১৮১ (সকল নবীগণের প্রতি আল্লাহর সালাম)

সালাম-৪৩:৮৯ (তুলনীয়-২৫:৬৩, ২৮:৫৫)

সালাম-৫০:৩৪

সালামা, সালাম-৫১:২৫ (তুলনীয়-১১:৬৯; প্রতিউত্তরসহ)

সালামান সালামা-৫৬:২৬ (জান্নাতে শান্তি, শুধুই নিরবচ্ছিন্ন শান্তির প্রতিশ্রুতি)

সালাম আল্লাকা-৫৬:৯১ (ডানপন্থীর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম)

সালাম-৯৭:৫

পরস্পরকে সালাম প্রদানের জন্য প্রচলিত ‘আস্-সালামু আলাইকুম’ আর প্রতিউত্তরে ‘ওয়াআলাইকুমুস্ সালাম’ কুরআনে কোথাও নেই। এখানে একটি অতিরিক্ত আর্টিকেল ‘আল’ যোগ করা হয়েছে- আপাত ভাবে দোষনীয় কিছু মনে হয় না। কিন্তু আমরা কি এর ভয়াবহ পরিণতি লক্ষ করি না? যা আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত ও নির্বাচিত তাকে আমরা এমনভাবে নির্বাসিত করেছি যে, তা আমাদের কাছে একেবারই অচেনা, অজানা। আমরা আমাদের পছন্দকে আল্লাহর ইচ্ছার উপর হাজার হাজার বছর ধরে চাপিয়ে রেখেছি। এটা ভয়াবহতম জুলুম। কেন আমরা সেইভাবেই বলিনা যেভাবে আল্লাহ আমাদেরকে শিখিয়েছেন এবং ইহকালে পরকালে তার অনেকগুলো দৃষ্টান্ত টেনেছেন। যখন আল্লাহ তাঁর রাসূলকে (তাঁর উপর শান্তি) কুরআনের আয়াতের মাাধ্যমে নির্দেশ দিচ্ছেন মূ’মিনদেরকে ‘সালামুন আলাইকুম’ বলে অভিবাদন জানাতে, তখন সেই রাসূল তাকে ঘুরিয়ে নিজের মত করে দিবেন তা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। বরং আমরা তাঁর নামে বহু মিথ্যা চালু করেছি- তার ভুরি ভুরি প্রমান বিদ্যমান। কুরআনের সাথে মেলাতে গেলে দেখা যাবে, শয়তান ও তার দোসররা মুসলিম সমাজের বহু আচার-অনুষ্ঠানকে উল্টিয়ে দিয়েছে।

وَإِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا

“আর যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয়, তাহলে তোমরা তারচেয়ে উত্তম অভিবাদন করবে অথবা তাই ফিরিয়ে দিবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী”-সূরা নিসা (৪.৮৬)। যেমন, হযরত ইব্রাহীমের (তাঁর উপর শান্তি) কাছে যখন ফেরেশতাকূল আগমন করেন তখন তাঁদের ‘সালাম’-এর জবাবে তিনিও তাদের ‘সালাম’ বলেই প্রতি জবাব দেন (সূরা হুদ: ১১.৬৯ এবং সূরা যারিয়াত: ৫১.২৫)। অতএব ‘সালামুন আলাইকুম’-এর জবাব ‘সালামুন আলাইকুম’; অতিরিক্ত হিসেবে এর সাথে ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ওয়া বারাকাতুহ ইত্যাদি যোগ করা যেতে পারে। মহাপরাক্রান্ত আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ।

আল্লাহ তা’য়ালার এই সুন্নতের বাইরে মুনাফিকশ্রেণী তাঁর শেষ নবীকে ভিন্নতর পন্থায় অভিবাদন জানাত যা আল্লাহর অপছন্দনীয় ছিল। “তারা যখন তোমার কাছে আসে, তখন তোমাকে এমন ভাষায় সালাম করে, যদ্দ্বারা আল্লাহ তোমাকে সালাম করেননি (وَإِذَا جَاءُوكَ حَيَّوْكَ بِمَا لَمْ يُحَيِّكَ بِهِ اللَّهُ)-সূরা মুজাদালাহ (৫৮.৮)।

অনেকেই হৈচৈ শুরু করে দিতে পারে এই বলে যে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষ, ওলামায়ে কেরাম, আকাবেরে দ্বীনদেরকে এই তরীকার উপরই পেয়েছি- তাই এই পন্থাই আমরা অনুসরণ করব। এ জাতীয় যুক্তি সব যুগেই আল্লাহর কালাম প্রত্যাখ্যান কারীরা দিয়ে এসেছে। তাদের জবাবও তাই আল্লাহ দিয়ে রেখেছেন কুরআনে।

সূরা বাক্বারায় (২:১৭০) বলা হয়েছে: “আর যখন তাদেরকে কেউ বলে যে, সে হুকুমেরই আনুগত্য কর যা আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে কখনো না, আমরা তো সে বিষয়েরই অনুসরণ করব, যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে দেখেছি। যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছুই জানতো না, জানতো না সরল পথও।” –( وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آَبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آَبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ); তুলনীয়. সূরা মায়িদাহ (৫:১০৪)।

সূরা যুখরুফে (৪৩:২২-২৪) তাদের উদ্দেশ্যেই জবাব দিয়েছেনঃ “বরং তারা বলে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক পথের পথিক এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে পথপ্রাপ্ত। এমনিভাবে তোমার পূর্বে আমি যখন কোন জনপদে কোন সতর্ককারী প্রেরণ করেছি, তখনই তাদের বিত্তশালীরা বলেছে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক পথের পথিক এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে চলছি। সে বলত, তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে বিষয়ের উপর পেয়েছ, আমি যদি তদপেক্ষা উত্তম বিষয় নিয়ে তোমাদের কাছে এসে থাকি, তবুও কি তোমরা তাই বলবে? তারা বলত তোমরা যে বিষয়সহ প্রেরিত হয়েছ, তা আমরা মানব না (بَلْ قَالُوا إِنَّا وَجَدْنَا آَبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آَثَارِهِمْ مُهْتَدُونَ () وَكَذَلِكَ مَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِي قَرْيَةٍ مِنْ نَذِيرٍ إِلَّا قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا وَجَدْنَا آَبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آَثَارِهِمْ مُقْتَدُونَ () قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكُمْ بِأَهْدَى مِمَّا وَجَدْتُمْ عَلَيْهِ آَبَاءَكُمْ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُمْ بِهِ كَافِرُونَ)।“ তুলনীয়. সূরা লুকমান (৩১:২১-২২)।

সুতরাং যে মু’মিন দাবীদার তার জন্য আল্লাহর নির্দেশনার বাইরে যাবার কোন পথই খোলা নেই। আর আল্লাহর রঙ-এর চেয়ে উত্তম রঙ আর কার হতে পারে? মু’মিন সেই রঙ-এই নিজেকে রঞ্জিত করবে (صِبْغَةَ اللَّهِ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ صِبْغَةً وَنَحْنُ لَهُ عَابِدُونَ)- সূরা বাক্বারাহ্ (২:১৩৮)।

আল্লাহ তা’য়ালা প্রদত্ত এই সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা যে প্রত্যাখ্যান করবে তার উদ্দেশ্যে আল্লাহ বিদ্রুপ করে বলেন-“এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথরূপে। অতএব, আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা কোন হাদিসে বিশ্বাস স্থাপন করবে। প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর দুর্ভোগ। সে আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে, অতঃপর অহংকারী হয়ে জেদ ধরে, যেন সে আয়াত শুনেইনি। অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।“-সূরা জাছিয়া (৪৫:৬-৮)।

Source URL: https://priyoaustralia.com.au/articles/islam/2014/an-article-on-salamun-alaikum/