by Ajoy Kar | December 27, 2010 11:03 pm
‘হিউম্যান রাইটস’- এর নিশ্চয়তাই অস্ট্রেলিয়াতে স্ট্রিট ক্রাইম বন্ধ করতে পারে
অস্ট্রেলিয়াতে ২০০৮-২০০৯ সালে ৫২৭,০০০ জন লোক (মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩ ভাগ) বিভিণ্ণ রকম শারিরীক আক্রমনের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৮২,০০০ জ়নের জণ্ম অস্ট্রেলিয়ার বাইরে। এই বিদেশে জ়ন্মাণো ভিক্টিমদের প্রায় ৪২,০০০ হচ্ছে নন ইংলিশ ব্যকগ্রাউন্ড থেকে আসা(১)।
রাস্তায় শারিরীক আক্রমনের খবর, বিশেষ করে গত বছর অস্ট্রেলিয়াতে ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রদের উপর হামলার ঘটোনার খবর বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের আয় বাড়ালেও, ক্ষুন্ন করেছে ‘নিরাপদ দেশ’ হিসাবে অস্ট্রেলিয়ার সুনামকে। ক্রাইম কমিয়ে সেই সুনাম পুনরুদ্ধারের চেস্টায় সকার যখন ক্রিমানালদের জন্য কড়াকড়ি স্বাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ‘কারেক্শন্যাল সার্ভিস’ সেন্টারের বাজেট বাড়িয়ে যাচ্ছে তখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন দুস্কৃতিকারীদের হাজতে পুরে ক্রাইম দমন স্বম্ভব নয়। যেমন, নিউ সাওউথ ওয়েলসের মোট হাজতবাসীদের ৬৭ ভাগেরই পূর্বের কোণো না কোণো রকম হাজত বাসের অভিজ্ঞতা রযেছে। [২০০৮-২০০৯ সালে ‘কারেক্শন্যাল সার্ভিস’ বাবদ সরকারের খরচ ২৭ বিলিয়ন যা কিনা বিগত বছরের তুলনায় ৫৪ ভাগ বেশী ]।
গত ৫ বছরে নিউ সাওউথ ওয়েলসে ‘কারেক্শন্যাল সার্ভিস’ বাবদ খরচ বেড়েছে ১১৫%, স্বাস্থ্য খাতে খরচ বেড়েছে ৯৪% আর শিক্ষা খাতে ফুল টাইম ছাত্রদের জ়ণ্যে সরকারি সাহায্য কমেছে ০৬৪% – হাসপাতাল আর শিক্ষা প্রতিষ্টানে যখন খরচ কমছে তখন ‘কারেক্শন্যাল সার্ভিস’ বাবদ খরচ বাড়ছে । উল্লেক্ষ যে, প্রতি প্রিসন বেড তৈরী করতে যে খরচ তাতে স্কুলে ৩০ ছাত্রের স্হান সঙ্কুলন স্বম্ভব।
একাডেমী অফ সোসাল সায়েন্স (২) এর রিপোর্টে প্রকাশ যে ক্রাইম দমন করতে হলে ক্রাইম কেন করা হচ্ছে সেই কারন গুলির সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে alcohol & drug abuse, violence, mental health –এর মতো বিষয় গুলিই হচ্ছে ক্রাইমের মুল কারন। তারা মনে করছেন সরকারের ‘কারেক্শন্যাল সার্ভিস’ সিস্টেম – ক্রাইম সমষ্যার সমাধানে অকার্যকর। তারা এও বলছেন যে অস্ট্রেলিয়ার basic human rights (housing, employment)- এর অনিশ্চয়তাই ক্রাইম বৃদ্ধির কারন। বিশেষজ্ঞরা তথ্য প্রমানসহ বলছেন যে ‘কারেক্শন্যাল সার্ভিস’ ক্রাইম না কমিয়ে বরং loss of employment, loss of housing এবং breakdown of families এর মতো জটিল সব সামাজিক সমষ্যার তৈরী করছে।
এক রিপোর্টে প্রকাশ যে ক্রাইমে সাজা প্রাপ্তদের প্রায় ৬৪ ভাগেরই কোণো স্থায়ী চাকরী নেই, ৪৪ ভাগ দীর্ঘ দিন যাবত বেকার আর ৬০ ভাগ কার্যত অশিক্ষিত। এই সাজা প্রাপ্তদের বিরাট একটা অংশ শিশু অবস্থায় স্টেট কেয়ারে ছিলো- যাদের অনেকেই এসেছে ডিস-এডভান্টেজড কমুনিটি থেকে।
অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন দেশের গবেষনা পত্রিকায় দেখান হয়েছে য়ে বেকারত্ব কমিয়ে, শিক্ষা প্রতিষ্টান বাড়িয়ে, স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করে এবং সাপ্তাহিক আয়ের বৃদ্ধি করে সমাজে ক্রাইম কমিয়ে আনা সম্ভব।
আমেরিকা আর ব্রিটেনের মত দেশগুলিতে বিচার ব্যবস্থার কৌশলগত পরিবর্তন আর তার পাশাপাশি দুস্কৃতিকারীদের রিহাবিলিটেশনের জন্যে বিভিন্য কাজকর্ম পরিচালনার মাধ্যমে সাজা প্রাপ্তদের মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। অথচ অস্ট্রেলিয়াতে সে জাতীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জোরালো কোনো আলোচনা এখোনো অলক্ষনীয়।
Reference:
(১) Graycar, A. (2010) Racism and the Tertiary Student Experience in Australia, the Academy of the Social Sciences in Australia, Canberra.
(২) Cunneen, C. (2010) Fear: Crime and Punishment. Dialogue 29. Academy of the Social Sciences in Australia, Canberra.
Published at priyoaustralia.com.au
Source URL: https://priyoaustralia.com.au/articles/2010/only-human-rights-guarantee-may-stop-crime-on-australia-streets/
Copyright ©2026 PriyoAustralia.com.au unless otherwise noted.